fbpx fbpx fbpx
দাওয়াতুল ইসলাম ২৪
রবিবার, ০৮, নভেম্বর, ২০২৬ , ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
কুরআন প্রজেক্টে হাদিয়া দিন

বকাঝকা ও শাস্তি নয়, ভালোবাসায় শাসন: শিশুকে বড় করার সঠিক পদ্ধতি

মুফতি আব্দুল্লাহ আল হাদী (এম.এ, ঢাবি), শিশুশিক্ষা ও প্যারেন্টিং গবেষক, চেয়ারম্যান ফিকরাহ

শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে শুধু খাবার, পোশাক, শিক্ষা ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ভালোবাসা, সহানুভূতি, ধৈর্য ও নৈতিক শিক্ষার পরিবেশ। শিশুকে ভুলের জন্য অপমান করা, ভয় দেখানো কিংবা শারীরিক শাস্তি দেওয়া তার মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আধুনিক শিশু মনোবিজ্ঞান এবং ইসলামের শিক্ষা দুটিই বলছে, শাসনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিশুকে ভয় দেখানো নয়, বরং ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।

একটি শিশু যখন পৃথিবীতে আসে, তখন তার হাতে কোনো অভিজ্ঞতা থাকে না। পরিবারই তার প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর মা-বাবা তার প্রথম শিক্ষক। কথা বলা, আচরণ করা, অন্যকে সম্মান করা, রাগ নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝা, সবকিছুর প্রাথমিক শিক্ষা সে পরিবার থেকেই পায়। তাই শিশুকে কীভাবে শাসন করা হচ্ছে, সেটি তার ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনেক অভিভাবক মনে করেন, বকাঝকা বা শাস্তি না দিলে সন্তান কথা শুনবে না। কেউ কেউ আবার নিজের শৈশবে পাওয়া শাসনকেই সন্তান প্রতিপালনের আদর্শ পদ্ধতি মনে করেন। কিন্তু শিশুর মনোজগৎ প্রাপ্তবয়স্কদের মতো নয়। যে আচরণকে বড়রা শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উপায় মনে করেন, শিশুর কাছে সেটিই হয়ে উঠতে পারে ভয়, অপমান ও নিরাপত্তাহীনতার কারণ।

শারীরিক শাস্তি ও ভয় দেখানোর ক্ষতিকর প্রভাব

শিশু কোনো ভুল করলে তাকে চড় মারা, কান মলা, ধমক দেওয়া, অন্যের সামনে অপমান করা কিংবা ভয় দেখিয়ে বাধ্য করার প্রবণতা অনেক পরিবারে দেখা যায়। অভিভাবকেরা মনে করেন, এতে শিশু দ্রুত ভুল থেকে শিক্ষা নেবে। বাস্তবে শাস্তির ভয়ে শিশু সাময়িকভাবে কোনো আচরণ বন্ধ করলেও এর মাধ্যমে তার মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ, দায়িত্ববোধ কিংবা নৈতিক উপলব্ধি তৈরি হয় না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, শারীরিক শাস্তি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। এটি আচরণগত সমস্যা, আগ্রাসী মনোভাব, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং শিক্ষাগত অগ্রগতিতে প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে সম্পর্কিত। শাস্তির কারণে শিশুর মধ্যে ভয় ও ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সে নিজের ভুল স্বীকার করার পরিবর্তে তা লুকাতে শেখে।

অন্যদিকে, নিয়মিত অপমান বা তুলনা শিশুর আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে। যেমন, ‘তুমি কিছুই পারো না’, ‘অমুকের মতো হতে পারো না কেন’, ‘তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না’—এ ধরনের কথা শিশুর মনে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে। শিশুরা অনেক সময় অভিভাবকের বলা কথাকেই নিজের পরিচয় হিসেবে বিশ্বাস করতে শুরু করে।

শিশুকে শাসন করার ক্ষেত্রে তাই আচরণ ও ব্যক্তিত্বকে আলাদা করে দেখতে হবে। সে ভুল করেছে মানেই সে খারাপ শিশু নয়। বরং ভুলটি কেন হয়েছে, কীভাবে সংশোধন করা যায় এবং ভবিষ্যতে একই ভুল এড়ানো সম্ভব, তা তাকে বুঝিয়ে বলা জরুরি।

শাসনের বদলে শেখানোর কৌশল

শিশু মনোবিজ্ঞানে ইতিবাচক অভিভাবকত্ব বলতে এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সঙ্গে শিশুকে নিয়মকানুন শেখানো হয়। এখানে শাসন থাকবে, কিন্তু তা হবে না অপমানজনক বা সহিংস। শিশুর বয়স, মানসিক পরিপক্বতা ও বোঝার ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে তাকে সঠিক আচরণ শেখানোই এ পদ্ধতির মূল লক্ষ্য।

ইউনিসেফের ইতিবাচক অভিভাবকত্ববিষয়ক নির্দেশনায় শিশুর সঙ্গে সময় কাটানো, তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া, স্পষ্ট নিয়ম তৈরি করা, ভালো আচরণের প্রশংসা করা এবং ভুল হলে শান্তভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে কার্যকর।

