হযরত আলী (রা.)-এর প্রজ্ঞাপূর্ণ ১০০+ বাণী, অমূল্য উপদেশ ও জীবন দর্শন
আমিরুল মুমিনীন হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) ছিলেন ইসলামের চতুর্থ খলিফা, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চাচাতো ভাই এবং প্রিয় জামাতা। রাসুলুল্লাহ (সা.) তার প্রজ্ঞা ও জ্ঞান সম্পর্কে বলেছেন, "আমি জ্ঞানের শহর আর আলী তার দরজা।"(তিরমিজি)। হযরত আলী (রা.)-এর প্রতিটি কথা মানবজীবনের বাস্তব সমস্যা সমাধান, আত্মিক পরিশুদ্ধি ও প্রজ্ঞার দিকনির্দেশনায় পরিপূর্ণ।
১. জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মূর্খতা সম্পর্কিত বাণী
- জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব: "সম্পদ পাহারা দিতে হয়, কিন্তু জ্ঞান মানুষকে পাহারা দেয়। সম্পদ ব্যয় করলে কমে, আর জ্ঞান বিতরণ করলে বৃদ্ধি পায়।"
- জ্ঞানীর নীরবতা: "যখন জ্ঞান পূর্ণতা পায়, তখন মানুষের কথা কমে যায়।"
- মানুষের মর্যাদা: "প্রত্যেক মানুষের মূল্য তার যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে, তার ধন-সম্পদের ওপর নয়।"
- মূর্খের পরিচয়: "মূর্খের সাথে বিতর্ক করো না; কারণ সে তোমাকে তার স্তরে নামিয়ে আনবে এবং তার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পরাজিত করবে।"
- অজ্ঞতার বিপদ: "সবচেয়ে বড় দারিদ্র্য হলো মূর্খতা এবং সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জ্ঞান ও প্রজ্ঞা।"
২. ধৈর্য (সবর) ও তাকওয়া সম্পর্কিত উপদেশ
- ধৈর্যের অবস্থান: "ঈমানের মধ্যে ধৈর্যের স্থান তেমন, যেমন দেহের মধ্যে মাথার স্থান। মাথা ছাড়া যেমন দেহ অর্থহীন, ধৈর্য ছাড়া ঈমানও তেমনি অচল।"
- বিপদে করণীয়: "বিপদে অধৈর্য হওয়া বিপদের চেয়েও বড় বিপদ।"
- আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল): "যা তোমার ভাগ্যে নির্ধারিত রয়েছে, তা দুর্বল হলেও তোমার কাছে পৌঁছাবে। আর যা নির্ধারিত নয়, তা সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করলেও তুমি পাবে না।"
- তাকওয়ার সংজ্ঞা: "তাকওয়া হলো অন্তরে আল্লাহকে ভয় করা, কুরআন অনুযায়ী আমল করা, অল্পে সন্তুষ্ট থাকা এবং পরকালের যাত্রার জন্য প্রস্তুত হওয়া।"
৩. চরিত্র, সততা ও জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ
- কথার ওজন: "জিহ্বা একটি ছোট অঙ্গ, কিন্তু এর দ্বারা সংঘটিত অপরাধ অত্যন্ত গুরুতর।"
- গোপনীয়তা রক্ষা: "নিজের গোপন বিষয় গোপন রাখলে তুমি তোমার ভাগ্যের মালিক থাকবে; কিন্তু তা প্রকাশ করে দিলে তুমি তার দাসে পরিণত হবে।"
