রামাদান মাসের ফযীলত বিশেষ ফজিলতের আলোচনা
আবূ হুরাইরা
(রাঃ) হতে বর্ণত আছে, তিনি
বলেন, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শাইতান ও দুষ্ট জিনদেরকে রামাযান মাসের
প্রথম রাতেই শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয় এবং এর দরজাও তখন আর খোলা
হয় না, খুলে দেওয়া হয়
জান্নাতের দরজাগুলো এবং এর একটি দরজাও তখন আর বন্ধ করা হয় না। (এ মাসে) একজন
ঘোষণাকারী ঘোষণা দিতে থাকেনঃ হে কল্যাণ অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে পাপাসক্ত! বিরত
হও। আর বহু লোককে আল্লাহ্ তা’আলার পক্ষ হতে এ মাসে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে
দেওয়া হয় এবং প্রত্যেক রাতেই এরূপ হতে থাকে। —ইবনু মা-জাহ (১৬৪২)
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি
বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের আশা করে যে লোক রামাযান মাসের রোযা পালন করলো এবং
(ইবাদাতের উদ্দেশ্যে) রাতে জেগে রইলো,
তার পূর্ববর্তী গুনাহগুলো
ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আর
ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের আশা করে যে লোক লাইলাতুল কাদূরের (ইবাদাতের জন্য) রাতে
জেগে থাকে, তার পূর্ববর্তী গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
–ইবনু মা-জাহ (১৩২৬),বুখারী, মুসলিম
আবু ঈসা আবু বকর ইবনু আবূ য়াসের সূত্রে আবু
হুরাইরা (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে গারীব বলেছেন। আমরা আমাশ-আবু সালিহ-এর সূত্রে
বর্ণিত আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর হাদীসটিকে শুধুমাত্ৰ আবূ বকর ইবনু আইয়াসের মাধ্যমেই
জেনেছি। আমি এ হাদীস প্রসঙ্গে আবুল আহওয়াস হতে, তিনি
আমাশ হতে, তিনি মুজাহিদ হতে তার বক্তব্য হিসাবে বর্ণিত রামাযান মাসের
প্রথম রাতে...... হাদীসের শেষ পর্যন্ত। মুহাম্মাদ বলেন, আমার
নিকটে এই সনদটি আবু বাকর ইবনু আইয়াসের তুলনায় বেশি সহীহ।
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি
বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
রামাযান মাস আসার একদিন কিংবা দুইদিন পূর্ব থেকে তোমরা (নফল) রোযা পালন করো না।
হ্যাঁ, তবে তোমাদের কারো পূর্ব অভ্যাস অনুযায়ী রোযা পালনের দিন
পড়ে গেলে সে ঐ দিনের রোযা পালন করতে পারবে। তোমরা রোযা রাখ চাঁদ দেখে এবং রোযা
শেষও কর চাঁদ দেখেই। (২৯ তারিখে) আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে ত্রিশ দিন পুরো কর চাঁদ
দেখতে না পেলে), এরপর ইফতার কর (রোযা শেষ
কর)। – ইবনু মা-জাহ (১৬৫০ ও ১৬৫৫), বুখারী,
মুসলিম৷
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সংখ্যক
সাহাবী হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত
হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেন।
তাদের মতে রামাযান মাস শুরুর অব্যবহিত নির্ধারিত দিনে রোযা আদায়ের পূর্ব-অভ্যাস
কারো থাকলে এবং রামাযানের আগের দিন সেই দিন হলে তবে এদিনে তার রোযা পালনে কোন
সমস্যা নেই।
কুরাইব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, মুআবিয়া
(রাঃ)-এর সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে উম্মুল ফাযল বিনতুল হারিস (রাঃ) তাকে শামে
(সিরিয়ায়) প্রেরণ করেন। কুরাইব (রাহঃ) বলেন,
সিরিয়ায় পৌছার পর আমি
উম্মুল ফাযল (রাঃ)-এর কাজটি শেষ করলাম। আমি সিরিয়ায় থাকা অবস্থায়ই রামাযান মাসের
চাঁদ দেখতে পাওয়া গেল। আমরা জুমুআর রাতে (বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়) চাঁদ দেখতে
পেলাম। রামাযানের শেষের দিকে আমি মদীনায় ফিরে আসলাম।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমাকে (কুশলাদি) জিজ্ঞাসা
করার পর চাঁদ দেখা প্রসঙ্গে উল্লেখ করে বললেন,
কোন দিন তোমরা চাঁদ দেখতে
পেয়েছিলে? আমি বললাম, জুমুআর রাতে চাঁদ দেখতে
পেয়েছি। তিনি বললেন, জুমুআর রাতে তুমি কি
স্বয়ং চাঁদ দেখতে পেয়েছ? আমি বললাম, লোকেরা
দেখতে পেয়েছে এবং তারা রোযাও পালন করেছে,
মুআবিয়া (রাঃ)-ও রোযা
পালন করেছেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন,
কিন্তু আমরা শনিবার
(শুক্রবার দিবাগত) রাত্রে চাঁদ দেখেছি। অতএব ত্রিশ দিন পুরো না হওয়া পর্যন্ত অথবা
চাঁদ না দেখা পর্যন্ত আমরা রোযা পালন করতে থাকব। আমি বললাম, মুআবিয়া
(রাঃ)-এর চাঁদ দেখা ও তার রোযা থাকা আপনার জন্য কি যথেষ্ট নয়? তিনি
বলেন, না। আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এরূপ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। —
সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১০২১), মুসলিম
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ
ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করার অভিমত ব্যক্ত
করেছেন। তাদের মতে প্রত্যেক অঞ্চলের লোকদের জন্য তাদের চাদ দেখাই ধর্তব্য হবে।
মন্তব্য