fbpx fbpx fbpx
দাওয়াতুল ইসলাম ২৪
বুধবার, ০৪, নভেম্বর, ২০২৬ , ২০ কার্তিক ১৪৩৩
কুরআন প্রজেক্টে হাদিয়া দিন

মহাবিশ্বের সূচনা: বিগ ব্যাং তত্ত্ব ও কোরআনের সৃষ্টিতত্ত্ব

শূন্যতা থেকে কীভাবে সৃষ্টি হলো এই বিশাল মহাবিশ্ব? কোথা থেকে এলো অসংখ্য নক্ষত্র, গ্রহ, ছায়াপথ আর প্রাণের জন্য উপযোগী পৃথিবী? মহাবিশ্বের শুরু নিয়ে মানুষের কৌতূহল বহু প্রাচীন। আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, প্রায় ১৩৮০ কোটি বছর আগে মহাবিশ্ব ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত ও ঘন অবস্থায়। এরপর শুরু হয় তার সম্প্রসারণ, যার ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠে বর্তমান মহাজাগতিক কাঠামো। অন্যদিকে পবিত্র কোরআন মানুষকে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করতে আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে সুরা আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াতে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর একত্রিত অবস্থা এবং পরে তাদের পৃথক করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই আয়াত ও বিগ ব্যাং তত্ত্বের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক রয়েছে? বিজ্ঞান ও ইসলামি চিন্তার আলোকে বিষয়টি নতুন করে ভাবার সুযোগ রয়েছে।

বিগ ব্যাং: মহাবিশ্বের সূচনা নিয়ে বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা

মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে আধুনিক বিজ্ঞানের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হলো বিগ ব্যাং তত্ত্ব। এ তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রায় ১৩৮০ কোটি বছর আগে মহাবিশ্ব অত্যন্ত উত্তপ্ত ও ঘন অবস্থা থেকে সম্প্রসারিত হতে শুরু করে। এটি কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বোমা বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ছিল না; বরং স্থান নিজেই সম্প্রসারিত হতে থাকে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থায় পদার্থ, শক্তি, স্থান ও সময়ের বর্তমান পরিচিত কাঠামো ছিল না। সময়ের সঙ্গে মহাবিশ্ব শীতল হতে থাকে। প্রথমে গঠিত হয় মৌলিক কণা, পরে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের মতো হালকা মৌল। দীর্ঘ সময় পর মহাকর্ষের প্রভাবে গ্যাসের মেঘ ঘনীভূত হয়ে জন্ম নেয় প্রথম নক্ষত্র ও ছায়াপথ।

এই তত্ত্বের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া যায় কয়েকটি বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণে। এর মধ্যে রয়েছে দূরবর্তী ছায়াপথের লোহিত অপসারণ (রেডশিফট), মহাজাগতিক ক্ষুদ্রতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণ এবং মহাবিশ্বে হালকা মৌলগুলোর পরিমাণ।

১৯২০-এর দশকে জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবলের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দূরবর্তী ছায়াপথগুলো সাধারণভাবে আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এর অর্থ মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে মহাজাগতিক ক্ষুদ্রতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণ আবিষ্কার বিগ ব্যাং তত্ত্বকে আরও শক্তিশালী ভিত্তি দেয়।

১৯৬৫ সালে বিজ্ঞানী আর্নো পেনজিয়াস ও রবার্ট উইলসন এই বিকিরণ শনাক্ত করেন। এটি মহাবিশ্বের প্রাথমিক উত্তপ্ত অবস্থার অবশিষ্ট তাপীয় বিকিরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। তাদের এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। সুরা আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াতে কী বলা হয়েছে?

পবিত্র কোরআনের সুরা আল-আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন: আরবি: أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ

উচ্চারণ: আওয়ালাম ইয়ারাল্লাযিনা কাফারু আন্নাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা কানাতা রাতকান ফাফাতাকনাহুমা, ওয়া জা‘আলনা মিনাল মাইয়ি কুল্লা শাইয়িন হাইয়িন, আফালা ইউমিনুন।

অর্থ: অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী একত্রে মিশে ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিয়েছি? আর প্রাণবন্ত সবকিছু সৃষ্টি করেছি পানি থেকে। তবু কি তারা বিশ্বাস করবে না?