১. ভুল করলে কারণ বুঝিয়ে বলা: শিশু কোনো ভুল করলে শুধু ‘এটা করা যাবে না’ বললে অনেক সময় সে কারণ বুঝতে পারে না। বরং কেন কাজটি ভুল, এতে কার ক্ষতি হতে পারে এবং এর পরিবর্তে কী করা উচিত, তা সহজ ভাষায় বোঝাতে হবে।

২. ভালো কাজের প্রশংসা করা: শিশু ছোট কোনো ভালো কাজ করলেও তার প্রশংসা করা উচিত। যেমন, নিজের খেলনা গুছিয়ে রাখা, ছোট ভাইবোনকে সাহায্য করা কিংবা সত্য কথা বলার জন্য তাকে উৎসাহিত করা। এতে ভালো আচরণের প্রতি তার আগ্রহ বাড়ে।

৩. অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা না করা: প্রতিটি শিশুর শেখার গতি, আগ্রহ ও সক্ষমতা আলাদা। অন্যের সন্তানের সঙ্গে তুলনা না করে তার নিজের অগ্রগতিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

৪. নিয়মের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রাখা: ঘুম, পড়াশোনা, খেলাধুলা ও মোবাইল ব্যবহারের জন্য বয়সোপযোগী নিয়ম তৈরি করা প্রয়োজন। মা-বাবার দুজনেরই এসব নিয়ম মেনে চলা উচিত। একই অপরাধে কখনো কঠোর শাস্তি, আবার কখনো কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখালে শিশু বিভ্রান্ত হয়।

৫. শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা: শিশু রাগ করলে, কাঁদলে কিংবা কোনো বিষয়ে আপত্তি জানালে তাকে চুপ করিয়ে না দিয়ে তার অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করতে হবে। তার অনুভূতিকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে ভুল আচরণকে সমর্থন করা নয়। বরং রাগ প্রকাশের সঠিক উপায় শেখানো।

৬. ভুলের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিণতি বোঝানো: শিশু ইচ্ছাকৃতভাবে খেলনা ভাঙলে তাকে নতুন খেলনা না কিনে দেওয়ার হুমকি না দিয়ে নিজের কাজের ক্ষতি ও দায়িত্ব সম্পর্কে বোঝানো যেতে পারে। দেয়ালে আঁকলে তাকে দেয়াল পরিষ্কার করতে সাহায্য করতে বলা যায়। তবে এসব পরিণতি হতে হবে বয়সোপযোগী, ন্যায়সংগত ও অপমানমুক্ত।

শিশুর প্রতি ভালোবাসা ও কোমলতা ইসলামের শিক্ষা

শিশু প্রতিপালনের ক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম সন্তানকে শুধু পরিবারের সদস্য হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া আমানত ও দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে। তাই তার শারীরিক পরিচর্যার পাশাপাশি নৈতিক, মানসিক ও ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়াও মা-বাবার দায়িত্ব।

পবিত্র কোরআনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কোমল আচরণের প্রশংসা করে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছেন। আপনি যদি রূঢ় ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে সরে যেত।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১৫৯)।

এই আয়াতের মূল শিক্ষা হলো, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা ও তাদের সংশোধনের ক্ষেত্রে কোমলতা, ক্ষমা ও সহানুভূতির গুরুত্ব অপরিসীম। শিশুকে শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রেও এ নীতি অনুসরণ করা যেতে পারে। কঠোরতা দিয়ে সাময়িক আনুগত্য আদায় করা গেলেও ভালোবাসা ও সুন্দর আচরণের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী আস্থা তৈরি হয়।

সন্তান প্রতিপালনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় সুরা লুকমানে। সেখানে হজরত লুকমান (আ.) তাঁর সন্তানকে আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা, মা-বাবার প্রতি সদাচরণ, নামাজ প্রতিষ্ঠা, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজ থেকে নিষেধ এবং ধৈর্য ধারণের শিক্ষা দিয়েছেন (সুরা লুকমান, আয়াত ১৩-১৯)। লক্ষণীয় বিষয় হলো, সন্তানকে নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি তাকে যুক্তি, উপদেশ ও জীবনের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনেও শিশুদের প্রতি স্নেহ ও মমতার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। তিনি শিশুদের আদর করতেন, চুমু দিতেন এবং তাদের সঙ্গে কোমল আচরণ করতেন। সহিহ মুসলিমের ২৩১৭ নম্বর হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি শিশুদের চুমু দেওয়ার কথা শুনে বিস্ময় প্রকাশ করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ যদি তোমার হৃদয় থেকে দয়া তুলে নেন, তাহলে আমি কী করতে পারি? অন্য বর্ণনায় তিনি বলেছেন, ‘যে দয়া করে না, তার প্রতি দয়া করা হয় না।’ (সহিহ মুসলিম, ২৩১৮)।

