fbpx fbpx fbpx
দাওয়াতুল ইসলাম ২৪
সোমবার, ০২, নভেম্বর, ২০২৬ , ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
কুরআন প্রজেক্টে হাদিয়া দিন

শিশুর শৈশব কেড়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি

মুফতি আব্দুল্লাহ আল হাদী (এম.এ, ঢাবি), শিশুশিক্ষা ও প্যারেন্টিং গবেষক, চেয়ারম্যান ফিকরাহ 

শিশুর হাতে স্মার্টফোন এখন আর কেবল বিনোদনের উপকরণ নয়, এটি হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন জীবনের একটি পরিচিত অনুষঙ্গ। খাবার খাওয়ানো, কান্না থামানো, ঘুম পাড়ানো কিংবা শিশুকে ব্যস্ত রাখার জন্য অনেক অভিভাবক মোবাইল ফোনের সাহায্য নেন। শুরুতে বিষয়টি সহজ ও নিরীহ মনে হলেও দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস শিশুর স্বাভাবিক মানসিক বিকাশে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অতিরিক্ত স্ক্রিননির্ভরতা শিশুর ভাষা শেখা, চিন্তাশক্তি, মনোযোগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক যোগাযোগ ও সৃজনশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে শিশুর হাতে মোবাইল তুলে দেওয়ার আগে এর প্রয়োজনীয়তা, ব্যবহারকাল এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি।

শৈশবের মস্তিষ্কের বিকাশ ও মোবাইলের প্রভাব

শিশুর জীবনের প্রথম পাঁচ বছর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে শিশু চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, খেলাধুলা, প্রশ্ন করা এবং বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শেখে। মা-বাবার কথা শোনা, মুখের অভিব্যক্তি বোঝা, শব্দ অনুকরণ করা এবং নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে তার মানসিক দক্ষতা তৈরি হয়।

কিন্তু দীর্ঘ সময় মোবাইলের পর্দায় চোখ আটকে থাকলে এসব স্বাভাবিক অভিজ্ঞতার সুযোগ কমে যায়। ভিডিও দেখা বা গেম খেলার মাধ্যমে শিশু কিছু তথ্য পেতে পারে, কিন্তু বাস্তব মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিকল্প এটি নয়। একটি ভিডিওতে কোনো প্রাণীর নাম শেখা আর বাস্তবে প্রাণীটি দেখে তার বৈশিষ্ট্য বোঝা এক বিষয় নয়।

আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের ২০২৬ সালের নীতিমালায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ও একাকী ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে শিশুদের ভাষা, চিন্তাশক্তি, সামাজিক-আবেগীয় দক্ষতা এবং সূক্ষ্ম শারীরিক দক্ষতার বিকাশে বিলম্বের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

ভাষা শেখার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা

শিশুর ভাষা বিকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথোপকথন। মা-বাবার মুখের দিকে তাকানো, তাদের কথা শোনা, শব্দের পুনরাবৃত্তি করা এবং প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্য দিয়ে শিশু ভাষা আয়ত্ত করে। কিন্তু শিশু যদি দিনের বড় একটি অংশ কার্টুন, ভিডিও কিংবা গেম দেখে কাটায়, তাহলে তার সঙ্গে মানুষের কথোপকথনের সময় কমে যায়। ফলে নতুন শব্দ শেখা, বাক্য তৈরি করা এবং নিজের চিন্তা ভাষায় প্রকাশ করার অনুশীলন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে মোবাইলের ভিডিও দেখার সময় তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় দর্শক হয়ে থাকে। সেখানে প্রশ্ন করা, উত্তর দেওয়া কিংবা বাস্তব পরিস্থিতিতে ভাষা প্রয়োগের সুযোগ সীমিত। তাই শিশুকে শুধু শিক্ষামূলক ভিডিও দেখালেই তার ভাষার যথাযথ বিকাশ হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়।

মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তির ওপর প্রভাব

মোবাইলের বিভিন্ন অ্যাপ, গেম ও ভিডিওতে দ্রুত দৃশ্য পরিবর্তন, রঙিন ছবি, শব্দ এবং আকর্ষণীয় অ্যানিমেশন থাকে। এসব উপাদান শিশুকে সহজেই আকৃষ্ট করে। কিন্তু অতিরিক্ত দ্রুতগতির কনটেন্ট দেখার অভ্যাস তৈরি হলে বাস্তব জীবনের অপেক্ষাকৃত ধীরগতির কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে। যেমন বই পড়া, ছবি আঁকা, গল্প শোনা কিংবা কোনো একটি খেলায় দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা শিশুর কাছে কঠিন মনে হতে পারে।

এ ছাড়া মোবাইলের নোটিফিকেশন, ভিডিও পরিবর্তন এবং একের পর এক নতুন কনটেন্ট দেখার প্রবণতা শিশুর মনোযোগ বারবার অন্যদিকে সরিয়ে দিতে পারে। ফলে পড়াশোনা কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে মনোযোগ ধরে রাখার দক্ষতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে শুধু মোবাইল ব্যবহারের কারণেই কোনো শিশুর মনোযোগের সমস্যা তৈরি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। শিশুর বয়স, পারিবারিক পরিবেশ, ঘুম এবং অন্যান্য অভ্যাসও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

