fbpx fbpx fbpx
দাওয়াতুল ইসলাম ২৪
শনিবার, ০৭, নভেম্বর, ২০২৬ , ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
কুরআন প্রজেক্টে হাদিয়া দিন

শিশুর প্রথম শিক্ষক বাবা-মা, ঘর থেকেই শুরু হোক শিক্ষার হাতেখড়ি

মুফতি আব্দুল্লাহ আল হাদী (এম.এ, ঢাবি), শিশুশিক্ষা ও প্যারেন্টিং গবেষক, চেয়ারম্যান ফিকরাহ

ভাষা শেখা, বই পড়ার অভ্যাস, প্রশ্ন করার স্বাধীনতা, গল্প বলা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজন পারিবারিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও ইসলামী আদর্শের চর্চা। একটি শিশুর পৃথিবী চেনার প্রথম পাঠ শুরু হয় পরিবার থেকে। জন্মের পর মা-বাবার মুখের ভাষা, পরিবারের মানুষের আচরণ, ভালোবাসা, স্নেহ, শাসন ও পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়েই তার শেখার যাত্রা শুরু হয়। বিদ্যালয়ে যাওয়ার অনেক আগেই শিশু পরিবার থেকে ভাষা, শিষ্টাচার, সামাজিকতা, নৈতিকতা ও জীবনযাপনের নানা শিক্ষা পেতে থাকে। এ কারণে মা-বাবাকে শিশুর প্রথম ও প্রধান শিক্ষক বলা হয়। শিশুর ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্ব, চিন্তাশক্তি ও মূল্যবোধ গঠনে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুশিক্ষা মানেই শুধু বর্ণমালা শেখানো, সংখ্যা চেনানো কিংবা বইয়ের পাতা মুখস্থ করানো নয়। বরং তার মধ্যে জানার আগ্রহ, কৌতূহল, মানবিকতা, সৃজনশীলতা ও ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা তৈরি করাই প্রকৃত শিক্ষার উদ্দেশ্য। আর এই শিক্ষার ভিত্তি তৈরি করতে হয় ঘর থেকেই।

ভাষা শেখার প্রথম পাঠ পরিবারে

শিশুর ভাষা বিকাশের প্রধান ক্ষেত্র হলো পরিবার। জন্মের পর থেকে মা-বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের কথা শুনে শিশু ধীরে ধীরে শব্দের সঙ্গে পরিচিত হয়। পরিচিত মানুষ, বস্তু, প্রকৃতি ও দৈনন্দিন কাজের নাম শেখার মধ্য দিয়ে তার শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হয়। শিশুর সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, ছড়া শোনানো, গল্প বলা এবং তার কথার উত্তর দেওয়া ভাষা শেখার প্রক্রিয়াকে সহজ করে। অনেক সময় শিশুরা ভুল উচ্চারণে কথা বলে। তখন তাকে বকাঝকা না করে সঠিক শব্দটি ভালোবাসার সঙ্গে শিখিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। শিশুর সঙ্গে কথা বলার সময় সহজ ও শুদ্ধ ভাষা ব্যবহার করা উচিত। পরিবারের সদস্যরা নিজেরা যদি সুন্দরভাবে কথা বলেন, শিশু তা অনুকরণ করতে শেখে। ইসলামেও সুন্দর কথা বলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের সঙ্গে উত্তম কথা বলো।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত ৮৩)। এই শিক্ষা শিশুর ভাষা ও আচরণ গঠনে পারিবারিক চর্চার মাধ্যমে তুলে ধরা যায়। তাকে ছোটবেলা থেকেই সত্য বলা, কাউকে কষ্ট না দেওয়া এবং সুন্দরভাবে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে শেখাতে হবে।

বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠুক শৈশব থেকেই বই শিশুর চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করে। নতুন শব্দ শেখার পাশাপাশি বই পড়ার মাধ্যমে শিশু বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারে, কল্পনাশক্তি বাড়ে এবং মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা তৈরি হয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন, টেলিভিশন ও ডিজিটাল বিনোদনের প্রতি শিশুদের আকর্ষণ বাড়ছে। ফলে অনেক পরিবারে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠার আগেই শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে স্মার্টফোন। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে মা-বাবাকে সচেতন হতে হবে। শিশুর বয়স উপযোগী ছবির বই, ছড়ার বই, গল্পের বই ও শিক্ষামূলক বই ঘরে রাখতে হবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু সময় শিশুকে বই পড়ে শোনানো যেতে পারে। বইয়ের ছবি দেখিয়ে গল্প তৈরি করতে উৎসাহিত করলে তার কল্পনাশক্তিও বাড়বে। ইসলামের প্রথম অবতীর্ণ বাণী ছিল ‘ইকরা’, অর্থাৎ পড়ো। পবিত্র কোরআনের সুরা আলাকের প্রথম আয়াতে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা জ্ঞান অর্জনের গুরুত্বকে তুলে ধরে। তাই শিশুকে ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলা ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও সাধারণ শিক্ষার সুন্দর সমন্বয় হতে পারে।

