সুরা আল গাশিয়াহ- উচ্চারণ, অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
| আল গাশিয়াহ অর্থ | বিহ্বলকর ঘটনা |
| সূরা নং | ৮৮ |
| সিজদা | ০ |
| আয়াত | ২৬ |
| রুকু | ১ |
| পারা | ৩০ |
| মক্কায় অবতীর্ণ | |
| নং | আরবি | উচ্চারণ | অনুবাদ |
| بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ | বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম | পরম করুণাময় মহানদয়ালু আল্লাহ তায়ালার নামে শুরু করছি | |
| ১ | هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ | হাল্ আতা-কা হাদীছুল্ গশিয়াহ্ | কিয়ামতের খবর কি তোমার কাছে এসেছে? |
| ২ | وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ خَاشِعَةٌ | উজু হুঁই ইয়াওমায়িযিন্ খশি‘আতুন | সে দিন অনেক চেহারা হবে নিচু |
| ৩ | عَامِلَةٌ نَاصِبَةٌ | আমিলাতুন্ নাছিবাতুন্ | কর্মক্লান্ত, পরিশ্রান্ত |
| ৪ | تَصْلَى نَارًا حَامِيَةً | তাছ্লা নারন্ হামিয়াতান্ | তারা প্রবেশ করবে জ্বলন্ত অগ্নিশিখায় |
| ৫ | تُسْقَى مِنْ عَيْنٍ آنِيَةٍ | তুস্ক্ক-মিন্ ‘আইনিন্ আ-নিয়াহ্ | তাদের পান করানো হবে ফুটন্ত ঝর্ণা থেকে |
| ৬ | لَيْسَ لَهُمْ طَعَامٌ إِلَّا مِنْ ضَرِيعٍ | লাইসা লাহুম্ ত্বোয়া‘আ মুন্ ইল্লা মিন্ দ্বোয়ারীই’ | তাদের জন্য কাঁটাযুক্ত গুল্ম ছাড়া কোন খাদ্য থাকবে না |
| ৭ | لَا يُسْمِنُ وَلَا يُغْنِي مِنْ جُوعٍ | লা ইয়ুস্মিনু অলা ইয়ুগ্নী মিন্ জু‘ইন্ | তা মোটা তাজাও করবে না এবং ক্ষধত্বাও নিবারণ করবে না |
| ৮ | وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاعِمَةٌ | উজু হুই ইয়াওমায়িযিন্ না-‘ইমাতুল্ | সেদিন অনেক চেহারা হবে লাবণ্যময় |
| ৯ | لِسَعْيِهَا رَاضِيَةٌ | লিসা’য়িহা-র-দ্বিয়াতুন্ | নিজদের চেষ্টা সাধনায় পরিতৃপ্ত |
| ১০ | فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ | ফী জ্বান্নাতিন্ ‘আলিয়াহ | সুউচ্চ জান্নাতে |
| ১১ | لَا تَسْمَعُ فِيهَا لَاغِيَةً | লা তাস্মা‘উ ফীহা লাগিয়াহ্ | সেখানে তারা শুনবে না কোন আসার বাক্য |
| ১২ | فِيهَا عَيْنٌ جَارِيَةٌ | ফীহা ‘আইনুন্ জ্বারিয়াহ্ | সেখানে থাকবে চলমান ঝর্ণাধারা |
| ১৩ | فِيهَا سُرُرٌ مَرْفُوعَةٌ | ফীহা ছুরুরুম্ র্মাফূ ‘আতুও | সেখানে থাকবে উন্নত আসনসমূহ |
| ১৪ | وَأَكْوَابٌ مَوْضُوعَةٌ | অ আক্ওয়া বুম্ মাওদু‘আতুঁও | আর নির্মিত পান পাত্রসমূহ |
| ১৫ | وَنَمَارِقُ مَصْفُوفَةٌ | অনামা-রিকু মাছ্ ফূফাতুঁও | আর সারি সারি বালিশ সমূহ |
