শিশুর প্রতি পিতা-মাতার দায়িত্ব ও করণীয়
মুফতি আব্দুল্লাহ আল হাদী (এম.এ, ঢাবি), শিশুশিক্ষা ও প্যারেন্টিং গবেষক, চেয়ারম্যান ফিকরাহ
সন্তান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পিতা-মাতার জন্য এক বিশেষ নিয়ামত। একই সঙ্গে এটি একটি আমানত ও দায়িত্ব। একটি শিশুর জন্মের পর তার খাবার, পোশাক, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাই পিতা-মাতার দায়িত্বের শেষ কথা নয়। বরং শিশুকে সৎ, চরিত্রবান, নৈতিকতাসম্পন্ন, দায়িত্বশীল ও আল্লাহভীরু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাও তাঁদের অন্যতম প্রধান কর্তব্য।
ইসলামে শিশুর অধিকার ও প্রতিপালনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। পবিত্র কোরআন ও মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর হাদিসে সন্তান লালন-পালন, শিক্ষা, শাসন, ভালোবাসা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় অনুশীলন সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণে পিতা-মাতার আচরণ, আদর্শ ও পারিবারিক পরিবেশের ভূমিকা অপরিসীম।
সন্তান আল্লাহর আমানত
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা সন্তানকে পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সুরা আল-কাহফের ৪৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য।’
তবে সন্তান শুধু আনন্দ ও গর্বের বিষয় নয়, তার যথাযথ প্রতিপালনও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সুরা আত-তাহরিমের ৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা করো।’
এই আয়াতের শিক্ষা হলো, নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও সঠিক পথে পরিচালিত করার দায়িত্ব প্রত্যেক মুমিনের রয়েছে। সন্তানকে ভালো-মন্দের পার্থক্য শেখানো, নৈতিক মূল্যবোধ তৈরি করা এবং ধর্মীয় অনুশাসনের সঙ্গে পরিচিত করানো সেই দায়িত্বেরই অংশ।
জন্মের পর থেকেই শিশুর যত্ন ও অধিকার নিশ্চিত করা
ইসলাম শিশুর অধিকারকে জন্মের আগ থেকেই গুরুত্ব দিয়েছে। গর্ভবতী মায়ের যত্ন, নিরাপদ প্রসব, জন্মের পর শিশুর পরিচর্যা এবং তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র কোরআনের সুরা আল-বাকারার ২৩৩ নম্বর আয়াতে মায়েদের সন্তানকে পূর্ণ দুই বছর দুধ পান করানোর কথা বলা হয়েছে, যারা স্তন্যপানের মেয়াদ পূর্ণ করতে চান। একই আয়াতে সন্তানের পিতার ওপর মায়ের ভরণপোষণ ও পোশাকের দায়িত্বের কথাও উল্লেখ রয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, শিশুর পুষ্টি ও পরিচর্যা শুধু মায়ের একক দায়িত্ব নয়। সন্তানের লালন-পালনে পিতা-মাতা উভয়েরই ভূমিকা রয়েছে। শিশুর পর্যাপ্ত পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও স্নেহ নিশ্চিত করা ইসলামের পারিবারিক দায়িত্ববোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শিশুকে তাওহিদ ও আল্লাহর পরিচয় শেখানো
শিশুর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগুলোর একটি হলো আল্লাহর পরিচয় ও একত্ববাদ সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা। ছোটবেলা থেকেই তাকে শেখাতে হবে, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনিই সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা এবং সবকিছুর মালিক। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সুরা লুকমানের ১৩ নম্বর আয়াতে হযরত লুকমান (আ.) তাঁর সন্তানকে উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘হে আমার প্রিয় বৎস! আল্লাহর সঙ্গে শরিক করো না। নিশ্চয়ই শিরক মহা অন্যায়।’
লক্ষণীয় বিষয় হলো, সন্তানকে উপদেশ দেওয়ার সময় লুকমান (আ.) তাকে ‘হে আমার প্রিয় বৎস’ বলে সম্বোধন করেছেন। এতে সন্তানের সঙ্গে কোমল ও ভালোবাসাপূর্ণ আচরণের শিক্ষাও পাওয়া যায়। পিতা-মাতার উচিত শিশুকে আল্লাহর সৃষ্টি, প্রকৃতি, আকাশ, পৃথিবী, চাঁদ, সূর্য এবং মানুষের জীবন সম্পর্কে জানানো। এসবের মাধ্যমে তার মনে সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও বিশ্বাস তৈরি করা সম্ভব। তবে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভয় দেখানোর পরিবর্তে ভালোবাসা ও সুন্দর উদাহরণের মাধ্যমে শেখানো অধিক ফলপ্রসূ।
নামাজ ও ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলা
