বড় হুজুর সমাচার- পর্ব-৯ ইলতাহিম কবিরাজ- ১
বেঁচে থাকার তাগিদে ইলতাহিম কবিরাজ যে পথ বেছে নিয়েছেন, তা অতি ঘৃণ্য, জঘন্য ও ভয়ংকর পথ। এ পথে চারিত্রিক সৌন্দর্য কিংবা ব্যক্তিত্ব
কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। তিনি শুধুই ছুটছেন তার জীবিকার খোঁজে।
একটু ভালোভাবে বাঁচার আশায় রাত নেই দিন নেই শত ঝুঁকি নিয়ে ছুটছেন রুজির
সন্ধানে। তবুও অবৈধ রোজগারে তার মন সায়
দিতে চায় না, কারণ তিনি তো জন্মগতভাবেই পবিত্র ও
পরিচ্ছন্ন। বড় হওয়ার সাথে সাথে পরিবেশ
তাকে মন্দ হতে বাধ্য করে। তবুও কিছু মানুষ
প্রতিকুল পরিবেশে থেকেও মানুষের মতো মানুষ হয়ে বেরিয়ে আসে। যদিও এ ভালোর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ঠ
কম। এসব কিতাবি কথাগুলো যে ইলতাহিম কবিরাজের মনে জাগে না, তা কিন্তু নয়।
জীবন ও জীবিকার তাগিদে তাকে ভিন্ন পথ বেছে নিতে হয়।
প্রতারণা হল ঘৃণ্য বৈশিষ্ট্য যা একজন শালীন ব্যক্তি
সবসময় ঘৃণা করে। অন্যদের বিভ্রান্ত করার
জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সত্যকে বিকৃত করা সততার মূল্যবোধের সাথে বিরোধিতা করা, যার জন্য আন্তরিকতা, সরলতা এবং ন্যায়পরায়ণতার মনোভাব প্রয়োজন যা প্রতারণা, মিথ্যার কোন জায়গা রাখে না। কুরআন এবং সুন্নাহ অনুযায়ী প্রতারণা করা, লক্ষ্যবস্তু মুসলিম বা অমুসলিমই হোক না কেন, তাহারাম।
ইলতাহিমকে পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। জগতে
যতগুলো অপ্রিয় সত্য আছে, তার মধ্যে সেরা হচ্ছে পরিস্থিতি মানুষকে অনেক কিছু
শেখায়। পরিস্থিতি মানুষকে বদলে
দেয়। কিভাবে পরিস্থিতি মানুষকে অনেক কিছু
শেখায় এটা যারা সম্মুখীন হয়েছে তারাই বুঝতে পারে। ইলতাহিমও এর বাইরে নন। সটকার্ট
পথে দ্রুত লাভবান হওয়া কিংবা কষ্টবিহীন দ্রুত ধনী হওয়ার ইচ্ছায় তিনি পা দিচ্ছেন
ভয়ংকর পথে। তিনি অবগত আছেন, এ পথ কোনো সহজ পথ নয়, বরং অনেকটাই বন্ধুর পথ। একপাশে
কষ্টের টিলা দেখা গেলেও অপর পাশে সফলতার পাহাড়।
তিনি এও জানেন, সোজা পথে ওই পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করা
অসম্ভব।
অতীত জীবনের
পুনরাবৃত্তি তার জীবনে আর না ঘটুক এ বিষয়ে খুবই সতর্ক ইলতাহিম কবিরাজ। ছোটবেলার কথা
কিছুতেই ভুলতে পারেন না তিনি। একই মহল্লা
থেকে তার আশেপাশের ছেলেরা সুস্বাদু খাবার খেয়ে, সুন্দর সুন্দর জামা পড়ে বিদ্যালয়ে গিয়েছে। আর তিনি তিন-চার তলা পাঞ্জাবি পড়ে ফুরকানিয়া
মাদরাসায় গিয়েছেন। তিন চার তলা পাঞ্জাবির
মানে হলো- অনেকদিন ধরে পাঞ্জাবি আয়রন না করার কারণে নিচ থেকে তিন চারটা ভাঁজ হয়ে
যায়। না খেয়ে মাদরাসায় গিয়েছেন
বহুবার। মাদরাসায় অবস্থানকালীন সময় বাদে
বাকি সময়টা তার বাবার সাথে ক্ষেতে খামারে কাজ করে কাটিয়েছেন। সেসব দিনগুলো যদিও অতীত, তথাপি
অতীত তাকে পীড়া দেয়।
ছেঁড়া জামা, খাদ্যাভাব, আর্থিক
দৈন্যতা ও সাময়িকভাবে জাগতিক অবমূল্যায়, এসবের ভিতর দিয়ে
