fbpx fbpx fbpx
দাওয়াতুল ইসলাম ২৪
বৃহস্পতিবার, ০৫, নভেম্বর, ২০২৬ , ২১ কার্তিক ১৪৩৩
কুরআন প্রজেক্টে হাদিয়া দিন

ভালো ফল নয়, ভালো মানুষ গড়াই হোক অভিভাবকের লক্ষ্য

মুফতি আব্দুল্লাহ আল হাদী (এম.এ, ঢাবি), শিশুশিক্ষা ও প্যারেন্টিং গবেষক, চেয়ারম্যান ফিকরাহ 

পরীক্ষার নম্বর, শ্রেণিকক্ষে অবস্থান কিংবা জিপিএ দিয়ে শিশুর প্রকৃত সাফল্য নির্ধারণ করা যায় না। নৈতিকতা, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও আত্মবিশ্বাসে গড়ে ওঠা সন্তানই পরিবার ও সমাজের প্রকৃত সম্পদ। তাই শিশুকে শুধু ভালো ফলের প্রতিযোগিতায় ঠেলে না দিয়ে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই হোক অভিভাবকের প্রধান লক্ষ্য।

সন্তানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন অনেক পরিবারের ঘরে আনন্দ কিংবা বিষাদের পরিবেশ তৈরি হয়। কেউ ভালো ফল করলে মিষ্টি বিতরণ হয়, আত্মীয়স্বজনের ফোন আসে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দনের বন্যা বয়ে যায়। আবার প্রত্যাশিত ফল না হলে কোনো কোনো শিশুকে শুনতে হয় কটুকথা, তুলনা কিংবা হতাশার কথা। অথচ একটি পরীক্ষার নম্বর কখনোই শিশুর সম্পূর্ণ মেধা, যোগ্যতা, সৃজনশীলতা কিংবা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পরিচয় বহন করে না।

শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল করা নয়; বরং মানুষকে জ্ঞানী, বিবেকবান, দায়িত্বশীল ও মানবিক করে তোলা। একজন শিশু বড় হয়ে কত ভালো চাকরি পেল, কত টাকা উপার্জন করল কিংবা কত বড় পদে অধিষ্ঠিত হলো, তার পাশাপাশি সে কতটা সৎ, ন্যায়পরায়ণ, সহানুভূতিশীল এবং দায়িত্বশীল মানুষ হতে পারল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই অভিভাবকদের মনে রাখা প্রয়োজন, ভালো ফল সন্তানের জীবনের একটি অর্জন, কিন্তু ভালো মানুষ হওয়া তার জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

ফলের প্রতিযোগিতায় হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব

বর্তমান সময়ে শিশুদের পড়াশোনা ঘিরে অভিভাবকদের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। স্কুল, কোচিং, প্রাইভেট টিউটর, পরীক্ষা ও বাড়ির কাজের চাপে অনেক শিশুর স্বাভাবিক শৈশব সংকুচিত হয়ে আসছে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সৃজনশীল কাজ, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা নিজের মতো করে কিছু শেখার সুযোগও অনেক ক্ষেত্রে কমে যাচ্ছে।

অনেক অভিভাবক সন্তানের ফলাফলকে নিজের সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। প্রতিবেশীর সন্তান জিপিএ-৫ পেলে নিজের সন্তানকে আরও বেশি পড়ার চাপ দেন। আত্মীয়ের সন্তান কোনো প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেলে নিজের সন্তানের কাছেও একই প্রত্যাশা তৈরি করেন। এভাবে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের পরিবর্তে তুলনা ও প্রতিযোগিতা তার জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।

মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা যায়, অতিরিক্ত চাপ, নেতিবাচক সমালোচনা ও ব্যর্থতার ভয় শিশুর উদ্বেগ বাড়াতে পারে। এতে আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, পড়াশোনায় অনীহা এবং মানসিক চাপ তৈরির ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে উৎসাহ, ইতিবাচক সহযোগিতা এবং ভুল থেকে শেখার সুযোগ শিশুর শেখার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক।

তাই সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে তার নিজস্ব সক্ষমতা, আগ্রহ ও অগ্রগতির দিকে নজর দেওয়া জরুরি। সে গত পরীক্ষার তুলনায় কতটা উন্নতি করেছে, নতুন কী শিখেছে এবং নিজের দায়িত্ব কতটা পালন করতে পারছে, সেগুলোও মূল্যায়নের বিষয় হওয়া উচিত।

নৈতিক শিক্ষার প্রথম পাঠ পরিবারে

শিশুর চরিত্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো পরিবার। একটি শিশু প্রথম কথা বলা, আচরণ করা, অন্যকে সম্মান করা, সত্য বলা কিংবা নিজের দায়িত্ব পালনের শিক্ষা পরিবার থেকেই পায়। বাবা-মা যা বলেন, তার চেয়ে তারা নিজেরা যা করেন, শিশু অনেক সময় সেটি বেশি অনুসরণ করে।

