সুরা আল-ইনশিকাক- উচ্চারণ, অনুবাদ ও ব্যাখ্যা
|
সূরার
নাম : আল ইন্শিকাক |
অর্থ
: খন্ড-বিখন্ড করণ |
|
সূরা
নং : ৮৪ |
রুকু
: ১ |
|
আয়াত:
২৫ |
সিজদা:
০ |
|
শব্দ:
১০৮ |
পারা
: ৩০ |
|
অক্ষর:
৪৩৬ |
মক্কায়
অবতীর্ণ |
بِسْمِاللّهِالرَّحْمـَنِالرَّحِيمِ
শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
|
নং |
আরবি |
উচ্চারণ |
অনুবাদ |
|
১ |
اِذَاالسَّمَآءُانْشَقَّتْ |
ইযাছ ছামাউন শাক্কাত। |
যখন আসমান ফেটে যাবে, |
|
২ |
وَاَذِنَتْلِرَبِّهَاوَحُقَّتْ |
ওয়া আযিনাত লিরাব্বিহা-ওয়া
হুক্কাত। |
এবং স্বীয় রব-এর নির্দেশ পালন
করবে, আর
তাই তার করণীয়। |
|
৩ |
وَاِذَاالْاَرْضُمُدَّتْ |
ওয়া ইযাল আরদুমুদ্দাত। |
এবং যখন পৃথিবীকে সম্প্রসারিত করা
হবে। |
|
৪ |
وَاَلْقَتْمَافِيْهَاوَتَخَلَّتْ |
ওয়া আল কাত মা-ফীহা-ওয়া
তাখাল্লাত। |
এবং পৃথিবী তার গর্ভস্থিত সবকিছু
বাইরে নিক্ষেপ করবে ও শুন্যগর্ভ হয়ে যাবে। |
|
৫ |
وَاَذِنَتْلِرَبِّهَاوَحُقَّتْ |
ওয়া আযিনাত লিরাব্বিহা-ওয়া
হুক্কাত। |
এবং তার পালনকর্তার আদেশ পালন
করবে এবং পৃথিবী এরই উপযুক্ত। |
|
৬ |
يٰۤاَيُّهَاالْاِنْسَانُاِنَّكَكَادِحٌاِلٰىرَبِّكَكَدْحًافَمُلٰقِيْهِ |
ইয়াআইয়ুহাল ইনছা-নুইন্নাকা
কা-দিহুন ইলা-রাব্বিকা কাদহান ফামুলা-কীহ। |
হে মানুষ! তোমাকে তোমার রব
পর্যন্ত পৌঁছতে বহু কষ্ট স্বীকার করতে হবে, অতঃপর তুমি তার সাক্ষাৎ লাভ করবে। |
|
৭ |
فَاَمَّامَنْاُوْتِيَكِتٰبَهٗبِيَمِيْنِهٖ |
ফাআম্মা-মান ঊতিয়া
কিতা-বাহূবিয়ামীনিহ। |
যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া
হবে |
|
৮ |
فَسَوْفَيُحَاسَبُحِسَابًايَّسِيْرًا |
ফাছাওফা ইউহা-ছাবুহিছা-বাইঁ
ইয়াছীরা-। |
তার হিসাব-নিকাশ সহজে হয়ে যাবে |
|
৯ |
وَّيَنْقَلِبُاِلٰۤىاَهْلِهٖمَسْرُوْرًا |
ওয়া ইয়ানকালিবুইলা-আহলিহী
মাছরূরা-। |
সে তার স্বজনদের কাছে সানন্দে
ফিরে যাবে। |
|
১০ |
وَاَمَّامَنْاُوْتِيَكِتٰبَهٗوَرَآءَظَهْرِهٖ |
ওয়া আম্মা-মান ঊতিয়া
কিতা-বাহূওয়ারাআ জাহরিহ। |
এবং যাকে তার আমলনামা পিঠের
পশ্চাদ্দিক থেকে দেয়া, হবে, |
|
১১ |
فَسَوْفَيَدْعُوْاثُبُوْرًا |
ফাছাওফা ইয়াদ‘ঊ ছুবূরা-। |
সে মৃত্যুকে আহবান করবে, |
|
১২ |
وَّيَصْلٰىسَعِيْرًا |
ওয়া ইয়াসলা-ছা‘ঈরা-। |
এবং জাহান্নামে প্রবেশ করবে। |
|
১৩ |
اِنَّهٗكَانَفِيْۤاَهْلِهٖمَسْرُوْرًا |
ইন্নাহূকা-না ফীআহলিহী মাছরূরা-। |
সে তার পরিবার-পরিজনের মাঝে
আনন্দে মগ্ন ছিল, |
|
১৪ |
اِنَّهٗظَنَّاَنْلَّنْيَّحُوْرَ |
ইন্নাহূজান্না আল্লাইঁ ইয়াহূরা। |
সে ভাবত যে, সে কক্ষনো (আল্লাহর কাছে) ফিরে
যাবে না। |
|
১৫ |
بَلٰۤى ۛ اِنَّرَبَّهٗكَانَبِهٖبَصِيْرًا |
বালা-ইন্না রাব্বাহূকা-না বিহী
বাসীরা-। |
অবশ্যই ফিরে যাবে, তার প্রতিপালক তার প্রতি দৃষ্টি
রাখছেন। |
|
১৬ |
فَلَاۤاُقْسِمُبِالشَّفَقِ |
ফালাউকছিমুবিশশাফাক। |
আমি শপথ করি সন্ধ্যাকালীন লাল
আভার |
|
১৭ |
وَالَّيْلِوَمَاوَسَقَ |
ওয়াল্লাইলি ওয়ামা-ওয়াছাক। |
এবং রাত্রির, এবং তাতে যার সমাবেশ ঘটে |
|
১৮ |