আবেগ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা কমে যাওয়া

শিশু যখন রাগ করে, কান্নাকাটি করে কিংবা কোনো কিছু না পেয়ে বিরক্ত হয়, তখন তাকে শান্ত করার জন্য মোবাইল দেওয়া অনেক পরিবারের পরিচিত অভ্যাস। এতে সাময়িকভাবে কান্না থামলেও দীর্ঘ মেয়াদে এটি সমস্যার কারণ হতে পারে। কারণ শিশুর মানসিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নিজের আবেগ বুঝতে শেখা এবং তা নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা অর্জন করা। হতাশা, রাগ, দুঃখ কিংবা অপেক্ষা করার মতো অনুভূতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার মধ্য দিয়েই শিশু ধীরে ধীরে আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখে।

প্রতিবার কান্না বা বিরক্তির সময় মোবাইল হাতে দিলে শিশু নিজের অনুভূতি সামলানোর পরিবর্তে বাইরের বিনোদনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে। এতে ধৈর্য ধারণ, অপেক্ষা করা এবং হতাশা মোকাবিলার দক্ষতা গড়ে ওঠার সুযোগ কমে যায়।

আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের গবেষণাভিত্তিক পর্যালোচনায় ছোট শিশুদের শান্ত করার জন্য নিয়মিত ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের সঙ্গে আবেগ নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা এবং সমস্যাজনক মিডিয়া ব্যবহারের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা

শিশু পরিবার, বন্ধু এবং আশপাশের মানুষের সঙ্গে মেলামেশার মাধ্যমে সামাজিক আচরণ শেখে। অন্যের কথা শোনা, নিজের মতামত প্রকাশ, খেলনা ভাগাভাগি করা, সহযোগিতা করা এবং বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার মতো দক্ষতা বাস্তব যোগাযোগের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়। কিন্তু মোবাইল ব্যবহারে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করলে শিশুর সামাজিক মেলামেশার সুযোগ কমে যেতে পারে। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে বসে থাকলেও প্রত্যেকে নিজ নিজ ফোনে ব্যস্ত থাকলে শিশুর সঙ্গে স্বাভাবিক কথোপকথন বাধাগ্রস্ত হয়। এতে শিশু অন্যের অনুভূতি বোঝা, মুখের অভিব্যক্তি পড়া এবং সামাজিক পরিস্থিতিতে যথাযথ আচরণ করার প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

সৃজনশীলতা ও কল্পনাশক্তির বিকাশে বাধা

শিশুর কল্পনাশক্তি বিকশিত হয় নিজের মতো করে চিন্তা করা, গল্প বানানো, খেলনা দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করা এবং চারপাশের জগৎ অনুসন্ধানের মাধ্যমে। কিন্তু মোবাইলের পর্দায় সবকিছু আগে থেকেই সাজানো থাকে। ভিডিওতে কী ঘটবে, গেমে কী করতে হবে কিংবা পরবর্তী দৃশ্যে কী আসবে, তা অনেকটাই নির্ধারিত। ফলে শিশু নিজে থেকে কিছু কল্পনা করার পরিবর্তে তৈরি করা বিষয়বস্তু গ্রহণে অভ্যস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে মাটি, পানি, রং, কাগজ, কাঠ কিংবা সাধারণ খেলনা দিয়ে খেলার মাধ্যমে শিশু সমস্যা সমাধান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নতুন ধারণা তৈরির সুযোগ পায়। এসব অভিজ্ঞতা তার সৃজনশীল চিন্তাকে সমৃদ্ধ করে।

ঘুমের ব্যাঘাত ও মানসিক ক্লান্তি

শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক দিনের অভিজ্ঞতা প্রক্রিয়াকরণ এবং স্মৃতি সংরক্ষণের কাজ করে। কিন্তু রাতে দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার করলে শিশুর ঘুমাতে যাওয়ার সময় পিছিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে ভিডিও দেখা বা গেম খেলার অভ্যাস শিশুকে মানসিকভাবে উত্তেজিত রাখতে পারে। পর্দার আলোও শরীরের স্বাভাবিক ঘুম-জাগরণের ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে।ঘুমের ঘাটতি হলে শিশুর মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং শেখার আগ্রহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস বন্ধ করা প্রয়োজন।