আয়াতটিতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর একত্রিত অবস্থা থেকে পৃথক হওয়ার কথা। দ্বিতীয়ত, জীবনের সঙ্গে পানির অপরিহার্য সম্পর্ক।

আরবি ‘রাতক’ শব্দের অর্থ বন্ধ, সংযুক্ত বা একত্রিত অবস্থা। অন্যদিকে ‘ফাতক’ বলতে পৃথক করা, খুলে দেওয়া বা বিচ্ছিন্ন করার অর্থ বোঝায়। আয়াতের এই ভাষা মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও জীবনের উৎপত্তি নিয়ে চিন্তার সুযোগ তৈরি করে।

ইসলামি তাফসিরকারকদের ব্যাখ্যায় আয়াতটির বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। ইবনে আব্বাস (রা.)-এর নামে বর্ণিত একটি ব্যাখ্যায় আকাশ ও পৃথিবী একত্রিত থাকার পর পৃথক হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবার কিছু প্রাচীন তাফসিরে আকাশ থেকে বৃষ্টি এবং পৃথিবী থেকে উদ্ভিদ উৎপন্ন হওয়ার বিষয়টিকেও পৃথক করার ব্যাখ্যার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

অর্থাৎ আয়াতটির ব্যাখ্যা শুধু একটি বৈজ্ঞানিক ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর ভাষা ও তাফসিরে সৃষ্টিজগতের বিভিন্ন নিদর্শন তুলে ধরা হয়েছে।

মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ও কোরআনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত

মহাবিশ্বের সৃষ্টি নিয়ে কোরআনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য আয়াত রয়েছে সুরা আয-যারিয়াতের ৪৭ নম্বর আয়াতে।

আরবি: وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ

উচ্চারণ: ওয়াস সামাআ বানাইনাহা বি আইদিন ওয়া ইন্না লামূসি‘উন।

অর্থ: আর আকাশকে আমি নির্মাণ করেছি শক্তি দ্বারা এবং নিশ্চয়ই আমি এর সম্প্রসারণকারী।

এই আয়াতের শেষাংশে ব্যবহৃত ‘লামূসি‘উন’ শব্দটির অর্থ ও ব্যাখ্যা নিয়ে ইসলামি চিন্তাবিদদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। কেউ কেউ এটিকে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখেন। তবে আয়াতটির তাফসির ও ভাষাগত ব্যাখ্যা বিবেচনা না করে একে সরাসরি আধুনিক কসমোলজির সূত্র হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।

বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত বিষয়। দূরবর্তী ছায়াপথের আলো বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মহাবিশ্বের বৃহৎ পরিসরে ছায়াপথগুলো পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এর অর্থ মহাবিশ্বের স্থান নিজেই প্রসারিত হচ্ছে।

বিগ ব্যাং কি মহাবিশ্বের সব রহস্যের উত্তর?

বিগ ব্যাং তত্ত্ব মহাবিশ্বের প্রাথমিক উত্তপ্ত ও ঘন অবস্থা থেকে বর্তমান অবস্থায় বিবর্তনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়। তবে মহাবিশ্বের একেবারে প্রথম মুহূর্তে কী ঘটেছিল, তার আগে কী ছিল কিংবা কেন মহাবিশ্বের অস্তিত্ব শুরু হলো, এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর বিজ্ঞান এখনো দিতে পারেনি।

বিশেষ করে মহাবিশ্বের প্রাথমিক মুহূর্তে প্রচলিত পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলো কীভাবে কাজ করেছিল, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। মহাকর্ষের সাধারণ তত্ত্ব এবং কোয়ান্টাম বলবিদ্যাকে একীভূত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা তৈরির চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।

নাসার গবেষণা অনুযায়ী, মহাবিশ্বের বয়স আনুমানিক ১৩৮০ কোটি বছর। বিগ ব্যাংয়ের প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার বছর পর মহাবিশ্ব এতটাই শীতল হয় যে আলো স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারে। সেই সময়ের বিকিরণই বর্তমানে মহাজাগতিক ক্ষুদ্রতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণ হিসেবে শনাক্ত করা যায়।

এ ছাড়া মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের হার নিয়েও বিজ্ঞানীদের মধ্যে গবেষণা চলছে। বিভিন্ন পদ্ধতিতে পরিমাপ করা সম্প্রসারণের হারের মধ্যে পার্থক্য পাওয়া যাচ্ছে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানে হাবল টেনশন নামে পরিচিত। ফলে মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান বাড়লেও অনেক রহস্য এখনো অমীমাংসিত।

পানি ও প্রাণের সম্পর্ক: কোরআনের বক্তব্যের বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য

সুরা আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াতের দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে, আল্লাহ পানি থেকে সব জীবন্ত বস্তু সৃষ্টি করেছেন। জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পানির গুরুত্ব অপরিসীম। পৃথিবীর পরিচিত সব জীবের কোষীয় কার্যক্রমে পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মানবদেহের বিপাকক্রিয়া, উদ্ভিদের খাদ্য তৈরি, প্রাণীর দেহে পুষ্টি পরিবহন এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম পানির ওপর নির্ভরশীল। পানি ছাড়া পরিচিত জীবনব্যবস্থা টিকে থাকা সম্ভব নয়।

বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর বাইরে প্রাণের সন্ধানেও পানির উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করেন। মঙ্গল গ্রহ, ইউরোপা ও এনসেলাডাসের মতো মহাজাগতিক বস্তুতে পানি বা বরফের অস্তিত্ব নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে কোথাও তরল পানি পাওয়া গেলেই সেখানে প্রাণ রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

কোরআনের এই বক্তব্য মানুষকে জীবনের জন্য পানির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে এবং সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তা করতে উৎসাহিত করে। আয়াতের ধর্মীয় বক্তব্য ও জীববিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণ এখানে পাশাপাশি আলোচনার সুযোগ তৈরি করে।

ইসলাম কি বিজ্ঞানচর্চাকে উৎসাহিত করে?