শিশুকে ছোটবেলা থেকেই নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও অন্যান্য ইবাদতের সঙ্গে পরিচিত করানো পিতা-মাতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সুরা লুকমানের ১৭ নম্বর আয়াতে সন্তানকে নামাজ প্রতিষ্ঠা, সৎকাজের নির্দেশ, অসৎকাজ থেকে নিষেধ এবং বিপদে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেওয়া হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছর হলে তাদের নামাজের নির্দেশ দাও।’ (সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৪৯৫)।
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, নামাজের শিক্ষা হঠাৎ করে শুরু করার বিষয় নয়। বরং শৈশব থেকেই সন্তানকে নামাজের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করতে হবে। পিতা-মাতা নিজেরা নিয়মিত নামাজ আদায় করলে শিশুরাও তাঁদের অনুসরণ করতে উৎসাহিত হয়।
এ ক্ষেত্রে বয়স ও মানসিক বিকাশ বিবেচনা করে ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি করা প্রয়োজন। নামাজের নিয়ম, অজু, ছোট ছোট সুরা ও প্রয়োজনীয় দোয়া শেখানো যেতে পারে।
ভালোবাসা, স্নেহ ও কোমল আচরণ
শিশুর মানসিক বিকাশে ভালোবাসা ও স্নেহের গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলাম শিশুর প্রতি মমতা প্রদর্শনকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছে।
সহিহ বুখারির ৫৯৯৭ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) হযরত হাসান (রা.)-কে চুম্বন করছিলেন। এ সময় আকরা ইবনে হাবিস (রা.) বলেন, তাঁর দশটি সন্তান রয়েছে, কিন্তু তিনি কখনো কাউকে চুম্বন করেননি। জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে দয়া করে না, তার প্রতিও দয়া করা হয় না।’
এই হাদিসের শিক্ষা হলো, সন্তানকে ভালোবাসা প্রকাশ করতে হবে। তাকে আদর করা, সময় দেওয়া, তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং ভুল করলে বুঝিয়ে বলা পিতা-মাতার দায়িত্ব।
অনেক সময় সন্তান ভুল করলে পিতা-মাতা রাগের বশে তাকে অপমান করেন, অন্যের সঙ্গে তুলনা করেন কিংবা শারীরিক শাস্তি দেন। এ ধরনের আচরণ শিশুর মনে ভয়, হীনম্মন্যতা ও দূরত্ব তৈরি করতে পারে। তাই শাসনের ক্ষেত্রেও সংযম, ধৈর্য ও ন্যায়বিচার বজায় রাখা জরুরি।
নৈতিকতা ও উত্তম চরিত্রের শিক্ষা
শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেখালেই শিশুর পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা সম্পন্ন হয় না। তাকে সততা, সত্যবাদিতা, বিনয়, দায়িত্ববোধ, পরোপকার, ধৈর্য ও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ শেখাতে হবে।
সুরা লুকমানের ১৮ ও ১৯ নম্বর আয়াতে অহংকার না করা, মানুষের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন না করা, চলাফেরায় সংযমী হওয়া এবং কণ্ঠস্বর নিচু রাখার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
পিতা-মাতার উচিত শিশুকে ছোটবেলা থেকেই মিথ্যা বলা, অন্যের জিনিস নেওয়া, কাউকে কষ্ট দেওয়া কিংবা দুর্বলকে অবহেলা করার মতো আচরণ থেকে বিরত থাকতে শেখানো। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো নিজেরা আদর্শ আচরণ করা। কারণ শিশুরা শুধু উপদেশ শোনে না, তারা বড়দের আচরণও অনুকরণ করে। পিতা-মাতা নিজেরা মিথ্যা বললে, অন্যকে অসম্মান করলে কিংবা প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে সন্তানের কাছে নৈতিক শিক্ষার গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়।
ছেলে-মেয়ের মধ্যে বৈষম্য না করা
ইসলাম সন্তানদের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছে। ছেলে সন্তানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া এবং মেয়ে সন্তানকে অবহেলা করা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী।
সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে নুমান ইবনে বশির (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, তাঁর পিতা তাঁকে একটি উপহার দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানতে চাইলে তিনি অন্য সন্তানদেরও একইভাবে উপহার দিয়েছেন কি না, তা জানতে চান। সমতা নিশ্চিত না হওয়ায় তিনি ওই উপহারের বিষয়ে সাক্ষী হতে অস্বীকৃতি জানান।
এই হাদিসের শিক্ষা হলো, সন্তানদের মধ্যে উপহার, আদর-যত্ন ও পারিবারিক আচরণে ন্যায়সংগত ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।
মেয়ে সন্তানকে বোঝা মনে করা কিংবা ছেলে সন্তানকে পরিবারের একমাত্র ভবিষ্যৎ ভাবার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। প্রত্যেক সন্তানই আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত।
জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সুশিক্ষায় গড়ে তোলা