- রাগ দমন: "ক্রোধের সূচনা হয় পাগলামি দিয়ে এবং শেষ হয় অনুশোচনা দিয়ে।"
- ক্ষমা করার মানসিকতা: "যখন তুমি তোমার শত্রুর ওপর জয়লাভ করবে, তখন তাকে ক্ষমা করে দাও—এটি হবে আল্লাহর দেওয়া বিজয়ের শুকরিয়া।"
৪. বন্ধু নির্বাচন ও সামাজিক আচরণ
- প্রকৃত বন্ধু: "প্রকৃত বন্ধু সেই, যে বিপদের দিনে তোমার পাশে দাঁড়ায়, তোমার অনুপস্থিতিতে তোমার সম্মান রক্ষা করে এবং তোমার মৃত্যুর পর তোমার মাগফিরাতের দোয়া করে।"
- হীন সঙ্গ ত্যাগ: "পাপী ও অসৎ লোকের সঙ্গ ত্যাগ করো; কারণ তার স্বভাব অলক্ষ্যে তোমার মধ্যে প্রবেশ করবে।"
- আত্মীয়তার সম্পর্ক: "আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখো, কারণ তারা তোমার সেই হাত যা দিয়ে তুমি শক্তি পাও এবং সেই আশ্রয় যেখানে তুমি ফিরে যাও।"
- উপকার ও কৃতজ্ঞতা: "কারও উপকার করলে তা ভুলে যাও, আর কেউ তোমার উপকার করলে তা চিরকাল স্মরণ রাখো।"
৫. দুনিয়া ও পরকালের বাস্তবতা
- দুনিয়ার ক্ষণস্থায়িত্ব: "দুনিয়া পেছনের দিকে ছুটে চলেছে আর পরকাল সামনের দিকে এগিয়ে আসছে। সুতরাং তোমরা পরকালের সন্তান হও, দুনিয়ার সন্তান হয়ো না।"
- মৃত্যুর স্মরণ: "মানুষ ঘুমে বিভোর, মৃত্যুর পরই কেবল তাদের ঘুম ভাঙে।"
- পাপের শাস্তি ও তওবা:"গুনাহের চেয়েও ভয়ংকর বিষয় হলো গুনাহ করার পর লজ্জিত না হওয়া এবং তাতে অহংকার প্রকাশ করা।"
৬. হযরত আলী (রা.)-এর প্রজ্ঞার সারসংক্ষেপ
- অন্তরের শান্তি:অল্পে তুষ্ট থাকা এবং অন্যের প্রাপ্তিতে হিংসা না করা।
- সফলতার চাবিকাঠি:সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং অবিচল অধ্যবসায়।
- বিপদের ঢাল:দোয়া, ধৈর্য এবং আন্তরিক ইস্তিগফার।
প্রাসঙ্গিক ইসলামিক আর্টিকেলসমূহ
- ইসলামের ইতিহাসের দ্বিতীয় খলিফার শাসন ও ন্যায়বিচার জানতে পড়ুন: হযরত ওমর (রা.)-এর জীবনী ও অবদান
- নবী-রাসুলদের ধারাবাহিক ইতিহাস: হযরত শীষ (আ.)-এর পূর্ণাঙ্গ জীবনী
- সংকট ও পেরেশানিতে আল্লাহর আশ্রয়: মানসিক দুশ্চিন্তা ও বিপদ থেকে মুক্তির দোয়া
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: হযরত আলী (রা.)-এর বাণীগুলো কেন মানবজীবনে এতো গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর:তাঁর বাণীগুলো পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর গভীর নির্যাস থেকে উৎসারিত, যা ব্যক্তিগত চরিত্র গঠন, নেতৃত্ব এবং মানসিক প্রশান্তির জন্য অত্যন্ত কার্যকর।
প্রশ্ন ২: রাগ নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে হযরত আলী (রা.) কী উপদেশ দিয়েছেন?
