fbpx fbpx fbpx
দাওয়াতুল ইসলাম ২৪
রবিবার, ০৪, অক্টোবর, ২০২৬ , ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার বাতিঘর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে সবুজে ঘেরা বিশাল ক্যাম্পাস। চারপাশে গাছপালা, গবেষণাক্ষেত্র, খামার ও জলাশয়। এর মাঝেই গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। দেশের কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নয়নে দক্ষ জনবল তৈরি এবং নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞান উদ্ভাবনে ছয় দশকের বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রায় কৃষির গুরুত্ব ঐতিহাসিকভাবে অপরিসীম। সময়ের সঙ্গে কৃষির ধরন বদলেছে, বেড়েছে প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবর্তিত হয়েছে উৎপাদন পদ্ধতি। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিজমি হ্রাস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণাক্ততা, খরা ও রোগবালাইয়ের মতো নানা চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। এসব বাস্তবতায় আধুনিক কৃষিবিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। সেই প্রয়োজন পূরণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠার পেছনে যে ভাবনা

কৃষিকে বিজ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক করার লক্ষ্যেই বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬১ সালে ময়মনসিংহে পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টির মূল লক্ষ্য ছিল কৃষি ও কৃষিসংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষ জনবল তৈরি করা। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষত্ব হলো, এখানে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার পাশাপাশি মাঠ, খামার, গবেষণাগার ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সমন্বয় থাকে।

ময়মনসিংহের বিস্তৃত এলাকায় গড়ে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস কৃষি গবেষণার জন্যও উপযোগী। বিভিন্ন ধরনের ফসল, পশু, মাছ ও কৃষিপ্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে এখানে। ফলে শিক্ষার্থীরা বইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।

কৃষিশিক্ষায় বহুমুখী কার্যক্রম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুধু প্রচলিত কৃষিবিজ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত বিভিন্ন শাখায় এখানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে।

কৃষি অনুষদের পাশাপাশি ভেটেরিনারি বিজ্ঞান, প্রাণিসম্পদ, পশুপালন, মৎস্যবিজ্ঞান, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, কৃষি অর্থনীতি এবং গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণা পরিচালিত হয়।

কৃষি অর্থনীতি কৃষিপণ্যের বাজার, কৃষকের আয়, উৎপাদন ব্যয় ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতি নিয়ে কাজ করে। কৃষি প্রকৌশল আধুনিক যন্ত্রপাতি, সেচব্যবস্থা ও কৃষির যান্ত্রিকীকরণের সঙ্গে যুক্ত। মৎস্যবিজ্ঞান দেশের বিশাল অভ্যন্তরীণ জলসম্পদকে কাজে লাগিয়ে মাছের উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে। অন্যদিকে ভেটেরিনারি ও প্রাণিসম্পদ শাখা পশুর স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ, উৎপাদনশীলতা এবং প্রাণিজ খাদ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।

এভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়কে একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে নিয়ে এসে সমন্বিত শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

গবেষণাই যার অন্যতম প্রধান শক্তি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় এর গবেষণা কার্যক্রম। দেশের কৃষি খাতের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর বৈজ্ঞানিক সমাধান খুঁজে বের করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। ধান, গম, ডাল, তেলবীজ, সবজি, ফলমূলসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর উপায় নিয়ে গবেষণা হয়েছে। একই সঙ্গে ফসলের রোগবালাই, পোকামাকড়ের আক্রমণ, মাটির গুণাগুণ, সার ব্যবস্থাপনা ও সেচ নিয়েও গবেষণা পরিচালিত হয়।

কৃষির সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্কও বর্তমানে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও তাপমাত্রার পরিবর্তন কৃষি উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। এসব পরিস্থিতিতে কীভাবে কম সময়ে এবং প্রতিকূল পরিবেশে ফসল উৎপাদন করা যায়, তা নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন দিন দিন বাড়ছে। শুধু ফসল নয়, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ। গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছের রোগ প্রতিরোধ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং উন্নত জাত নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা পরিচালিত হয়।

কৃষকের সমস্যার সঙ্গে গবেষণার সম্পর্ক

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কৃষির সরাসরি সম্পর্ক। গবেষণাগারে তৈরি কোনো প্রযুক্তি বা নতুন পদ্ধতির চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করে কৃষকের মাঠে সেটি কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায় তার ওপর। এই কারণে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো, ফসলের ফলন বাড়ানো, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষিপণ্যের গুণগত মান উন্নত করার মতো বিষয় গবেষণায় গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের ছোট ও প্রান্তিক কৃষকের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে স্বল্প ব্যয়ে কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবনও গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ বাড়ানোর পাশাপাশি ছোট কৃষকের জন্য উপযোগী প্রযুক্তি, আধুনিক সেচব্যবস্থা এবং ফসল সংরক্ষণের কৌশল কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

