fbpx fbpx fbpx
দাওয়াতুল ইসলাম ২৪
মঙ্গলবার, ০১, সেপ্টেম্বর, ২০২৬ , ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী ‘বিশ্ব বরেণ্য উজ্জল নক্ষত্র’

সকলেই অবগতি আছেন একজন কুরআনের পাখি দুনিয়া হতে চলে গিয়েছেন আল্লাহর কাছে। তিনি কুরআনের যে অসামান্য খেদমত করেছেন, তা নি:সন্দেহে অতুলনীয় ও বেনজীর। ক্ষণজন্মা এ ব্যক্তিটি সারা জীবন শাহাদাতের মওতের দুআ করে গেছেন। আল্লাহর রাসুল (সা:) বলেন- যে ব্যক্তি শাহাদাতের মওতের তামান্না করে, আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদা দিয়ে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নেন, যদিও সে তার বিছানায় মৃত্যুবরণ করে। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য যে তার জন্য ইন্নালিল্লাহ দিয়ে পোস্ট করার কারনে কারও কারও দলীয় পদ হারাতে হয়েছে। এমন ইতিহাস বাংলাদেশ তো বটেই পৃথিবীর কোন ইতিহাসে নেই।

মহাব্বত তো টাকা পয়সা দিয়ে ক্রয় করা যায় না। মহাব্বত হচ্ছে দিলের ব্যাপার। এই মুজাহিদের মৃত্যুতে আলেম, গায়রে আলেম নির্বিশেষে সবাই কেঁদেছে এবং দোয়া করেছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বহির্বিশ্বের ইসলামিক স্কলাররা পর্যন্ত তার মৃত্যুতে আফসোস করেছেন, শোকবার্তা জানিয়েছেন।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই আলেমে দীনের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সর্বমহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। মাহফিল, সভা, সমাবেশে তার জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য সমাজের সকল স্তরের মানুষের হৃদয়কে দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছিল। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে রয়েছে তার অগণিত ভক্ত ও অনুসারী। আল্লামা সাঈদীর সুমিষ্ট ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে অসংখ্য অমুসলিম ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেন।

এক লাইভ অনুষ্ঠানে ডা. জাকির নায়েক বলেন, ‘আমি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সম্পর্কে অবগত আছি। তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দাঈদের একজন ছিলেন। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতি আমার দোয়া। তার মৃত্যুতে মুসলিম উম্মাহ এক সম্পদ হারাল।’

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে জাকির নায়েক সাঈদী সম্পর্কে বলেন, ‘আমি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সম্পর্কে অবগত আছি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আমি মৃত্যুর খবরটি পেয়েছি যে, তিনি মারা গেছেন। আল্লাহ সুবাহানাতায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আল্লাহ সুবাহানাতায়ালা তাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন।’

তিনি বলেন, ‘আমি জানি যে তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দাঈদের একজন ছিলেন। আমরা জানি, কয়েক বছর আগে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। প্রথমে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। পরবর্তীকালে দেশব্যাপী প্রতিবাদে অনেক লোক মারা গেলে মৃত্যুদণ্ড থেকে রায় পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়। পৃথিবীতে এমন অনেক লোক আছেন—দুর্ভাগ্যজনকভাবে এমন অনেক মুসলিম দেশ আছে, যেখানে লোকজনকে শুধু রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার করা হয়, তাদেরই একজন ছিলেন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।’

তিনি আরও বলেন, ‘সপ্তাহ দুয়েক আগে তার ছেলে আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। তিনি আগেও মালয়েশিয়াতে এসেছিলেন। কিন্তু সপ্তাহখানেক আগে তিনি আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসেন। তিনি তার বাবার একটি বই অনুবাদ করেছেন। আমি তাকে সালাম জানিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটি আল্লামা সাঈদীর মৃত্যুর কয়েকদিন আগে ঘটেছিল। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতি আমার দোয়া। তার মৃত্যুতে মুসলিম উম্মাহ এক সম্পদ হারাল। আমরা জানি যে, আল্লাহর বাণী প্রচারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। মহান আল্লাহর দরবারে উনার জন্য দোয়া করি- যাতে আল্লাহ উনাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আম্বিয়ায়ে কেরাম এবং খোলাফায়ে রাশেদিনের সাথে তাকে জান্নাত দান করেন। আমিন।’