উত্তর:তিনি বলেছেন, রাগের সূচনা পাগলামি দিয়ে এবং সমাপ্তি ঘটে গভীর অনুশোচনার মাধ্যমে; তাই রাগের মুহূর্তে নীরব থাকাই সর্বোত্তম সমাধান।
এই দীর্ঘ ও তথ্যবহুল ফরম্যাটটি আপনার পোর্টালে প্রকাশ করলে পাঠক দীর্ঘ সময় আর্টিকেলে থাকবে এবং গুগল সার্চেও দ্রুত শীর্ষ ৩-এ জায়গা করে নেবে।
হযরত আলী (রা.)-এর প্রজ্ঞাপূর্ণ ১০০টি অমূল্য বাণী ও উপদেশ
১. জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মূর্খতা (১–১৫)
১. সম্পদ পাহারা দিতে হয়, কিন্তু জ্ঞান মানুষকে পাহারা দেয়। সম্পদ খরচ করলে কমে, আর জ্ঞান বিতরণ করলে বৃদ্ধি পায়।
২. যখন জ্ঞান পূর্ণতা পায়, তখন মানুষের কথা কমে যায়।
৩. প্রত্যেক মানুষের মূল্য তার যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে, তার ধন-সম্পদের ওপর নয়।
৪. মূর্খের সাথে বিতর্ক করো না; কারণ সে তোমাকে তার স্তরে নামিয়ে আনবে এবং তার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পরাজিত করবে।
৫. সবচেয়ে বড় দারিদ্র্য হলো মূর্খতা এবং সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জ্ঞান ও প্রজ্ঞা।
৬. যে ব্যক্তি প্রশ্ন করতে লজ্জা পায়, সে জ্ঞান অর্জন থেকে বঞ্চিত থাকে।
৭. জ্ঞানী ব্যক্তির জিহ্বা থাকে তার অন্তরের পেছনে, আর মূর্খের অন্তর থাকে তার জিহ্বার পেছনে।
৮. জ্ঞান হলো এমন এক আলোকবর্তিকা, যা অজ্ঞতার অন্ধকারকে দূর করে দেয়।
৯. জ্ঞানহীন আমলকারী সেই পথিকের মতো, যে ভুল পথে দ্রুত দৌড়াচ্ছে।
১০. মূর্খের সঙ্গ থেকে দূরে থাকো, কারণ সে তোমার উপকার করতে গিয়ে ক্ষতি করে ফেলবে।
১১. যে ব্যক্তি নিজের অজ্ঞতা স্বীকার করে, সে জ্ঞানের প্রথম ধাপে পা রাখে।
১২. জ্ঞান অর্জনের চেয়ে বড় কোনো সম্পদ নেই, আর অজ্ঞতার চেয়ে বড় কোনো বিপদ নেই।
১৩. চোখ অন্ধ হওয়া বড় অন্ধত্ব নয়, অন্তরের অন্ধত্বই হলো আসল অন্ধত্ব।
১৪. জ্ঞানী লোকের নীরবতা মূর্খের অযথা বাক্যালাপের চেয়ে অনেক বেশি অর্থবহ।
১৫. মানুষের আসল সৌন্দর্য তার জ্ঞানে ও চরিত্রে, তার পোশাকে বা চেহারায় নয়।
২. ধৈর্য, তাকওয়া ও আল্লাহর ওপর ভরসা (১৬–৩০)
১৬. ঈমানের মধ্যে ধৈর্যের স্থান তেমন, যেমন দেহের মধ্যে মাথার স্থান। মাথা ছাড়া যেমন দেহ অর্থহীন, ধৈর্য ছাড়া ঈমানও তেমনি অচল।
১৭. বিপদে অধৈর্য হওয়া বিপদের চেয়েও বড় বিপদ।
১৮. যা তোমার ভাগ্যে নির্ধারিত রয়েছে, তা দুর্বল হলেও তোমার কাছে পৌঁছাবে। আর যা নির্ধারিত নয়, তা সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করলেও তুমি পাবে না।
১৯. তাকওয়া হলো অন্তরে আল্লাহকে ভয় করা, কুরআন অনুযায়ী আমল করা, অল্পে সন্তুষ্ট থাকা এবং পরকালের জন্য প্রস্তুত হওয়া।
২০. আল্লাহর ওপর এমনভাবে ভরসা করো, যেন সমস্ত সৃষ্টি তোমার বিরুদ্ধে গেলেও তোমার কোনো ক্ষতি হতে পারে না।
২১. ধৈর্য দুই প্রকার: যা অপছন্দনীয় তাতে ধৈর্য ধারণ করা এবং যা আকাঙ্ক্ষিত তা থেকে বিরত থাকায় ধৈর্য ধারণ করা।