ওপরওয়ালা ইলতাহিম কবিরাজকে
একটি সম্মানজনক স্থানে আসীন করতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু উচ্চবিলাসি মনোভাব এবং আর্থিক স্বাচ্ছন্দতার মোহ তাকে আচ্ছন্ন করে
ফেলেছে।
আর সে কারণেই খোদা তায়ালার ভয় ও পারলৌকিক চেতনা তার কলব থেকে
একেবারেই উবে গেছে। যেখানে
ঐশ্বরিক শক্তির নিদর্শন থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন তাগুতি
রাজত্ব কায়েম হয়েছে। নবী (সা:) বলেছেন:
"যে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে সে
আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং যে আমাদের সাথে প্রতারণা করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত
নয়।" (মুসলিম)
অন্য একটি বর্ণনা অনুযায়ী, নবী (সা.) বাজারে খাবারের স্তূপের পাশ দিয়ে
যাচ্ছিলেন। তিনি এটির ভিতরে তার হাত
রাখলেন এবং স্যাঁতসেঁতে অনুভব করলেন, যদিও পৃষ্ঠটি শুষ্ক ছিল। সে বলেছিল: ‘হে খাবারের মালিক, এটা কী?’ লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল, বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে। তিনি বললেন, ‘তুমি বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ খাবার উপরে রাখলে না, যাতে মানুষ দেখতে পায়! যে আমাদের সাথে প্রতারণা করে
সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (মুসলিম)
দু:খ কষ্টের সাথে আর সংগ্রাম করতে রাজি নন ইলতাহিম
কবিরাজ। তিনি মনে করেন, সমাজে আর দশটা প্রতিষ্ঠিত মানুষের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে
শুধুমাত্র সরল পথ অবলম্বন করলে চলবে না।
মানুষের জীবনে যেমন ভালো-মন্দ, দু:খ-কষ্ট ইত্যাদি
বিষয়গুলো জড়িত, তেমনি রোজগার করতে গেলে শতভাগ হালাল হওয়া
অসম্ভব। কিছু হারামের সংমিশ্রণ থাকবে,
এটাই স্বাভাবিক। তিনি নিজে
নিজে ফতওয়া তার অনুকুলে ভিড়াতে লাগলেন।
নীতিহীন চলাফেরাকে নানাভাবে জায়েজ করতে থাকেন মনে মনে।
ঝাড় ফুঁক, তাবিজ-তুমারসহ
বানোয়াট হরেকরকম তদবির নিয়ে মহা ব্যস্ত ইলতাহিম কবিরাজ। ক’দিন আগেই ইজ্জত আলীর ছেলের ক্যান্সার ধরা
পড়েছে, বাঁচার আর কোনো আশা নেই। হাসপাতাল থেকে বিদায় দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। ইজ্জত আলীসহ পরিবারের লোকজনও ছেলের জীবনের
ব্যাপারে হতাশ। বেহিসাব অর্থ ঢেলেছেন তিনি
তার যুবক ছেলের চিকিৎসার জন্য। ইলতাহিম
কবিরাজ শুরু থেকেই তার থেকে তদবির নেয়ার জন্য পিড়াপিড়ি করছেন। কিন্তু ইজ্জত আলী তাতে রাজি হননি। অবশেষে হাসপাতাল থেকে ফেরত দেয়ার পরদিন আবার
তিনি তদবিরের দাওয়াত ইজ্জত আলীর সামনে পেশ করেন।
নিরূপায় এবং অনেকটা ইজ্জত আলীর স্ত্রীর চাপে শেষ চিকিৎসা হিসেবে ইলতাহিমের তদবিরটা গ্রহণ করলেন। পনেরো
দিনের প্যাকেজে তদবির দিলেন তিনি। তদবিরের
হাদিয়াটা কিন্তু নেহায়েত কম নয়, তাও আবার সবটুকুই অগ্রিম
দিতে হয়েছে। কারণ,
কুরআন-হাদিসের মতো স্পর্শকাতর বিষয় এখানে জড়িত, তাই দর