| ১৬ | وَزَرَابِيُّ مَبْثُوثَةٌ | অযারাবিয়্যু মাব্ছূছাহ্ | আর বিশালবিছানো কার্পেট রাজি |
| ১৭ | أَفَلَا يَنْظُرُونَ إِلَى الْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ | আফালা ইয়ান্জুরূনা ইলাল্ ইবিলি কাইফা খুলিক্বত্ | তবে কি তারা উটের প্রতি সাক্ষাৎ করে না, কীভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে? |
| ১৮ | وَإِلَى السَّمَاءِ كَيْفَ رُفِعَتْ | অইলাস্ সামায়ি কাইফা রুফি‘আত্ | আর আকাশের দিকে, কীভাবে তা ঊর্ধ্বে স্থাপন করা হয়েছে? |
| ১৯ | وَإِلَى الْجِبَالِ كَيْفَ نُصِبَتْ | অইলাল্ জ্বিবালি কাইফা নুছিবাত্ | আর পর্বতমালার দিকে, কীভাবে তা স্থাপন করা হয়েছে? |
| ২০ | وَإِلَى الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ | অইলাল্ র্আদ্বি কাইফা সুত্বিহাত্ | আর যমীনের দিকে, কীভাবে তা বিস্তীর্ণ করা হয়েছে? |
| ২১ | فَذَكِّرْ إِنَّمَا أَنْتَ مُذَكِّرٌ | ফাযার্ক্কি ইন্নামা য় আন্তা মুযার্ক্কি | অতএব হে রাসূল (স:) তুমি উপদেশ দাও, তুমি তো একজন উপদেশ দাতা মাত্র |
| ২২ | لَسْتَ عَلَيْهِمْ بِمُسَيْطِرٍ | লাস্তা ‘আলাইহিম্ বিমুসাইত্বিরিন্ | তুমি তাদের উপর শক্তি প্রয়োগকারী নও |
| ২৩ | إِلَّا مَنْ تَوَلَّى وَكَفَرَ | ইল্লা মান্ তাওয়াল্লা-অকাফার | তবে যে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং কুফরী করে |
| ২৪ | فَيُعَذِّبُهُ اللَّهُ الْعَذَابَ الْأَكْبَرَ | ফাইয়ু‘আয্যিবুহুল্ লা-হুল্ ‘আযাবাল্ আর্ক্বা | ফলে আল্লাহ তাকে কঠোর শাস্তি দেবেন |
| ২৫ | إِنَّ إِلَيْنَا إِيَابَهُمْ | ইন্না ইলাইনা য় ইইয়া-বাহুম্ | নিশ্চয় আমারই নিকট তাদের ফিরে আসাতে হবে |
| ২৬ | ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا حِسَابَهُمْ | ছুম্মা ইন্না ‘আলাইনা হিসাবাহুম্ | তারপর নিশ্চয় তাদের হিসাব-নিকাশ আমারই দায়িত্বে |
বিষয়বস্তু
সুরাটির বিষয়বস্তু অনুধাবন করার জন্য এ কথাটি অবশ্য সামনে রাখতে হবে যে , ইসলাম প্রচারের প্রথম দিকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’টি কথা লোকদেরকে বুঝাবার মধ্যেই তাঁর দাওয়াত সীমাবব্ধ রাখেন। একটি তাওহীদ ও দ্বিতীয়টি আখেরাত। আর মক্কাবাসীরা এ দু’টি কথা মেনে নিতে অস্বীকার করতে থাকে।