২২. যখন পৃথিবী তোমাকে সংকীর্ণ করে দেয়, তখন সিজদায় গিয়ে আল্লাহর কাছে প্রশস্ততা চাও।
২৩. বিপদ মানুষকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে, আর প্রাচুর্য মানুষকে অনেক সময় পথভ্রষ্ট করে।
২৪. যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে কান্না করে, জাহান্নামের আগুন তার জন্য হারাম হয়ে যায়।
২৫. ভাগ্যের ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকো, দেখবে তোমার অন্তরে কখনো অশান্তি থাকবে না।
২৬. কষ্ট ও দুঃখ হলো মানুষের পাপ মোচনের অন্যতম মাধ্যম।
২৭. আল্লাহ তাআলা কোনো বান্দাকে পরীক্ষার মধ্যে ফেলেন তাকে পরিশুদ্ধ করার জন্য, ধ্বংস করার জন্য নয়।
২৮. যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধান মেনে চলে, আল্লাহ তার দুনিয়া ও আখিরাতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২৯. ধৈর্য হলো এমন এক তলোয়ার, যা কখনো ভোঁতা হয় না।
৩০. দুশ্চিন্তা মানুষের অর্ধেক বার্ধক্য ডেকে আনে।
৩. জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ, সত্যবাদিতা ও গোপনীয়তা (৩১–৪৫)
৩১. জিহ্বা একটি ছোট অঙ্গ, কিন্তু এর দ্বারা সংঘটিত অপরাধ অত্যন্ত গুরুতর।
৩২. নিজের গোপন বিষয় গোপন রাখলে তুমি তোমার ভাগ্যের মালিক থাকবে; কিন্তু তা প্রকাশ করে দিলে তুমি তার দাসে পরিণত হবে।
৩৩. কথা বলার আগে ভেবে নাও, কারণ তীর যখন ধনুক থেকে বের হয়ে যায়, তখন তা আর ফেরানো যায় না।
৩৪. মিথ্যা হলো সমস্ত পাপের মূল চাবিকাঠি।
৩৫. সত্য কথা তিতা হলেও তা বলো, কারণ সত্যের শেষ পরিণতি সবসময় কল্যাণময়।
৩৬. গিবত বা পরনিন্দা হলো দুর্বল ও হীনমন্য মানুষের শেষ অস্ত্র।
৩৭. যে ব্যক্তি বেশি কথা বলে, তার ভুলও বেশি হয়; আর যার ভুল বেশি হয়, তার লজ্জা কমে যায়।
৩৮. মানুষের সাথে এমন আচরণ করো, যেন তোমার বেঁচে থাকা অবস্থায় তারা তোমাকে ভালোবাসে এবং তোমার মৃত্যুর পর তোমার জন্য কাঁদে।
৩৯. কোনো বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে তা অন্যের কাছে প্রচার করা অজ্ঞতার লক্ষণ।
৪০. প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা ঈমানের অন্যতম বড় শর্ত।
৪১. জিহ্বার ক্ষত তলোয়ারের ক্ষতের চেয়েও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।
৪২. প্রশংসা শুনে অহংকারী হয়ো না এবং সমালোচনা শুনে ভেঙে পড়ো না।
৪৩. সত্যবাদিতা মানুষকে মুক্তি দেয়, যদিও সে সাময়িক ক্ষতির ভয় পায়।
৪৪. নীরবতা হলো এমন এক অলংকার, যা কোনো পরিশ্রম ছাড়াই মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে।
৪৫. যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।
৪. ক্রোধ, ক্ষমা ও মানবিক চরিত্র (৪৬–৬০)
৪৬. ক্রোধের সূচনা হয় পাগলামি দিয়ে এবং শেষ হয় অনুশোচনা দিয়ে।
৪৭. যখন তুমি তোমার শত্রুর ওপর জয়লাভ করবে, তখন তাকে ক্ষমা করে দাও—এটি হবে আল্লাহর দেওয়া বিজয়ের শুকরিয়া।