অভিভাবক যদি সন্তানের সামনে মিথ্যা বলেন, অন্যকে অপমান করেন কিংবা সামান্য স্বার্থের জন্য অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন, তাহলে শিশুর কাছ থেকে সততা ও নৈতিকতা আশা করা কঠিন। বিপরীতে পরিবারের বড়রা যদি সত্য কথা বলেন, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং সবার সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করেন, তাহলে শিশু সেসব আচরণ স্বাভাবিকভাবেই শিখতে পারে।

শিশুকে ছোটবেলা থেকেই সত্য বলা, অন্যের অধিকার সম্মান করা, নিজের ভুল স্বীকার করা, বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করা এবং নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ঘরের ছোটখাটো কাজে অংশ নেওয়া, নিজের বই-খাতা গুছিয়ে রাখা কিংবা পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা করার মধ্য দিয়েও দায়িত্ববোধ তৈরি হয়।

ইসলামে সন্তান প্রতিপালনের মূল শিক্ষা

ইসলাম সন্তান প্রতিপালনকে শুধু খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান ও শিক্ষার ব্যবস্থা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। বরং সন্তানের ঈমান, নৈতিকতা, চরিত্র ও দায়িত্ববোধ গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

পবিত্র কোরআনে হযরত লুকমান (আ.)-এর উপদেশের মাধ্যমে সন্তানকে নৈতিক ও আত্মিক শিক্ষার একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। সুরা লুকমানের ১৩ নম্বর আয়াতে তিনি তাঁর সন্তানকে আল্লাহর সঙ্গে শরিক না করার উপদেশ দেন। পরবর্তী আয়াতগুলোতে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা, বাবা-মায়ের প্রতি সদাচরণ, নামাজ প্রতিষ্ঠা, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজ থেকে নিষেধ এবং ধৈর্য ধারণের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

সুরা লুকমানের ১৮ ও ১৯ নম্বর আয়াতে অহংকার না করা, মানুষের প্রতি অবজ্ঞা না দেখানো এবং চলাফেরা ও কথাবার্তায় সংযমী হওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রমাণ করে, ইসলামে সন্তানের সাফল্য কেবল জ্ঞানার্জনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিনয়, শালীনতা, ধৈর্য ও মানবিক গুণাবলিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

পবিত্র কোরআনের সুরা তাহরিমের ৬ নম্বর আয়াতে নিজেদের ও পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর তাৎপর্য হলো, পরিবারের সদস্যদের সঠিক শিক্ষা, নৈতিক দিকনির্দেশনা এবং আল্লাহর বিধান অনুসারে জীবন পরিচালনায় অভিভাবকদের দায়িত্ব রয়েছে

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম)। এই হাদিসে পরিবার ও সন্তানের প্রতি অভিভাবকের দায়িত্বের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।

ইসলাম শিশুকে ভালোবাসা, কোমলতা ও মর্যাদার সঙ্গে প্রতিপালনের শিক্ষা দেয়। শাসনের নামে অপমান, ভয় দেখানো কিংবা অবিরাম তিরস্কার শিশুর চরিত্র গঠনের আদর্শ পদ্ধতি নয়। বরং ভালো কাজের প্রশংসা, ভুল হলে ধৈর্যসহকারে সংশোধন এবং নিজের আচরণের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করাই উত্তম অভিভাবকত্বের অংশ।

আত্মবিশ্বাস ও আত্মনির্ভরতা গড়ে তোলা জরুরি

প্রতিটি শিশুর মেধা, আগ্রহ ও শেখার ধরন এক নয়। কেউ গণিতে ভালো, কেউ ভাষা ও সাহিত্যে, কেউ ছবি আঁকতে, গান গাইতে কিংবা খেলাধুলায় পারদর্শী। আবার কেউ নেতৃত্ব দিতে পারে, কেউ অন্যের কষ্ট সহজে বুঝতে পারে। অভিভাবকদের উচিত সন্তানের এসব স্বতন্ত্র গুণাবলি খুঁজে বের করা এবং সেগুলোর বিকাশে সহযোগিতা করা।

শিশু কোনো কাজে ব্যর্থ হলে তাকে অযোগ্য বলা যাবে না। বরং কেন ব্যর্থ হয়েছে, কীভাবে আবার চেষ্টা করা যায়, তা বুঝিয়ে বলতে হবে। ভুলকে শেখার অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে শেখাতে হবে। এতে শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা তৈরি হবে।

ইউনিসেফের ইতিবাচক অভিভাবকত্ববিষয়ক নির্দেশনায় শিশুর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা, ভালো কাজের প্রশংসা করা এবং ভয়ভীতি না দেখিয়ে নিয়ম শেখানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অভিভাবকত্ববিষয়ক নির্দেশিকায় ইতিবাচক অভিভাবকত্বের মাধ্যমে শিশুর আচরণগত সমস্যা ও কঠোর শাসনের ঝুঁকি কমানোর কথা বলা হয়েছে।

ভালো মানুষ গড়তে অভিভাবকের করণীয়

শিশুর নৈতিক ও মানবিক বিকাশের জন্য প্রতিদিনের জীবনে কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