ইসলাম জ্ঞানার্জনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। পিতা-মাতার দায়িত্ব হলো সন্তানকে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জাগতিক শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বাস্তবজীবনের জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া।
শিশুকে কোরআন-হাদিসের শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করতে হবে। তাকে প্রশ্ন করতে দিতে হবে এবং যুক্তি দিয়ে বিষয় বুঝতে সাহায্য করতে হবে।
একই সঙ্গে ভালো বই পড়া, খেলাধুলা, সৃজনশীল কাজ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করাই শিক্ষার উদ্দেশ্য নয়; বরং একজন বিবেকবান, দক্ষ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠাই শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য।
সন্তানের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা
শিশুর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও পিতা-মাতার অন্যতম দায়িত্ব। তাকে অপরিচিত মানুষের সঙ্গে আচরণ, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, ভালো স্পর্শ ও খারাপ স্পর্শ এবং বিপদে বিশ্বস্ত ব্যক্তির সাহায্য নেওয়ার বিষয়ে বয়সোপযোগী শিক্ষা দিতে হবে।
সন্তানের অনলাইন জগৎ সম্পর্কেও অভিভাবকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন। মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেট ব্যবহারে বয়স উপযোগী সীমা নির্ধারণ করতে হবে। ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে দূরে রাখা এবং অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ঝুঁকি বোঝানো জরুরি।
সন্তানের সঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরি করতে হবে, যাতে সে কোনো সমস্যায় পড়লে ভয় না পেয়ে নির্দ্বিধায় পিতা-মাতাকে জানাতে পারে।
সন্তানকে সময় দেওয়া ও তার কথা শোনা
=======
বর্তমান সময়ে অনেক পিতা-মাতা জীবিকার প্রয়োজনে ব্যস্ত থাকেন। ফলে সন্তানের সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটানোর সুযোগ কমে যায়। অথচ শিশুর মানসিক বিকাশে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন কিছু সময় সন্তানের সঙ্গে কথা বলা, তার আনন্দ-বেদনা শোনা, পড়াশোনার খোঁজ নেওয়া এবং খেলাধুলায় অংশ নেওয়া প্রয়োজন। সন্তান কোনো ভুল করলে প্রথমেই ধমক না দিয়ে কেন এমন করেছে, তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
শিশুর বয়স অনুযায়ী তার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং ছোট ছোট সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি করাও দায়িত্বশীল অভিভাবকত্বের অংশ।
সন্তানের জন্য দোয়া করা
সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ ও নৈতিক চরিত্র গঠনের জন্য পিতা-মাতার উচিত নিয়মিত আল্লাহর কাছে দোয়া করা। পবিত্র কোরআনের সুরা আল-ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াতে মুমিনদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া শেখানো হয়েছে।
দোয়ার অর্থ, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকিদের নেতা বানান।’
এ ছাড়া সুরা ইবরাহিমের ৪০ নম্বর আয়াতে হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া উল্লেখ রয়েছে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে নামাজ প্রতিষ্ঠাকারী করুন এবং আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের প্রতিপালক! আমার দোয়া কবুল করুন।’
এসব দোয়া পিতা-মাতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, সন্তানের কল্যাণের জন্য চেষ্টা করার পাশাপাশি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনাও জরুরি।
সন্তানকে মানুষ করার দায়িত্ব কেবল তাকে বড় করে তোলা কিংবা ভালো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার চিন্তা, বিশ্বাস, চরিত্র, আচরণ ও মূল্যবোধের ভিত গড়ে দেওয়াই প্রকৃত অভিভাবকত্ব।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস
অতএব, সন্তানকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব পিতা-মাতা উভয়ের। ভালোবাসা, সুশাসন, ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা, জ্ঞানার্জন ও সুন্দর পারিবারিক পরিবেশের সমন্বয়েই একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মিত হতে পারে। পিতা-মাতার আজকের সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতাই আগামী দিনের নৈতিক ও মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য