fbpx fbpx fbpx
দাওয়াতুল ইসলাম ২৪
মঙ্গলবার, ০৩, নভেম্বর, ২০২৬ , ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
কুরআন প্রজেক্টে হাদিয়া দিন

মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী: হাদিস, ফিকহ ও ইসলামি অর্থনীতির বিশ্বখ্যাত মনীষী

ইসলামি জ্ঞানচর্চা, শরিয়াহভিত্তিক অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা ও সাহিত্যাঙ্গনে অসামান্য অবদানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন পাকিস্তানের বিশিষ্ট আলেম মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী। হাদিসশাস্ত্র ও ইসলামি আইন বিষয়ে তাঁর গবেষণা, ফতোয়া এবং লেখালেখি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলেম, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে সমাদৃত।

মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী আলেমদের মধ্যে মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী অন্যতম। তিনি একই সঙ্গে একজন ইসলামি আইনজ্ঞ, হাদিসবিশারদ, লেখক, গবেষক ও ইসলামি অর্থনীতিবিদ। ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি আধুনিক ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থায় ইসলামি শরিয়াহর প্রয়োগ নিয়ে তাঁর কাজ আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত। পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালতের শরিয়াহ আপিল বেঞ্চের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনে ধর্মীয় শিক্ষা, বিচারব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর অবদান তাঁকে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।

আগামী ২২ নভেম্বর তাঁর বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে। এ সফরকে কেন্দ্র করে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি ইসলামি শিক্ষার্থী, আলেম ও গবেষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী ১৯৪৩ সালের ৫ অক্টোবর ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওবন্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মুফতি মুহাম্মদ শফি ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি এবং উপমহাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি আইনজ্ঞ। পাকিস্তানে দারুল উলুম করাচি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বাবার ধর্মীয় ও শিক্ষাগত পরিবেশেই তাকী উসমানীর জ্ঞানচর্চার ভিত্তি গড়ে ওঠে।

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর তাঁর পরিবার পাকিস্তানে চলে যায়। সেখানে তিনি ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি প্রচলিত শিক্ষাও গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে দারুল উলুম করাচিতে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করেন। কোরআন, হাদিস, ফিকহ, উসুলে ফিকহ ও আরবি ভাষায় গভীর জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তিনি আইন ও অর্থনীতি বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা করেন।

শৈশব থেকেই ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। পারিবারিক পরিবেশ, প্রথিতযশা আলেমদের সান্নিধ্য এবং নিয়মিত অধ্যয়ন তাঁকে অল্প বয়সেই ইসলামি শিক্ষাঙ্গনে পরিচিত করে তোলে।

হাদিস ও ফিকহশাস্ত্রে অবদান

তাকী উসমানীর জ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হাদিস ও ইসলামি আইনশাস্ত্র। হাদিসের ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ এবং সমকালীন জীবনে এর প্রয়োগ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান ও গবেষণা করছেন। ১৯৫৯ সাল থেকে তিনি ইসলামি শিক্ষার বিভিন্ন শাখায় শিক্ষকতা করে আসছেন। বিশেষ করে হাদিস, ফিকহ, অর্থনীতি ও তাসাউফ বিষয়ে তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গবেষণাকর্মের মধ্যে রয়েছে তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম শরহে সহিহ মুসলিম। এটি সহিহ মুসলিমের একটি বিস্তৃত আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। হাদিসের বক্তব্য, প্রেক্ষাপট, ফিকহি তাৎপর্য এবং বিভিন্ন মাজহাবের মতামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনি গ্রন্থটিকে সমৃদ্ধ করেছেন। হাদিসের পাঠ ও ব্যাখ্যায় তাঁর এই কাজ ইসলামি গবেষণার জগতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

ফিকহশাস্ত্রে তাঁর আলোচনার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে আধুনিক জীবনের নতুন নতুন সমস্যা। ব্যাংকিং, ব্যবসা-বাণিজ্য, সম্পদ হস্তান্তর, বিনিয়োগ, বীমা এবং আর্থিক লেনদেনের মতো বিষয়ে শরিয়াহর নির্দেশনা কীভাবে কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে তিনি বিস্তর গবেষণা করেছেন। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে ইসলামি আইন শুধু ঐতিহাসিক বিধান সংরক্ষণের বিষয় নয়; বরং পরিবর্তিত সময়ের বাস্তব সমস্যার সমাধান খোঁজারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি।