১. সত্য বলার অভ্যাস: ছোটবেলা থেকেই সত্য কথা বলতে উৎসাহ দিতে হবে। ভুল করলেও সত্য স্বীকার করলে তাকে অপমান না করে সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে।

২. সহমর্মিতা শেখানো: অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া, অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ নেওয়া এবং প্রাণীর প্রতি সদয় হওয়ার শিক্ষা দিতে হবে।

৩. দায়িত্ববোধ তৈরি: নিজের বই-খাতা গুছিয়ে রাখা, ঘরের ছোটখাটো কাজে সহযোগিতা করা এবং নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।

৪. ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা: বয়স অনুযায়ী কোরআন শিক্ষা, নামাজ, দোয়া, নবী-রাসুলদের জীবনী এবং ইসলামের মানবিক আদর্শ সম্পর্কে জানাতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষা যেন শুধু মুখস্থনির্ভর না হয়ে আচরণেও প্রতিফলিত হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে।

৫. সময় দেওয়া: প্রতিদিন সন্তানের সঙ্গে কিছু সময় কাটাতে হবে। তার কথা শুনতে হবে, আনন্দ-বেদনা বুঝতে হবে এবং প্রয়োজনে বন্ধুর মতো পরামর্শ দিতে হবে।

৬. প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার: মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারে বয়স উপযোগী সীমা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি বই পড়া, খেলাধুলা, সৃজনশীল কাজ ও প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে।

সন্তানের কাছে অভিভাবকই প্রথম আদর্শ

শিশুকে ভালো মানুষ হওয়ার উপদেশ দেওয়ার আগে অভিভাবকদের নিজেদের আচরণ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সন্তান যদি দেখে বাবা-মা একে অপরকে সম্মান করেন, কর্মজীবনে সততা বজায় রাখেন, অন্যের অধিকার রক্ষা করেন এবং বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে এসব গুণ তার মধ্যেও বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

এ ক্ষেত্রে মা-বাবা উভয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানের শিক্ষা ও চরিত্র গঠনের দায়িত্ব শুধু মায়ের নয়, বাবারও সমান। পরিবারের সব সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টা শিশুর সুস্থ বিকাশে সহায়ক।

বাংলাদেশে ইতিবাচক অভিভাবকত্ব নিয়ে পরিচালিত গবেষণাতেও দেখা গেছে, সন্তানের প্রতি আবেগীয় উষ্ণতা, গঠনমূলক তদারকি এবং কম নেতিবাচক যোগাযোগের সঙ্গে শিশুদের আত্মনিয়ন্ত্রণ, আত্মমর্যাদা, সামাজিক আচরণ ও শিক্ষাগত অর্জনের ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

একজন শিশু পরীক্ষায় প্রথম না হলেও সে ভালো মানুষ হতে পারে। সে হয়তো বড় চাকরি করবে না, কিন্তু অসহায়ের পাশে দাঁড়াবে। হয়তো অনেক অর্থসম্পদের মালিক হবে না, কিন্তু অন্যের অধিকার নষ্ট করবে না। হয়তো খ্যাতিমান হবে না, কিন্তু পরিবার, সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করবে।

অন্যদিকে শুধু ভালো ফলের পেছনে ছুটতে গিয়ে যদি একটি শিশু অসৎ উপায়ে সাফল্য অর্জন করতে শেখে, অন্যকে ছোট করে, বাবা-মাকে অসম্মান করে কিংবা সামান্য ব্যর্থতায় ভেঙে পড়ে, তাহলে সেই ফলাফল দিয়ে প্রকৃত সাফল্য বিচার করা যায় না।

অভিভাবকদের তাই সন্তানের কাছে এমন প্রত্যাশা রাখা উচিত, যাতে সে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি ভালো আচরণ, সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জন করতে পারে। সন্তানকে শুধু প্রশ্ন করতে হবে না, উত্তর খুঁজতে শেখাতে হবে। শুধু নির্দেশ মানতে নয়, সঠিক-বেঠিক বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে শেখাতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়, সন্তানকে ভালো স্কুলে ভর্তি করানো, ভালো শিক্ষক দিয়ে পড়ানো কিংবা পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য উৎসাহ দেওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এসবের চেয়েও বড় দায়িত্ব হলো তার ভেতরে একটি সুন্দর মন, পরিচ্ছন্ন বিবেক ও মানবিক চরিত্র গড়ে তোলা। কারণ পরীক্ষার ফলাফল সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয়ে যায়, কিন্তু মানুষের চরিত্র সারাজীবন তার পরিচয় বহন করে।

অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে, সন্তানকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাও তাদের দায়িত্ব। তাই লক্ষ্য হোক শুধু জিপিএ-৫ নয়, বরং সততা, মানবিকতা, নৈতিকতা ও আল্লাহভীতিতে সমৃদ্ধ একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা। ভালো ফলের চেয়ে ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষাই হোক প্রতিটি পরিবারের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

মন্তব্য