وَالْقَمَرِاِذَااتَّسَقَ |
ওয়ালকামারি ইযাত্তাছাক। |
এবং চন্দ্রের, যখন তা পূর্ণরূপ লাভ করে, |
|
১৯ |
لَتَرْكَبُنَّطَبَقًاعَنْطَبَقٍ |
লাতারকাবুন্না তাবাকান ‘আন তাবাক। |
অবশ্যই তোমরা (আধ্যাত্মিক ও
জাগতিক সর্বক্ষেত্রে) স্তরে স্তরে উন্নতির সিঁড়ি বেয়ে উর্ধ্বে উঠবে |
|
২০ |
فَمَالَهُمْلَايُؤْمِنُوْنَ |
ফামা-লাহুম লা-ইউ’মিনূন। |
অতএব, তাদের কি হল যে, তারা ঈমান আনে না? |
|
২১ |
وَاِذَاقُرِئَعَلَيْهِمُالْقُرْاٰنُلَايَسْجُدُوْنَ |
ওয়া ইযা-কুরিআ ‘আলাইহিমুল
কুরআ-নুলা-ইয়াছজুদূন (ছিজদাহ-১৩)। |
যখন তাদের কাছে কোরআন পাঠ করা হয়, তখন সেজদা করে না। |
|
২২ |
بَلِالَّذِيْنَكَفَرُوْايُكَذِّبُوْنَ |
বালিল্লাযীনা কাফারূইউকাযযিবূন। |
বরং কাফেররা এর প্রতি মিথ্যারোপ
করে। |
|
২৩ |
وَاللّٰهُاَعْلَمُبِمَايُوْعُوْنَ |
ওয়াল্লা-হু আ‘লামুবিমা-ইয়ূ‘ঊন। |
তারা যা সংরক্ষণ করে, আল্লাহ তা জানেন। |
|
২৪ |
فَبَشِّرْهُمْبِعَذَابٍاَلِيْمٍ |
ফাবাশশিরহুম বি‘আযা-বিন আলীম। |
অতএব, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির
সুসংবাদ দিন। |
|
২৫ |
اِلَّاالَّذِيْنَاٰمَنُوْاوَعَمِلُواالصّٰلِحٰتِلَهُمْاَجْرٌغَيْرُمَمْنُوْنٍ |
ইল্লাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুস
সা-লিহা-তি লাহুম আজরুন গাইরু মামনূন। |
কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও
সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার। |
শানে
নুযুল :
সূরাটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামের মক্কীজীবনের প্রাথমিক পর্যায়ের অবতীর্ণ সূরাগুলোর একটি। এই সূরা
অবতীর্ণ হওয়ার পূর্ব পর্যায়ে কাফেররা কুরআনের আদর্শ ও আহ্বানকে প্রকাশ্যভাবে
মিথ্যা মনে করেছিল এবং কিয়ামত দিবসে তাদেরকে যে হিসাব-নিকাশ দেওয়ার জন্য আল্লাহর
সম্মুখে উপস্থিত হতে হবে,
এ কথা মেনে নিতে স্পষ্ট অস্বীকার করেছিল । আল্লাহ তা’আলা উক্ত সূরাটি অবতীর্ণ
করে তাদের সেই মিথ্যা ও ভ্রান্ত বিশ্বাসকে নিরসন করেছেন।
বিষয়বস্তু
সূরা ইশিকাকের মূল বিষয়বস্তু হলো, কিয়ামত ও
পরকাল। কিয়ামতের পরিস্থিতি সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে, সেদিন আসমান বিদীর্ণ হবে, জমিন
সম্প্রসারিত করে সমতল বানিয়ে দেওয়া হবে। মাটির গর্তে যা কিছু লুকানো রয়েছে, তা সবই
বাইরে নিক্ষিপ্ত হবে। আর পরকালে মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হবে। এক ভাগ লোকের ডান হাতে
আমলনামা দেওয়া হবে এবং জান্নাতের নিয়ামত ভোগ করবে। আর অপর ভাগের লোকেরা নিজেদের
অসৎ কর্মের দরুন তাদের পেছনের দিক হতে আমলনামা দেওয়া হবে এবং জাহান্নামে
নিক্ষিপ্ত হবে।
পোস্ট
ট্যাগ:
Dawatul
Islam,Dawatul Islam
Bangladesh,Definitions of dawatul islam,Dawatul Islam UK,দাওয়াতুল
ইসলাম,দাওয়াতুল ইসলামের,দাওয়াতুল ইসলাম
বাংলাদেশ,দাওয়াতুল ইসলাম ইউকে,বাংলা হাদিস,কোরআন ও হাদিসের আলোকে,কুরআন হাদিস বিষয়ক,কুরআন পাঠ,মানবজীবনে কুরআন হাদীস,কুরআন, হাদিস ও বিজ্ঞান,বাংলা কুরআন
ও হাদীস।
মন্তব্য