দেওবন্দি শিক্ষাধারায় প্রভাব

মুফতি তাকী উসমানী উপমহাদেশের দেওবন্দি ইসলামি শিক্ষাধারার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। এই ধারার মূল ভিত্তি হলো কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষা, হানাফি ফিকহ, হাদিসচর্চা এবং আত্মশুদ্ধির অনুশীলন। তাঁর পারিবারিক ও শিক্ষাগত পটভূমি এই ধারার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

দেওবন্দি শিক্ষাধারার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আলেম ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাঁর বক্তব্য, গবেষণা এবং ফতোয়ার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তাঁর রচনাবলি পাঠ করা হয়। মধ্য এশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর ইসলামি শিক্ষাঙ্গনেও তাঁর লেখালেখি ও গবেষণার প্রভাব রয়েছে।

তবে তাঁর পরিচিতি শুধু একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় শিক্ষাধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইসলামি আইন ও অর্থনীতি বিষয়ে তাঁর গবেষণার কারণে বিভিন্ন মাজহাব ও চিন্তাধারার গবেষকদের কাছেও তিনি পরিচিত। আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমিতে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

ইসলামি অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক পরিচিতি

মুফতি তাকী উসমানীর সবচেয়ে আলোচিত অবদানগুলোর একটি হলো ইসলামি অর্থনীতি ও ব্যাংকিংব্যবস্থার আধুনিক বিকাশে ভূমিকা। সুদভিত্তিক প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে শরিয়াহসম্মত ব্যাংকিং কীভাবে পরিচালিত হতে পারে, তা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।

ইসলামি ব্যাংকিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনার আলোকে আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করা। এ ব্যবস্থায় সুদ পরিহার, বৈধ ব্যবসায়িক বিনিয়োগ, সম্পদের ঝুঁকি ও মুনাফা বণ্টন এবং লেনদেনে স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব নীতির বাস্তব প্রয়োগে শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাকী উসমানী বিভিন্ন দেশের একাধিক ইসলামি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরিয়াহ পরামর্শক এবং শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাহরাইনে অবস্থিত অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনের (AAOIFI) আন্তর্জাতিক শরিয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবেও তাঁর দায়িত্ব পালনের তথ্য রয়েছে। সংস্থাটি ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবরক্ষণ, নিরীক্ষা ও শরিয়াহ মানদণ্ড নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এ ছাড়া তিনি সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমির স্থায়ী সদস্য। এটি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও ফিকহবিষয়ক প্রতিষ্ঠান। সেখানে তিনি পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং একসময় সংস্থাটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইসলামি অর্থনীতি বিষয়ে তাঁর ইংরেজি গ্রন্থ An Introduction to Islamic Finance বিশেষভাবে পরিচিত। বইটিতে ইসলামি অর্থনীতির মৌলিক ধারণা, ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি, বিনিয়োগ এবং আর্থিক লেনদেনের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে। ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় বইটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব

ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি বিচারব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন মুফতি তাকী উসমানী। ১৯৮২ সালে তিনি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের শরিয়াহ আপিল বেঞ্চের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০২ সালের মে মাস পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থায় শরিয়াহ আপিল বেঞ্চের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির আইন ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে ইসলামি বিধিবিধানের সামঞ্জস্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এ বেঞ্চ কাজ করে। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ইসলামি আইন, অর্থনৈতিক লেনদেন এবং সমকালীন বিভিন্ন আইনি প্রশ্নে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

একজন আলেমের পাশাপাশি আইনজ্ঞ হিসেবেও তাঁর এই অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে ইসলামি অর্থনীতি ও ফিকহবিষয়ক গবেষণায় সহায়ক হয়েছে। ধর্মীয় বিধান ও আধুনিক রাষ্ট্রীয় আইনের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণে তাঁর বিচারিক অভিজ্ঞতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

লেখক ও অনুবাদক হিসেবে পরিচিতি

মুফতি তাকী উসমানী শুধু মাদরাসার পাঠদান কিংবা ফতোয়া প্রদানের মধ্যেই নিজের কাজ সীমাবদ্ধ রাখেননি। লেখালেখি, অনুবাদ ও গবেষণার মাধ্যমেও ইসলামি জ্ঞানকে বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