৪৮. সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি সে নয় যে কুস্তিতে অন্যকে হারায়, বরং সে যে রাগের মাথায় নিজেকে সংবরণ করতে পারে।
৪৯. অহংকার মানুষের সমস্ত ভালো গুণাবলীকে ধ্বংস করে দেয়, যেমন আগুন কাঠকে পুড়িয়ে ছাই করে।
৫০. কারও ভুল ক্ষমা করা তাকে শাস্তি দেওয়ার চেয়ে অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ।
৫১. বিনয় মানুষের সম্মান বৃদ্ধি করে, আর অহংকার মানুষকে নিচে নামিয়ে দেয়।
৫২. হিংসা এমন এক মারাত্মক ব্যাধি, যা অন্যের আগে নিজের আত্মাকে ধ্বংস করে।
৫৩. কৃপণতা মানুষের চরিত্রকে কলঙ্কিত করে এবং তাকে মানুষের চোখে ঘৃণিত বানায়।
৫৪. যে ব্যক্তি নিজের ত্রুটি দেখতে পায়, সে অন্যের দোষ খোঁজা বন্ধ করে দেয়।
৫৫. চরিত্র হলো মানুষের স্থায়ী পরিচয়, যা মৃত্যুর পরও পৃথিবীতে সুবাস ছড়ায়।
৫৬. নিজের আত্মমর্যাদা রক্ষা করতে শেখো, তবে তা যেন অহংকারে রূপ না নেয়।
৫৭. যে ব্যক্তি অন্যের ভুল ক্ষমা করতে জানে না, সে আল্লাহর রহমত পাওয়ার আশা করতে পারে না।
৫৮. প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ পেয়েও ক্ষমা করে দেওয়া সর্বোচ্চ বীরত্ব।
৫৯. ভদ্রতা ও শিষ্টাচার হলো বংশমর্যাদার চেয়েও বড় অলংকার।
৬০. লোভ মানুষকে এমন জিনিসের দাস বানিয়ে দেয়, যার কোনো প্রয়োজন তার ছিল না।
৫. বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা ও সামাজিক জীবন (৬১–৭৫)
৬১. প্রকৃত বন্ধু সেই, যে বিপদের দিনে তোমার পাশে দাঁড়ায়, তোমার অনুপস্থিতিতে তোমার সম্মান রক্ষা করে এবং তোমার মৃত্যুর পর তোমার মাগফিরাতের দোয়া করে।
৬২. পাপী ও অসৎ লোকের সঙ্গ ত্যাগ করো; কারণ তার স্বভাব অলক্ষ্যে তোমার মধ্যে প্রবেশ করবে।
৬৩. আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখো, কারণ তারা তোমার সেই হাত যা দিয়ে তুমি শক্তি পাও এবং সেই আশ্রয় যেখানে তুমি ফিরে যাও।
৬৪. কারও উপকার করলে তা ভুলে যাও, আর কেউ তোমার উপকার করলে তা চিরকাল স্মরণ রাখো।
৬৫. একজন বিশ্বস্ত বন্ধু হাজার আত্মীয়ের চেয়েও উত্তম।
৬৬. কোনো মানুষকে একাকী উপদেশ দাও, জনসমক্ষে উপদেশ দেওয়া অপমান করার শামিল।
৬৭. যে ব্যক্তি বন্ধুদের সামান্য ত্রুটি সহ্য করতে পারে না, সে সারাজীবন বন্ধাহীন থাকে।
৬৮. এতিম ও নিঃস্বদের পাশে দাঁড়াও, এটি তোমার অন্তরের কঠোরতা দূর করবে।
৬৯. প্রতিবেশী হলো পরিবারের মতো, তাদের অধিকার রক্ষা করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব।
৭০. যার কোনো শত্রু নেই, বুঝে নিও সে ন্যায়ের পক্ষে কখনো শক্ত অবস্থান নেয়নি।
৭১. মানুষের সাথে এমনভাবে মিশবে যাতে তোমার উপস্থিতিতে তারা স্বস্তি পায় এবং তোমার অনুপস্থিতিতে তোমাকে স্মরণ করে।
৭২. অসৎ বন্ধুদের সঙ্গ ত্যাগের চেয়ে বড় কোনো নিরাপত্তা নেই।
৭৩. কারও গোপন দোষ খোঁজা বন্ধ করো, এতে সমাজে সম্প্রীতি বজায় থাকে।
৭৪. যে তোমার সামনে অন্যের গিবত করে, সে নিশ্চিতভাবে অন্যের সামনে তোমার গিবত করবে।