ইসলামে জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। পবিত্র কোরআনের প্রথম নাজিল হওয়া আয়াতগুলোর শুরুতেই পড়ার নির্দেশ এসেছে।

সুরা আলাকের প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে: اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ অর্থ: পড়ো তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।

কোরআনের বিভিন্ন স্থানে আকাশ, পৃথিবী, দিন-রাতের পরিবর্তন, বৃষ্টি, পাহাড়, সমুদ্র ও প্রাণিজগত নিয়ে চিন্তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সুরা আলে ইমরানের ১৯০-১৯১ নম্বর আয়াতে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং রাত-দিনের পরিবর্তনকে বুদ্ধিমান মানুষের জন্য নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামের ইতিহাসেও বিজ্ঞানচর্চার উজ্জ্বল অধ্যায় রয়েছে। আল-খাওয়ারিজমি গণিত ও বীজগণিতের বিকাশে, ইবনে আল-হাইসাম আলোকবিজ্ঞানে এবং আল-বিরুনি জ্যোতির্বিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিমাপবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাদের গবেষণা পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিজ্ঞানের বিকাশে ভূমিকা রাখে।

এ থেকে বোঝা যায়, প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ, যুক্তি প্রয়োগ ও জ্ঞান অনুসন্ধান মুসলিম সভ্যতার ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিজ্ঞান ও ধর্মের ব্যাখ্যা: কোথায় পার্থক্য?

বিগ ব্যাং তত্ত্ব ও কোরআনের সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। বিজ্ঞান এবং ধর্ম একই পদ্ধতিতে প্রশ্নের উত্তর দেয় না।

বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা, গাণিতিক বিশ্লেষণ ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রাকৃতিক ঘটনা ব্যাখ্যা করে। অন্যদিকে ধর্ম সৃষ্টির উদ্দেশ্য, স্রষ্টার ক্ষমতা, মানুষের দায়িত্ব এবং অস্তিত্বের অর্থ সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেয়।

সুরা আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াতকে বিগ ব্যাং তত্ত্বের সঙ্গে তুলনা করে আলোচনা করা যায়। তবে কোরআনের আয়াতকে আধুনিক বিজ্ঞানের কোনো নির্দিষ্ট তত্ত্বের সঙ্গে সম্পূর্ণ অভিন্ন ঘোষণা করা উচিত নয়। কারণ বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব নতুন পর্যবেক্ষণের আলোকে পরিমার্জিত হতে পারে, আর ধর্মীয় আয়াতের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ভাষা, প্রেক্ষাপট ও তাফসির বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ইসলামি চিন্তায় সৃষ্টিজগতের নিদর্শন নিয়ে চিন্তা করা এবং স্রষ্টার ক্ষমতা উপলব্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে বিজ্ঞান মহাবিশ্বের গঠন ও বিবর্তন সম্পর্কে মানুষের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করছে।

অজানাকে জানার অনুসন্ধান চলছেই

মহাবিশ্বের বিশালতা মানুষের চিন্তাশক্তিকে প্রতিনিয়ত বিস্মিত করে। কোটি কোটি ছায়াপথ, অসংখ্য নক্ষত্র, গ্রহ এবং অজানা মহাজাগতিক বস্তু নিয়ে গবেষণা চলছে। আধুনিক টেলিস্কোপ ও মহাকাশযানের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের অতীত সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছেন।

অন্যদিকে পবিত্র কোরআন মানুষকে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করতে আহ্বান জানায়। সুরা আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াত সেই চিন্তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

মহাবিশ্বের সূচনা সম্পর্কে বিজ্ঞান যতই অগ্রসর হোক, মানুষের সামনে নতুন প্রশ্ন তৈরি হবে। বিগ ব্যাং তত্ত্ব মহাবিশ্বের বিবর্তনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে, কিন্তু অস্তিত্বের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য সম্পর্কে উত্তর দেওয়া বিজ্ঞানের কাজ নয়।

সৃষ্টি নিয়ে গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও জ্ঞান অনুসন্ধান মানুষের সামনে মহাবিশ্বের বিস্ময়কর দিকগুলো উন্মোচন করছে। আর ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই সৃষ্টিজগতের নিদর্শন মানুষকে স্রষ্টার ক্ষমতা ও প্রজ্ঞা নিয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে।

মহাবিশ্বের বিশালতা তাই শুধু বিজ্ঞানীদের গবেষণার বিষয় নয়, এটি মানুষের জ্ঞান, বিশ্বাস ও চিন্তার জগতেও এক অনন্ত অনুসন্ধানের নাম।

মন্তব্য