fbpx fbpx fbpx
বুধবার, ০৩, জুন, ২০২৬ , ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইমানে মুজমাল- ইমানে মুফাসসাল এর অর্থ ও তাৎপর্য

ইমানে মুজমাল

ইমানে মুজমাল অর্থ- ইমান তথা বিশ্বাস এবং ইসলাম তথা আনুগত্যের সারমর্ম। এটি হলো-

 امَنْتُ بِاللهِ كَمَا هُوَ بِاَسْمَائِه وَصِفَاتِه وَقَبِلْتُ جَمِيْعَ اَحْكَامِه وَاَرْكَانِه

উচ্চারণঃ আ-মানতু বিল্লা-হি কামা-হুয়া বিআসমা-ইহী ওয়া সিফা-তিহী ওয়া ক্বাবিলতু জামী-আ আহকা-মিহী ওয়া আরকা-নিহী।

অর্থাৎ: আমি ইমান আনলাম সর্বসুন্দর নামধারী ও সর্ববিদ গুণের অধিকারী আল্লাহ তাআলার প্রতি এবং মেনে নিলাম তাঁর সকল আদেশ ও বিধানাবলি। (‘ওয়া আরকানি হি’ মূলত ‘আহকামি হি’ এরই ব্যাখ্যা বা বিবরণ)। (শুআবুল ইমান)।

ইমানে মুজমাল-এর বিশেষ তাৎপর্য

ইমানে মুজমাল-এর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দুটি দিক রয়েছে। প্রথম অংশে মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের সত্তা ও অস্তিত্বে বিশ্বাসের ঘোষণা রয়েছে এবং বলা হয়েছে, ‘বিশ্বাস করলাম যেমন রয়েছেন তিনি স্বীয় সত্তায়, নামাবলি ও গুণাবলিসহ।’ কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে ‘যে জন স্বর্গে ও পৃথিবীতে আছে সে–ই তাঁহার নিকটে প্রার্থনা করে, প্রতিদিন তিনি একাবস্থায় আছেন।’ (সুরা-৫৫ [৯৭] আর রহমান, রুকু: ২, আয়াত: ২৯, পারা: ২৭ পৃষ্ঠা: ৫৩৩/১১)।

দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলার প্রতি সম্পূর্ণ আনুগত্য ও তাঁর সকল হুকুম-আহকাম বা বিধিবিধান নিঃশর্তভাবে মানার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে, ‘আরও মেনে নিলাম তাঁর সকল আদেশ-নিষেধ ও বিধানাবলি।’ কোরআন মজিদে বলা হয়েছে: ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ইসলামে পরিপূর্ণরূপে প্রবেশ করো, শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না; নিশ্চয়ই সে তোমার প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা-২ [৮৭] বাকারা, রুকু: ২৫, আয়াত: ২০৮, পারা: ২; পৃষ্ঠা: ৩৩/১১)।

ইমানে মুফাসসাল

ইমানে মুফাসসাল মানে হলো ইমান ও ইসলামের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ। এটি হলো:

‘امَنْتُ بِاللهِ وَمَلئِكَتِه وَكُتُبِه وَرَسُوْلِه وَالْيَوْمِ الْاخِرِ وَالْقَدْرِ خَيْرِه وَشَرِّه مِنَ اللهِ تَعَالى وَالْبَعْثِ بَعْدَالْمَوْتِ

উচ্চারণঃ আ-মানতু বিল্লা-হি ওয়া মালা-ইকাতিহী ওয়া কুতুবিহী ওয়া রুসূলিহী ওয়াল ইয়াউমিল আ-খিরী, ওয়াল ক্বাদরি খায়রিহী-ওয়া শাররিহী মিনাল্লা-হি তাআলা ওয়াল বা’সি বা’দাল মাওত।

অর্থাৎ: আমি বিশ্বাস আনলাম আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসুলগণের প্রতি, কিয়ামতের দিনের প্রতি; তাকদিরের প্রতি, ভাগ্যের ভালো-মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে; মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি।’ (শুআবুল ইমান)।

ইমানে মুফাসসালের বিশেষ তাৎপর্য

ইমানে মুফাসসালে অতীব গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক সাতটি বিষয় বর্ণিত হয়েছে, যা প্রতিটি বিশ্বাসী মুমিন বিনা বাক্যব্যয়ে স্বীকার করবেন। সাতটি বিষয় যথাক্রমে:

(১) আল্লাহ

(২) ফেরেশতা

(৩) কিতাব

(৪) রাসুল

(৫) কিয়ামত

(৬) তাকদির

(৭) পরকাল।

কালিমা তাইয়েবাতে এবং কালিমা শাহাদাতে ইমান বলতে শুধু আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর প্রতি বিশ্বাস করাকে বোঝানো হয়েছে। ইমানের মূল তিনটি বিষয় হলো:

(১) তওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদ 

(২) রিসালাত বা নবী-রাসুলদের প্রতি বিশ্বাস

(৩) আখিরাত বা পরকালের প্রতি বিশ্বাস।

এই মর্মে কোরআন করিমে বলা হয়েছে:

الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ


وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ وَبِالْآَخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ


(মুত্তাকিন তথা সাবধানি মুমিন তারা) যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, সালাত কায়েম করে, আমি যে রিজিক তাদের দিয়েছি তা হতে ব্যয় করে। আর যারা বিশ্বাস করে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আপনার পূর্বে, আর তারা পরকালে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ৩-৪)।

মন্তব্য