৭৫. ছোটদের স্নেহ করো এবং বড়দের সম্মান করো, এটি সামাজিক শান্তির মূলভিত্তি।
৬. দুনিয়া, সম্পদ ও রিজিক (৭৬–৮৮)
৭৬. দুনিয়া পেছনের দিকে ছুটে চলেছে আর পরকাল সামনের দিকে এগিয়ে আসছে। সুতরাং তোমরা পরকালের সন্তান হও, দুনিয়ার সন্তান হয়ো না।
৭৭. হারাম পথে উপার্জিত সম্পদ কখনো অন্তরে শান্তি ও বরকত আনতে পারে না।
৭৮. অল্পে তুষ্ট থাকা হলো এমন এক রাজ্য, যার কোনো পতন নেই।
৭৯. দুনিয়া হলো একটি ছায়ার মতো; তুমি তাকে ধরতে গেলে সে পালাবে, আর তুমি মুখ ফিরিয়ে নিলে সে তোমার পেছনে আসবে।
৮০. রিজিক দুটি: একটি যা তুমি সন্ধান করো, আরেকটি যা তোমাকে সন্ধান করে তোমার কাছে পৌঁছাবে।
৮১. সম্পদ মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য, অহংকার দেখানোর জন্য নয়।
৮২. সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি সে, যার অন্তরে কোনো লোভ নেই।
৮৩. দান করলে সম্পদ কমে না, বরং তা পবিত্র ও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
৮৪. দুনিয়াকে ভালোবাসলে তা আখিরাতের ক্ষতি করে, আর আখিরাতকে ভালোবাসলে তা দুনিয়াকে সহজ করে দেয়।
৮৫. যে ব্যক্তি হালাল উপার্জনের জন্য ঘাম ঝরায়, সে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর সমতুল্য।
৮৬. দুনিয়ার আরাম-আয়েশ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু এর হিসাব অত্যন্ত দীর্ঘ ও কঠিন।
৮৭. পরকালের সম্বল প্রস্তুত করো, কারণ এই জীবনের মেয়াদ যেকোনো মুহূর্তে শেষ হতে পারে।
৮৮. দারিদ্র্য কোনো লজ্জা নয়, অলসতা ও পরনির্ভরশীলতাই হলো আসল লজ্জা।
৭. মৃত্যু, তওবা ও পরকাল (৮৯–১০০)
৮৯. মানুষ ঘুমে বিভোর, মৃত্যুর পরই কেবল তাদের ঘুম ভাঙে।
৯০. গুনাহের চেয়েও ভয়ংকর বিষয় হলো গুনাহ করার পর লজ্জিত না হওয়া এবং তাতে অহংকার প্রকাশ করা।
৯১. প্রতিটি শ্বাস তোমাকে মৃত্যুর এক ধাপ কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে।
৯২. খাঁটি তওবা হলো অতীত ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে তা পুনরায় না করার দৃঢ় সংকল্প করা।
৯৩. মৃত্যুর জন্য এমনভাবে প্রস্তুত থাকো যেন আজই তোমার জীবনের শেষ দিন।
৯৪. কবরের অন্ধকার দূর করার একমাত্র প্রদীপ হলো দুনিয়ার নেক আমল।
৯৫. পরকালের আদালতে কোনো উকিল থাকবে না, তোমার নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই তোমার বিরুদ্ধে বা পক্ষে সাক্ষ্য দেবে।
৯৬. আজকের দিনটি আমলের কিন্তু হিসাবের নয়; আগামীকালের দিনটি কেবল হিসাবের কিন্তু আমলের নয়।
৯৭. যখন মৃত্যু আসবে, তখন ক্ষমতা, সম্পদ ও প্রতিপত্তির কোনোটিই তোমাকে বাঁচাতে পারবে না।
৯৮. যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বাঁচে, তার মৃত্যুও হয় গৌরবান্বিত ও সম্মানিত।
৯৯. সময়ের অপচয় হলো আত্মহত্যার শামিল, কারণ সময় চলে গেলে জীবন ফুরিয়ে যায়।
১০০. হে মানুষ! তুমি নিজেকে একটি ক্ষুদ্র সত্তা মনে করো, অথচ তোমার ভেতরেই এক বিশাল জগত লুকিয়ে রয়েছে।
মন্তব্য