খাদ্যনিরাপত্তায় অবদান

বাংলাদেশের জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়লেও কৃষিজমির পরিমাণ একই হারে বাড়ছে না। বরং নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে অনেক কৃষিজমি অন্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে সীমিত জমিতে বেশি খাদ্য উৎপাদনের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উচ্চফলনশীল জাত, উন্নত চাষপদ্ধতি, আধুনিক সেচ ও সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষির যান্ত্রিকীকরণ গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা এখন শুধু ধান উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, শাকসবজি ও ফলের পর্যাপ্ত উৎপাদনও প্রয়োজন। ফলে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদকে সমন্বিতভাবে দেখার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন চ্যালেঞ্জ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের কৃষিতে ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যা, কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা, আবার উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা কৃষির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অনিয়মিত আবহাওয়া ফসলের উৎপাদনেও প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে জলবায়ু সহনশীল কৃষিপদ্ধতি উদ্ভাবন জরুরি। লবণাক্ততা ও খরা সহনশীল জাত, স্বল্পমেয়াদি ফসল, পানি সাশ্রয়ী সেচব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা ভবিষ্যতের কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় এসব বিষয় গুরুত্ব পাওয়ায় দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাব কৃষিতেও পড়েছে। এখন কৃষিকাজে শুধু লাঙল, কোদাল বা প্রচলিত যন্ত্রের ব্যবহার নয়; ড্রোন, স্যাটেলাইট, সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। কোন জমিতে কতটুকু সার বা পানি প্রয়োজন, কোন এলাকায় রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ছে কিংবা কোন সময়ে ফসল কাটলে ক্ষতি কম হবে, এসব তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা সম্ভব। কৃষির যান্ত্রিকীকরণও শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে চাষ, বীজ বপন, সেচ, আগাছা দমন ও ফসল কাটার কাজে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ বাড়ছে। ভবিষ্যতের কৃষিকে আরও দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব করতে এসব প্রযুক্তির সঙ্গে কৃষিশিক্ষার সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির বিষয়টি তাই ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও অবদান

বাংলাদেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম। দেশের অর্থনীতি ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানেও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ভূমিকা রয়েছে। মাছের উৎপাদন বাড়ানো, রোগ নিয়ন্ত্রণ, উন্নত ব্যবস্থাপনা ও জলজ সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিয়ে মৎস্যবিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা প্রয়োজন। একইভাবে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির রোগ প্রতিরোধ, উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য ভেটেরিনারি ও প্রাণিসম্পদ গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই খাতের জন্যও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার বিস্তৃত সুযোগ রয়েছে। ফলে দেশের কৃষি ব্যবস্থার একটি বড় অংশের জন্য দক্ষ জনবল তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি ভূমিকা রাখছে।

সবুজে ঘেরা শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসও শিক্ষার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত বিশাল ক্যাম্পাসে রয়েছে বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, গবেষণাগার, গ্রন্থাগার, খামার ও খেলার মাঠ। সবুজ পরিবেশের কারণে ক্যাম্পাসটি দেশের অন্যান্য অনেক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় স্বতন্ত্র। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমও পরিচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাসজীবনের সুযোগ তৈরি করেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীরা এখানে একসঙ্গে বসবাস ও পড়াশোনা করেন।

দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কেন্দ্র

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কৃষিবিদ, গবেষক, শিক্ষক, ভেটেরিনারি চিকিৎসক, কৃষি প্রকৌশলী, মৎস্য বিশেষজ্ঞ, প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও কৃষি অর্থনীতিবিদ তৈরিতে ভূমিকা রেখে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা অনেকে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করছেন। কেউ কেউ কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ফলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা ছাড়িয়ে এর শিক্ষা ও গবেষণার প্রভাব দেশের কৃষি ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে।

সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের কৃষি খাত বর্তমানে একাধিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষিজমি কমছে। কৃষিশ্রমিকের সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কৃষি গবেষণার পাশাপাশি কৃষি অর্থনীতি, প্রযুক্তি, পরিবেশবিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বিত প্রয়োগ প্রয়োজন। ভবিষ্যতের কৃষি হবে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, তথ্যভিত্তিক ও জলবায়ু-সহনশীল। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তাই নতুন প্রজন্মের কৃষিবিজ্ঞানী ও গবেষক তৈরি করার পাশাপাশি কৃষির বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান উদ্ভাবনের বড় দায়িত্ব রয়েছে।

কৃষির ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান

প্রতিষ্ঠার ছয় দশকের বেশি সময় পর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কৃষির বিভিন্ন শাখায় উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের খাদ্য ও কৃষি ব্যবস্থায় অবদান রেখে চলেছে। কৃষির ভবিষ্যৎ এখন শুধু বেশি ফসল উৎপাদনের ওপর নির্ভর করছে না। নিরাপদ খাদ্য, পুষ্টি, পরিবেশের ভারসাম্য, কৃষকের আয়, জলবায়ু সহনশীলতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ই ভবিষ্যতের কৃষির মূল চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণার বিকল্প নেই। ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্রের তীরে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সেই বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষির পথচলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কৃষির সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও অর্থনীতি যতদিন যুক্ত থাকবে, ততদিন কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার এই বিদ্যাপীঠের প্রয়োজনীয়তাও থাকবে।

মন্তব্য