খেলাধুলা ও শারীরিক সক্রিয়তা কমে যাওয়া

শিশুর মানসিক বিকাশের সঙ্গে শারীরিক কার্যক্রমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দৌড়ানো, লাফানো, সাইকেল চালানো, বল খেলা কিংবা সমবয়সীদের সঙ্গে বাইরে সময় কাটানো শিশুর আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু মোবাইলের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ তৈরি হলে শিশু দীর্ঘ সময় বসে বা শুয়ে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রকৃতি ও বাস্তব পরিবেশ থেকে শেখার সুযোগও সীমিত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী, এক বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য স্ক্রিনভিত্তিক বিনোদন সুপারিশ করা হয় না। এক বছর বয়সীদের ক্ষেত্রেও তা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। দুই বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে স্ক্রিন ব্যবহারের সময় দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা এবং তিন থেকে চার বছর বয়সীদের ক্ষেত্রেও এক ঘণ্টার বেশি না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কম সময়ই ভালো।

অনুপযুক্ত কনটেন্ট ও অনলাইন ঝুঁকি

ইন্টারনেটে সব ধরনের ভিডিও বা তথ্য শিশুর উপযোগী নয়। অনেক সময় শিশুদের সামনে সহিংসতা, ভয়ংকর দৃশ্য, অশালীন বিষয়বস্তু কিংবা বয়সের অনুপযুক্ত বিজ্ঞাপন চলে আসে।  এসব কনটেন্ট শিশুর মনে ভয়, উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। আবার অনলাইন গেম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থেকেও নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে শিশুরা অনেক সময় বুঝতে পারে না কোন তথ্য বিশ্বাসযোগ্য আর কোনটি বিভ্রান্তিকর। ফলে অভিভাবকের তত্ত্বাবধান ছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহার তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ইউনিসেফের ২০২৫ সালের 'চাইল্ডহুড ইন আ ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড' প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্রযুক্তি শিশুদের শেখা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করলেও এর ব্যবহার, বিষয়বস্তু এবং অভিজ্ঞতার ধরন অনুযায়ী মানসিক সুস্থতার ওপর ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

কীভাবে মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা যায়

শিশুকে মোবাইল থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার পরিবর্তে বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রথমত, ছোট শিশুদের বিনোদনের জন্য মোবাইলকে নিয়মিত মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। বিশেষ করে দুই বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে ভিডিও কল ছাড়া স্ক্রিন ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।

দ্বিতীয়ত, শিশুর সামনে অভিভাবকদেরও অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার পরিহার করতে হবে। কারণ শিশুরা বড়দের আচরণ অনুকরণ করে। পরিবারের সবাই একসঙ্গে খাবার খাওয়ার সময় এবং ঘুমানোর আগে মোবাইলমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, শিশুকে গল্পের বই পড়া, ছবি আঁকা, খেলাধুলা, ধাঁধা সমাধান এবং সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করতে হবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় শিশুর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা ও খেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। 

চতুর্থত, বয়স উপযোগী শিক্ষামূলক কনটেন্ট নির্বাচন করতে হবে। শিশুকে একা মোবাইলের সামনে বসিয়ে না রেখে অভিভাবকদের সঙ্গে বসে ভিডিও দেখা এবং বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করা ভালো।

পঞ্চমত, মোবাইল ব্যবহারের জন্য পারিবারিক নিয়ম তৈরি করতে হবে। প্রয়োজন হলে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহার করে অনুপযুক্ত কনটেন্ট ও অ্যাপ সীমিত করা যেতে পারে।

প্রযুক্তি নয়, প্রয়োজন সচেতন ব্যবহার

বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি থেকে শিশুদের সম্পূর্ণ দূরে রাখা সম্ভব নয়, প্রয়োজনও নেই। সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে ডিজিটাল প্রযুক্তি শিশুর জ্ঞান অর্জন, ভাষা শেখা এবং নতুন দক্ষতা বিকাশে সহায়ক হতে পারে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন শিশুর বাস্তব অভিজ্ঞতা, পারিবারিক যোগাযোগ, খেলাধুলা ও পড়াশোনার জায়গা দখল না করে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

শিশুর হাতে মোবাইল তুলে দেওয়া সহজ, কিন্তু তার মানসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সময়, মনোযোগ ও ভালোবাসা দেওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি মোবাইল শিশুকে সাময়িক আনন্দ দিতে পারে, কিন্তু মা-বাবার সঙ্গে গল্প করা, একসঙ্গে খেলা কিংবা বাস্তব জগৎকে নিজের মতো করে আবিষ্কার করার আনন্দ দিতে পারে না।

অতএব, শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে মোবাইলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিবারকে হতে হবে তার সবচেয়ে বড় শিক্ষাকেন্দ্র। মনে রাখতে হবে, শিশুর শৈশব গড়ে ওঠে পর্দার আলোয় নয়, বরং মানুষের সান্নিধ্য, ভালোবাসা, খেলাধুলা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে।

তথ্যসূত্র: ১. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), Guidelines on Physical Activity, Sedentary Behaviour and Sleep for Children under 5 Years of Age, ২০১৯। ২. American Academy of Pediatrics, Digital Ecosystems, Children, and Adolescents: Policy Statement, ২০২৬। ৩. UNICEF Innocenti, Childhood in a Digital World, ২০২৫।




মন্তব্য