কষাকষি করা শানের খেলাফ।
পাঁচ দিনের মাথায় ইজ্জত আলীর ছেলে শুধু পরিবার নয়, দুনিয়া থেকেই বিদায় হয়ে গেলো। ইজ্জত আলীর দুই ছেলের মধ্যে মনির ছিলো
বড়। সংসারের বড় ছেলের মৃত্যুতে তার বাবা
দারুণভাবে ভেঙ্গে পড়েন। ছেলের শোক কাটিয়ে
উঠতে তার প্রায় দেড় মাস সময় লেগে যায়। দেড়
মাস পর ইলতাহিম কবিরাজের সাথে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
পনেরো দিন তদবির করতে হয় নাই, মাত্র পাঁচদিন তদবির
করেছেন- হিসাব করে বাকি টাকাগুলো ফেরৎ দেন, বললেন, ইজ্জত আলী। ইলতাহিম কবিরাজ তার
কথা শুনে যেন আকাশ থেকে পড়লেন! তদবিরের টাকা ফেরৎ দিতে হয়, এ
কথা ইতিপূর্বে আর শোনেননি তিনি। তদবিরের
হাদিয়া ফেরৎ দেওয়া হয় না, এটা আপনি জানেন না? বললেন, ইলতাহিম কবিরাজ। অবশেষে বিষয়টি বিচার
সালিশিতে গড়ায়।
গ্রাম্য সালিশী বিচার ব্যবস্থা আমাদের
পূর্ব পুরুষের যমানাতেও ছিল, হাল যমানাতেও বহাল তবিয়তে আছে, তবে এর যথেষ্ঠ সংস্কার হয়েছে বিভিন্নভাবে। আগে সাধারণতঃ বয়স্ক মুরব্বীরা সালিশির কাজগুলো
করতেন। যাদের ছেলে মেয়ে নাতি নাতনী আছে, তারা অনেকেই লাঠি ভর করেই বিচারে যেতেন। বিচারের আসরে
অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে থাকতো বিভিন্ন ধরনের হুক্কা যেমন খাসি হুক্কা, নারিকেলের হুক্কা, চুরট, বিড়ি, মিস্কার, সিগারেট প্রভৃতি। মোড়লরা আয়েশের সঙ্গে হুক্কায় গুড়–ম গুড়–ম
টান দিতেন আর বিচার কার্য্য পরিচালনা তথা বাত চিৎ করতেন ভেবে চিন্তে। কথায় কথায় পই
প্রবাদ ছিল্লক (প্রবাদ প্রবচন) তো বলতেনই কথা প্রসঙ্গে হাল ও পুরনো আমলের বিভিন্ন
ধরনের উপমা এবং মিনি সাইজের পুরনো কিচ্ছা কাহিনীও উপস্থাপন করতেন অত্যান্ত
রসালোভাবে। সে সব আচার বিচারে এখনকার মতো কম বয়সী ছাবাল মুরব্বীদের দাপট ও সুযোগ
তেমন একটা ছিলনা এবং ঘুষের প্রচলনও তেমন ছিলনা বললেই চলে। তবে বিচার কার্য্যে
যথেষ্ট সততা ছিল, তাই মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ন্যায় বিচার পেত। অধিকন্তু
বয়স্ক বিচারকদের মনে এচিন্তা বদ্ধমূল ছিল যে “এক পাও গাতো (কবরে) আর এক পাও গাতর
পারো” দাঁড়ি গোফ সাদা হয়ে গেছে, এ বয়সে বে-ইনসাফী করলে আল্লাহর কাছে পরপারে আটকা পড়ে যাবো।
পাড়া গাঁয়ের সালিশী আগের তুলনায় অনেকটা
ভিন্নরূপ ধারন করেছে এবং মারামারিও আগের তুলনায় যথেষ্ট পরিমানে হ্রাস পেয়েছে বলে
জানা যায়। তবে সকল বিচারক বা মুরব্বী একই পদের নয়। এখনও আগের মতো সৎ বিচারক
অত্যান্ত স্বল্প সংখ্যক হলেও আছেন এবং হক কথা বলেই যাচ্ছেন। তবে ভেজালের ভীড়ে তারা
নিতান্ত কোনঠাসা হয়েই আছেন বলে মনে হয়। বিচার আচার সংগঠিত হওয়ার পেছনে দুপরে বিরোধ
ঝগড়া বা মারামারির সম্পর্ক থাকতেই হয়।
দিন দিন বিচার আচারে সততা বিলুপ্ত ও
আমানতের ব্যাপক খেয়ানত হওয়ায় আমাদের দেশে প্রায়ই গ্রামে গঞ্জে পাড়ায় মহল্লায়