এ থেকে বোঝা যায়, শিশুর প্রতি স্নেহ প্রকাশ কোনো দুর্বলতা নয়; বরং এটি উত্তম চরিত্রের পরিচয়। ইসলামে সন্তানকে সৎ, দায়িত্বশীল ও নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভয় বা অপমানের পরিবর্তে ভালোবাসা, আদর্শ আচরণ ও সুন্দর উপদেশকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

মা-বাবার আচরণই শিশুর প্রথম পাঠশালা

শিশুরা উপদেশের চেয়ে বড়দের আচরণ দেখে বেশি শেখে। মা-বাবা যদি সামান্য বিষয়ে রেগে যান, একে অপরকে অপমান করেন কিংবা ভুল করলে মিথ্যা বলেন, তাহলে শিশুর কাছ থেকে ভালো আচরণ প্রত্যাশা করা কঠিন। অন্যদিকে, অভিভাবক নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করলে, ভুল স্বীকার করলে এবং অন্যের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করলে শিশু সেসব অনুসরণ করতে শেখে।

শিশুর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করাও জরুরি। প্রতিদিন কিছুটা সময় তার সঙ্গে গল্প করা, খেলাধুলা করা, দিনের অভিজ্ঞতা শোনা কিংবা তার পছন্দের বিষয়ে কথা বলা উচিত। এতে শিশুর মনে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়। কোনো সমস্যা হলে সে ভয় না পেয়ে মা-বাবার কাছে আসতে পারে।

অভিভাবকদের নিজেদের মানসিক অবস্থার প্রতিও সচেতন থাকতে হবে। কর্মক্ষেত্রের চাপ, পারিবারিক সমস্যা কিংবা আর্থিক দুশ্চিন্তার কারণে অনেক সময় বড়রা শিশুদের ওপর রাগ প্রকাশ করেন। এমন পরিস্থিতিতে উত্তেজিত অবস্থায় শাসন না করে কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়া ভালো। পরে শান্ত হয়ে শিশুকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলা যায়।

শাসন মানে নিয়ন্ত্রণ নয়, দায়িত্বশীল করে তোলা

শিশুকে ভালোবাসার অর্থ তার সব আবদার পূরণ করা নয়। কোনো কিছু অন্যায় বা ক্ষতিকর হলে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলতে হবে। তবে সেই নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে যুক্তি ও ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। শিশুকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে দেওয়া, বয়স অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা এবং ভুল থেকে শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করাও অভিভাবকত্বের অংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতিবাচক শাসনের লক্ষ্য হলো শিশুর মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তৈরি করা। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসও শিশুদের শারীরিক শাস্তি, চিৎকার ও অপমানের পরিবর্তে কার্যকর ইতিবাচক শাসনপদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে।

এ ক্ষেত্রে পরিবারের সব সদস্যের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি কিংবা অন্য অভিভাবকদের শিশুর সামনে পরস্পরবিরোধী শাসনপদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত নয়। শিশুর ভুল সংশোধনের সময় তাকে ভালোবাসার আশ্বাস দিতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে, তার কোনো কাজ ভুল হতে পারে, কিন্তু সে পরিবারের কাছে ভালোবাসার মানুষ।

ভালোবাসার শাসনেই গড়ে উঠুক সুন্দর প্রজন্ম

একটি শিশুকে বড় করা শুধু তাকে পরীক্ষায় ভালো ফল করানো কিংবা জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার নাম নয়। তাকে সৎ, মানবিক, দায়িত্বশীল ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই প্রকৃত অভিভাবকত্বের সাফল্য। এ জন্য প্রয়োজন নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশ, মানসিক সমর্থন, নৈতিক শিক্ষা এবং ইতিবাচক শাসন।

শারীরিক শাস্তি হয়তো শিশুকে সাময়িকভাবে চুপ করিয়ে দিতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা তাকে নিজের ভুল বুঝতে এবং সংশোধন করতে শেখায়। ভয় শিশুকে বড়দের সামনে বাধ্য করতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা তাকে সঠিক কাজটি নিজের বিবেক থেকে করতে উৎসাহিত করে।

ইসলামও সন্তান প্রতিপালনে দয়া, কোমলতা, ধৈর্য ও উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দেয়। তাই আধুনিক শিশু মনোবিজ্ঞান এবং ইসলামের নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে অভিভাবকদের উচিত শাস্তিনির্ভর মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা।

মনে রাখতে হবে, শিশুরা শুধু আমাদের কথায় বড় হয় না, তারা আমাদের আচরণের মধ্য দিয়েই নিজেদের গড়ে তোলে। আজ যে শিশু পরিবারে ভালোবাসা, সম্মান ও সহমর্মিতা পাবে, আগামী দিনে সে-ই সমাজে মানবিক আচরণের চর্চা করবে। সন্তানকে ভয় দেখিয়ে নয়, ভালোবাসা দিয়ে শাসন করুন। কারণ একজন শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার প্রথম শর্ত হলো তার শৈশয়কে নিরাপদ, আনন্দময় ও ভালোবাসাপূর্ণ করে তোলা।

তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ (UNICEF), আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস (AAP), পবিত্র কোরআন এবং সহিহ মুসলিম।

মন্তব্য