ওই অনুষ্ঠানে ডা: জাকির নায়েক ছাড়াও আল্লামা সাঈদীর ইন্তেকালে আরো যেসব আলেম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে শায়খ ড. আলি আস-সাল্লাবি, ভারতীয় বিশিষ্ট আলেম মাওলানা সালমান নদভী, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলার্সের সেক্রেটারি জেনারেল শায়খ আলি মুহিউদ্দিন কারা দাগি, বাংলাদেশের বর্ষীয়ান আলেম আল্লামা সুলতান জওক নদভী, শায়খ আহমাদুল্লাহ, মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ ও মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ভারতের আল্লামা নদভী লেখেন- `বাংলাদেশের ইসলাম প্রচারক আলেম শায়খ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আজ (সোমবার) মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি মুফাসসির ও বিশিষ্ট বক্তা ছিলেন। মহান আল্লাহ আপন রহমতে তাকে আবৃত করে রাখুন। তার বার্ষিক কোরআনের দরসে লাখ লাখ মানুষ উপস্থিত হত।’

তিনি আরো লেখেন, ‘তাকে মিথ্যা অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। তিনি ২০১০ সাল থেকে কারাবন্দী ছিলেন।’ আল্লামা সাঈদীর জন্য দোয়া করে মাওলানা নদভী লিখেছেন, ‘মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান ফিরদাউসের বাসিন্দা বানান এবং তার পরিবারকে পরিবারকে ধৈর্য দান করুন। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম অভিভাবক। ইন্না-লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।’

আল্লামা সাঈদী অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় কুরআনের খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের তাফসিরের জন্য ছুটে বেড়িয়েছেন। কুরআনের একনিষ্ঠ এই খাদেমের তাফসির শুনে বহু অমুসলিম ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ প্রায় প্রতিটি জনপদে তিনি কুরআনের মাহফিল করে মানুষের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। বাংলাদেশে ইসলামী জাগরণ সৃষ্টির ক্ষেত্রে তার এসব খেদমত ও অবদান আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সর্বদা তিনি সোচ্চার ছিলেন। সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠ উচ্চকিত ছিল। যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করতে চেয়েছিল তারাই আল্লামা সাঈদী’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের নীল নকশা রচনা করেছে। আল্লামা সাঈদী এদেশের সকল ধর্মমতের মানুষের প্রিয় মানুষ ছিলেন। তার রেখে যাওয়া কাজকে এদেশের দেশপ্রেমিক মানুষরাই এগিয়ে নিয়ে যাবে।

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সরকারের সর্বোচ্চ অবিচারের শিকার হয়েছেন। তার শূন্যতা কোনো দিন পূরণ হবে না।কারাগারে সঠিক চিকিৎসা পেতেন না। মৃত্যুর পর লাশের মালিক তো তার পরিবারের সদস্যরা, পুলিশ তো না। তার লাশটি স্ত্রীকে পর্যন্ত দেখতে দেয়া হয়নি।

একজন মানুষ মৃত্যুর পর শ্রদ্ধা বা নিন্দার উর্ধে চলে যান। এগুলু তাকে স্পর্শ করে না। সে কার ও ভাল বা খারাপ করার ক্ষমতা রাখে না। তবুও পুলিশ আল্লামা সাঈদীর কবর পাহারা দিচ্ছে, মানুষকে কবর জেয়ারত করতে দিচ্ছে না। যেন তিনিই কবর থেকেই সরকার পতনের ডাক দিচ্ছেন। মানুষের চরিত্র কতটা নোংরা হলে এ ধরনের কাজ করতে পারে!

পোস্ট ট্যাগ:

Dawatul Islam,Dawatul Islam Bangladesh,Definitions of dawatul islam,Dawatul Islam UK,দাওয়াতুল ইসলাম,দাওয়াতুল ইসলামের,দাওয়াতুল ইসলাম বাংলাদেশ,দাওয়াতুল ইসলাম ইউকে,বাংলা হাদিস,কোরআন ও হাদিসের আলোকে,কুরআন হাদিস বিষয়ক,কুরআন পাঠ,মানবজীবনে কুরআন হাদীস,কুরআন, হাদিস ও বিজ্ঞান,বাংলা কুরআন ও হাদীস, দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বর্তমান অবস্থা ২০২৩, দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বর্তমান অবস্থা ২০২২, দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বর্তমান বয়স, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী কি মারা গেছে, দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বাড়ি কোথায়, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী এখন কোথায়।

মন্তব্য