মারাত্মক কোন্দল দেখা দেয়। যদ্দরুন অপরাধীরা আস্কারা পেয়ে যায়। এজন্য সমাজে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই,
রাহাজানি, হাইজ্যাক, চাঁদাবাজি,
ধর্ষন, এসিড নিক্ষেপ, হত্যা,
লুন্টন, মারামারি ইত্যাদি দিন দিন বেড়েই
চলেছে। থানায় মামলা রুজু করতে টাকার খেলা তথা প্রশাসনের অধিকাংশ স্তরে ঘুষ
দূর্নীতির ধ্বংসাত্মক প্রচলন থাকায় আমরা পরপর পাঁচবার দূর্নীতিতে গোটা পৃথিবীকে
পিছনে ফেলে এক নম্বরের ট্রপিটা ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে দেশের অধিকাংশ
মানুষ জালিমের জুলুম থেকে বাঁচতে পারছেনা এবং ন্যায় বিচার তথা উপযুক্ত ও সঠিক
বিচার ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সর্বক্ষেত্রেই
সৎ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিচারকার্য পরিচালনা করতে হবে। বিচারকের মনে
রাখতে হবে আল্লাহভীতি। পরকালে সকল কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে অবশ্যই জবাবদীহি
করার প্রয়োজন হবে, একথা সব সময়ই স্মরণ রাখা অত্যন্ত জরুরী।
সমাজের বিচারকগণ ইলতিহামের পক্ষে কাজ
করবে, এটাই স্বাভাবিক।
ইলতাহিম দোষী হলেও তাতে কিচ্ছু যায় আসেনা, রায় তার পক্ষেই
থাকবে। কারণ টাকা দেখলে নাকি কাঠের মূর্তিও হা করে টাকা খাওয়ার জন্যে। আর সমাজে
যারা বসবাস করছেন, তারা তো মানুষ। তাও সাধারণ মানুষ নন,
বলতে গেলে অসাধারণ।
নির্ধারিত দিনে সালিশি বসেছে। চারদিকে সাজ সাজ রব, অনেকটা উৎসবের মতো। গ্রামের সাধারণ মানুষের
মনে কৌতুহল, অনেকদিন পর একটা সালিশ দেখবে। আর অসাধারণ লোকদের
(বিচারক) আনন্দ কিছু ফুলুছ পাবে। ভিন্ন জন ভিন্নভাবে সালিশ বিচার উপভোগ করবে। জাতিগতভাবে যে চর্চা আমরা বহুবছর
ধরে করে আসছি, তা হলো দূর্বলের
প্রতি বৈষম্য। পেশিতান্ত্রিক মনোভাবের
কাছে একজন দূর্বলের ন্যায় বিচার পাওয়া খুবই ঠুনকো। দূর্বলদের কোনঠাসা করে রাখার
সেই প্রতিযোগিতায় সবলরা দোর্দন্ড প্রতাপশালী, যেন তাদের ওপর আর কেউ নেই।
এ দেশে কারও অধিকার কেড়ে নিয়ে তার জীবনকে মূল্যহীন করে
দেওয়া অনেক সহজ। সালিশে ইজ্জত আলীর ন্যায্য পাওনা আদায়ের পরিবর্তে উল্টো তাকে
অপমান অপদস্থ হতে হলো শুধুমাত্র পেশি শক্তির বলে। একে তো ছেলে হারানোর শোক, অপরদিকে মৃত ছেলেকে নিয়ে ধর্ম বাণিজ্যের পাশাপাশি মাদবরদের
অবৈধ সালিশ। ইলতাহিম টাকা দিয়ে বিচার এবং বিচারক তার অনুকুলে ভিড়িয়েছে, হায়রে জগত সংসার! মুখ বুজে সহ্য করা ব্যতিত ইজ্জত আলীর অন্য কোন পথ খোলা
নেই।
ইলতাহিম কবিরাজরা সর্বকালেই ছিল, আছে এবং থাকবে। এরা
ধর্মীয় আবেগকে পুজি করে সরলমনা মানুষের বারোটা বাজিয়ে দেয়। স্থানীয় শক্তিসহ
প্রশাসন পর্যন্ত এদের দখলদারিত্বে। স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসে। যেমন-
মসজিদ, মাদরাসা, কুরআন, হাদিস, আল্লাহ, রাসুল এসব
বিষয়গুলো নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে। মূলত এরা সঠিক ইসলামের
ধারেকাছেও নেই, এরা ভন্ড, বক ধার্মিক।
মন্তব্য