প্রশ্ন করার স্বাধীনতা বাড়ায় চিন্তাশক্তি

শিশুরা স্বভাবতই কৌতূহলী। আকাশ নীল কেন, বৃষ্টি হয় কীভাবে, পাখি উড়ে কীভাবে কিংবা মানুষ ঘুমায় কেন, এমন অসংখ্য প্রশ্ন তাদের মনে জন্ম নেয়। এসব প্রশ্নের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে শেখার আগ্রহ ও চিন্তার বিকাশ। কিন্তু অনেক সময় বড়রা শিশুর প্রশ্নকে বিরক্তিকর মনে করেন। ব্যস্ততার কারণে উত্তর দিতে চান না, আবার কখনো বকাঝকা করে থামিয়ে দেন। এতে শিশুর জানার আগ্রহ কমে যেতে পারে। বরং তার প্রতিটি প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। উত্তর জানা থাকলে সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলতে হবে। উত্তর জানা না থাকলে একসঙ্গে বই দেখে বা প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করার অভ্যাস তৈরি করা যেতে পারে। ইসলাম জ্ঞান অর্জন, চিন্তা ও পর্যবেক্ষণকে উৎসাহিত করে। পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন স্থানে মানুষকে আকাশ, পৃথিবী, প্রকৃতি ও সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তা করতে বলা হয়েছে। সুরা আলে ইমরানের ১৯০-১৯১ নম্বর আয়াতে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে চিন্তাশীল মানুষের জন্য নিদর্শনের কথা উল্লেখ রয়েছে। শিশুকে প্রশ্ন করতে দেওয়া এবং যুক্তি দিয়ে বিষয় বুঝতে শেখানো এই শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে তার বয়স ও বোঝার ক্ষমতা অনুযায়ী উত্তর দেওয়াও জরুরি।

গল্প বলার মধ্য দিয়ে নৈতিক শিক্ষার বিকাশ

গল্প শিশুর শেখার অন্যতম আনন্দদায়ক মাধ্যম। একটি সুন্দর গল্পের মাধ্যমে তাকে সততা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, ধৈর্য, সাহস ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা দেওয়া যায়। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে মা-বাবার মুখে গল্প শোনার অভ্যাস শিশুর সঙ্গে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করে। ইসলামের ইতিহাসে রয়েছে অসংখ্য শিক্ষণীয় ঘটনা। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের সততা, ক্ষমাশীলতা, ধৈর্য, দয়া ও মানবিকতার ঘটনা শিশুকে সহজ ভাষায় শোনানো যেতে পারে। হযরত ইউসুফ (আ.)-এর জীবনের ঘটনা থেকে ধৈর্য ও সততার শিক্ষা দেওয়া যায়। হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর জীবনের ঘটনা থেকে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্যের শিক্ষা তুলে ধরা যায়। তবে গল্প বলার সময় শিশুর বয়স ও মানসিক পরিপক্বতা বিবেচনা করতে হবে। ভয় দেখিয়ে বা শাস্তির আতঙ্ক তৈরি করে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে ভালোবাসা, দয়া ও ইতিবাচক উদাহরণের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরা প্রয়োজন।

সৃজনশীল চিন্তা ও খেলাধুলার গুরুত্ব

শিশুর মানসিক বিকাশে খেলাধুলা, ছবি আঁকা, রং করা, গান, ছড়া, মাটি দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি এবং ছোট ছোট কাজের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব কাজের মাধ্যমে শিশু নিজের চিন্তা প্রকাশ করতে শেখে। কোনো একটি সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা তার সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। শিশু কোনো ছবি আঁকলে সেটি সুন্দর হয়নি বলে সমালোচনা করা উচিত নয়। বরং সে কী এঁকেছে, কেন এঁকেছে, তা জানতে চাওয়া যেতে পারে। নিজের মতো করে খেলনা সাজানো, গল্প তৈরি করা কিংবা নতুন কিছু বানানোর সুযোগ দিলে তার কল্পনাশক্তি বিকশিত হয়। ইসলামও মানুষের উপকারী কাজ, পরিশ্রম ও দায়িত্বশীলতাকে গুরুত্ব দেয়। শিশুকে নিজের খেলনা গুছিয়ে রাখা, বই নির্দিষ্ট স্থানে রাখা কিংবা পরিবারের ছোটখাটো কাজে সহযোগিতা করার অভ্যাস শেখানো যেতে পারে। এতে তার মধ্যে দায়িত্ববোধ ও শৃঙ্খলা তৈরি হবে।

ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে চরিত্র গঠন

শিশুর শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশ। ছোটবেলা থেকেই তাকে সত্য বলা, বড়দের সম্মান করা, ছোটদের স্নেহ করা, প্রতিবেশীর প্রতি সদয় হওয়া, অন্যের জিনিস অনুমতি ছাড়া ব্যবহার না করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিতে হবে। পবিত্র কোরআনের সুরা লোকমানে হযরত লোকমান (আ.)-এর উপদেশে সন্তানকে আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা, নামাজ প্রতিষ্ঠা, সৎকাজের নির্দেশ, অসৎকাজ থেকে নিষেধ এবং ধৈর্য ধারণের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। (সুরা লোকমান, আয়াত ১৩-১৯)। এসব উপদেশ শিশুর নৈতিক ও আত্মিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। তবে শুধু মুখে উপদেশ দিলেই হবে না। মা-বাবাকে নিজেদের আচরণে এসব গুণের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। বাবা-মা যদি মিথ্যা বলেন, অন্যের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন কিংবা প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করেন, তাহলে শিশুকে শুধু সত্যবাদী হওয়ার উপদেশ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। শিশুরা কথার চেয়ে কাজ বেশি অনুকরণ করে।

মা-বাবার আচরণই শিশুর সবচেয়ে বড় পাঠ্যবই

শিশুর সামনে মা-বাবার পারস্পরিক আচরণ, পরিবারের পরিবেশ এবং অন্য মানুষের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গভীর প্রভাব ফেলে। পরিবারে নিয়মিত ঝগড়া, চিৎকার, অপমান কিংবা অশালীন ভাষার ব্যবহার শিশুর মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিপরীতে ভালোবাসা, সম্মান, সহনশীলতা ও সহযোগিতার পরিবেশ শিশুকে মানসিকভাবে নিরাপদ বোধ করতে সাহায্য করে। শিশুর সঙ্গে সময় কাটানোও অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন কিছু সময় শুধু তার জন্য রাখা উচিত। এ সময় মোবাইল ফোন বা টেলিভিশন থেকে দূরে থেকে তার কথা শুনতে হবে, খেলতে হবে এবং দিনের অভিজ্ঞতা জানতে চাইতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) শিশুদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ছিলেন। তিনি শিশুদের সঙ্গে কোমল আচরণ করতেন এবং তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শনের শিক্ষা দিয়েছেন। সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিমে শিশুদের প্রতি দয়া ও স্নেহ প্রদর্শনের বিষয়ে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এসব শিক্ষা মা-বাবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আদর্শ।

প্রযুক্তির ব্যবহারেও প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি থেকে শিশুকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা সম্ভব নয়। তবে বয়স অনুযায়ী প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখা বা গেম খেলার পরিবর্তে বই পড়া, খেলাধুলা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং প্রকৃতি পর্যবেক্ষণে উৎসাহিত করতে হবে। শিশু কী দেখছে, কী শিখছে এবং কোন ধরনের কনটেন্টে সময় কাটাচ্ছে, সেদিকে মা-বাবার নজর রাখা জরুরি। নিজেরাও শিশুর সামনে অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার কমিয়ে আনতে পারেন। কারণ শিশুর কাছে মা-বাবার আচরণই সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

ঘরই হোক শিশুর শিক্ষার প্রথম পাঠশালা

শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি যত মজবুত হবে, পরবর্তী জীবনে তার শেখার পথ তত সহজ হবে। এ জন্য দামি খেলনা, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ কিংবা বড় বাড়ির প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশ, সময়, ধৈর্য এবং সচেতন অভিভাবকত্ব। মা-বাবা শিশুকে কথা বলার সুযোগ দেবেন, প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করবেন, বই পড়বেন, গল্প শোনাবেন এবং নিজের কাজের মাধ্যমে নৈতিকতার শিক্ষা দেবেন। পাশাপাশি নামাজ, দোয়া, কোরআন শিক্ষা ও ইসলামী আদব-কায়দার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন। তবে সবকিছুই হতে হবে শিশুর বয়স ও মানসিক সক্ষমতা অনুযায়ী, আনন্দময় ও চাপমুক্ত পরিবেশে। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি শিশু আলাদা বৈশিষ্ট্য ও সম্ভাবনা নিয়ে বেড়ে ওঠে। কেউ দ্রুত শেখে, কেউ একটু সময় নেয়। তাই অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা না করে তার নিজস্ব সক্ষমতা ও আগ্রহকে গুরুত্ব দিতে হবে। পবিত্র কোরআনে সুরা আত-তাহরিমের ৬ নম্বর আয়াতে নিজেদের ও পরিবারকে আগুন থেকে রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আয়াত পারিবারিক দায়িত্ব ও সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালনার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। একটি শিশুকে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার উপযোগী করে গড়ে তোলাই মা-বাবার দায়িত্ব নয়; তাকে সৎ, মানবিক, দায়িত্বশীল, জ্ঞানপিপাসু ও বিবেকবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই মানুষ গড়ার কাজ শুরু হোক ঘর থেকেই। কারণ বিদ্যালয় শিশুকে পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দেয়, কিন্তু জীবনের প্রথম পাঠ, মূল্যবোধ ও চরিত্র গঠনের ভিত্তি তৈরি করে পরিবার। বাবা-মায়ের ভালোবাসা, আদর্শ ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে আলোকিত আগামী প্রজন্ম।

মন্তব্য