সবার আগে গাফলতির জীবনে আকণ্ঠ ডুবে থাকা লোকদেরকে চমকে দেবার জন্য হঠাৎ তাদের সামনে প্রশ্ন রাখা হয়েছে : তোমরা কি সে সময়ের কোন খবর রাখো যখন সারা দুনিয়ার ওপর ছেয়ে যাবার মতো একটি বিপদ অবতীর্ণ হবে ? এরপর সাথে সাথেই এর বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া শুরু হয়েছে। বলা হয়েছে , সে সময় সমস্ত মানুষ দু’টি ভিন্ন ভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে দু’টি ভিন্ন পরিণামের সম্মুখীন হবে। একদল জাহান্নামে যাবে। তাদের উমুক উমুক ধরনের ভয়াবহ ও কঠিন আযাবের সম্মুখীন হতে হবে। দ্বিতীয় দলটি উন্নত ও উচ্চ মর্যাদার জান্নাতে যাবে। তাদেরকে উমুক উমুক ধরনের নিয়ামত দান করা হবে।
এমনি করে লোকদেরকে চমকে দেবার পর হঠাৎ বিষয়বস্তু পরিবর্তিত হয়ে যায়। প্রশ্ন করা হয় , যারা কুরআনের তাওহীদী শিক্ষা ও আখেরাতের খবর শুনে নাম সিটকায় তারা কি নিজেদের চোখের সামনে প্রতি মুহূর্তে যেসব ঘটনা ঘটে যাচ্ছে সেগুলো দেখে না ? আরবের দিগন্ত বিস্তৃত সাহারায় যেসব উটের ওপর তাদের সমগ্র জীবন যাপন প্রণালী র্ভিরশীল তারা কিভাবে ঠিক মরু জীবনের উপযোগী বৈশিষ্ট ও গুণাবলী সম্পন্ন পশু হিসেবে গড়ে উঠেছে , একথা কি তারা একটুও চিন্তা করে না ? পথে সফর করার সময় তারা আকাশ , পাহাড় বা বিশাল বিস্তৃত পৃথিবী দেখে । এই তিনটি জিনিস সম্পর্কেই তারা চিন্তা করে না কেন ? মাথার ওপরে এই আকাশটি কেমন করে ছেয়ে গেলো ? সামনে ওই পাহাড় খাড়া হলো কেমন করে ? পায়ের নীচে এই যমীন কিভাবে বিছানো হলো ? এসব কিছুই কি একজন মহাবিজ্ঞ সর্বশক্তিমান কারিগরের কারিগরী তৎপরতা ছাড়াই হয়ে গেছে ? যদি একথা মেনে নেয়া হয় যে , একজন সৃষ্টিকর্তা বিপুল শক্তি ও জ্ঞানের সাহায্যে এই জিনিসগুলো তৈরি করেছেন এবং দ্বিতীয় আর কেউ তাঁর এই সৃষ্টি কর্মে শরীক নেই তাহলে তাঁকেই একক রব হিসেবে মেনে নিতে তাদের আপত্তি কেন ? আর যদি তারা একথা মেনে নিয়ে থাকে যে সেই আল্লাহর এসব কিছু সৃষ্টি করার ক্ষমতা ছিল , তাহলে সেই আল্লাহ কিয়ামত সংঘটিত করার ক্ষমতাও রাখেন , মানুষের পুর্নবার সৃষ্টি করার ক্ষমতাও রাখেন এবং জান্নাত ও জাহান্নাম বানাবার ক্ষমতাও রাখেন — এসব কথা কোন যুক্তি প্রমাণের ভিত্তিতে মানতে ইতস্তত করছে ?
অত্যন্ত শক্তিশালী যুক্তি প্রমানের ভিত্তিতে বক্তব্য বুঝানো হয়েছে। এরপর কাফেরদের দিক থেকে ফিরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করা হেয়েছে । তাঁকে বলা হয়েছে , এরা না মানতে চাইলে না মানুক , তোমাকে তো এদের ওপর বল প্রয়োগকারী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়নি । তুমি জোর করে এদের থেকে স্বীকৃতি আদায় করতে পারো না। তোমার কাজ উপদেশ দেয়া। কাজেই তুমি উপদেশ দিয়ে যেতে থাকো। সবশেষে তাদের অবশ্যি আমার কাছেই আসতে হবে । সে সময় আমি তাদের কাছ থেকে পুরো হিসেব নিয়ে নেব। যারা মানেনি তাদেরকে কঠিন শাস্তি দেবো।
মন্তব্য