তিনি পবিত্র কোরআনের উর্দু ও ইংরেজি অনুবাদ এবং ব্যাখ্যামূলক কাজ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে আসান তরজুমায়ে কোরআন এবং তাওজিহুল কোরআন। ইংরেজিতে তাঁর কোরআনের অনুবাদ The Meanings of the Noble Qur'an নামেও প্রকাশিত হয়েছে।

আরবি, উর্দু ও ইংরেজি ভাষায় তাঁর ৬০টিরও বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে বলে তাঁর নিজস্ব ওয়েবসাইটের জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে। এসব বইয়ের বিষয়বস্তুতে হাদিস, ফিকহ, ইসলামি অর্থনীতি, আত্মশুদ্ধি, সমকালীন ধর্মীয় সমস্যা এবং মুসলিম সমাজের বিভিন্ন প্রসঙ্গ স্থান পেয়েছে।

সাংবাদিকতা ও সাময়িকী সম্পাদনার ক্ষেত্রেও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ১৯৬৭ সাল থেকে তিনি উর্দু মাসিক আলবালাগ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯০ সাল থেকে ইংরেজি মাসিক আলবালাগ ইন্টারন্যাশনাল-এর সঙ্গেও সম্পৃক্ত। এসব সাময়িকীর মাধ্যমে ইসলামি চিন্তাভাবনা, সমকালীন সমস্যা ও ধর্মীয় গবেষণার বিভিন্ন বিষয় পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছেন।

প্রাণনাশের চেষ্টা থেকে বেঁচে ফেরা

২০১৯ সালের ২২ মার্চ পাকিস্তানের করাচিতে এক সশস্ত্র হামলার শিকার হন মুফতি তাকী উসমানী। জুমার নামাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে তাঁর গাড়িবহরে মোটরসাইকেলে আসা বন্দুকধারীরা গুলি চালায়। ওই ঘটনায় তিনি, তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বেঁচে যান। তবে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই ব্যক্তি নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। ঘটনাটি পাকিস্তানের ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা হামলার নিন্দা জানান। হামলার পর তাঁর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

দারুল উলুম করাচি ও শিক্ষাদান

মুফতি তাকী উসমানী দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম করাচির সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা, হাদিস, ফিকহ ও ইফতা বিষয়ে পাঠদান ও গবেষণার সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত।

তাঁর কাছে দেশ-বিদেশের অসংখ্য শিক্ষার্থী ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করেছেন। তাঁদের অনেকে বিভিন্ন দেশে মাদরাসা, মসজিদ ও ইসলামি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষক হিসেবে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং গবেষণাকর্ম তাঁকে আন্তর্জাতিক ইসলামি শিক্ষাঙ্গনে পরিচিত করেছে।

বাংলাদেশ সফর ঘিরে আগ্রহ

দীর্ঘদিনের জ্ঞানচর্চা ও আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশেও মুফতি তাকী উসমানীর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। দেশের কওমি মাদরাসার আলেম, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে তাঁর বক্তব্য ও লেখালেখি পরিচিত। বিশেষ করে হাদিস, ফিকহ ও ইসলামি অর্থনীতি বিষয়ে তাঁর গবেষণার প্রতি আগ্রহ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, আগামী ২২ নভেম্বর তিনি বাংলাদেশে পৌঁছাবেন। রাজধানীর কাওলা নামাপাড়ায় শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত ১৫ সালা দস্তারবন্দী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সফর শেষে ২৮ নভেম্বর পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এ সফরে আরও কয়েকটি ধর্মীয় সম্মেলন ও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানীর জীবন ও কর্মের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাঁর পরিচয় কেবল একজন ধর্মীয় বক্তা বা ফতোয়া প্রদানকারী আলেমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হাদিসের ব্যাখ্যা, ইসলামি আইনশাস্ত্রের গবেষণা, শরিয়াহভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ, বিচারিক দায়িত্ব পালন এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাঙ্গনে সম্পৃক্ততা তাঁর কর্মজীবনকে বহুমাত্রিক করেছে।

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে ধর্মীয় বিধিবিধানের সম্পর্ক, আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় শরিয়াহর প্রয়োগ এবং ইসলামি জ্ঞানকে গবেষণার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করার প্রচেষ্টা তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ দিক। এসব অবদানের কারণেই তিনি সমকালীন মুসলিম বিশ্বের পরিচিত ও আলোচিত ইসলামি চিন্তাবিদদের একজন।

মন্তব্য