আমাকে চায়ের দোকানে কেউ দেখে না

ইসলামে জ্ঞান আর আলেমদের মর্যাদা অপরিসীম। কুরআনে আল্লাহ বলছেন, “হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি কর।” hadithbd.comএই আয়াত আমাদেরকে নির্দেশ দেয় যে জ্ঞান অর্জন করা মহান লক্ষ্য। আল্লাহ আরও বলেন, “যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে বহু মর্যাদায় উন্নীত করবে” hadithbd.com,অর্থাৎ জ্ঞানের বাকি সব বিশ্বের উপরে আলেমদের মর্যাদা আছে। মহানবী (সাঃ) নিজে বলেছেন, “যে ব্যক্তি জ্ঞানের সন্ধানে কোনো পথ অনুসরণ করে, আল্লাহ্ তাআলা তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের পথ সুগম করে দেন…” sunnah.comsunnah.com। এছাড়া নবীজী (সাঃ) আরও বলেন, “ইসলামের একুশটি ফরজের মধ্যে জ্ঞান অর্জন ফারজ” (সুনান ইবনু মাজাহ ২৯১৩) hadithbd.com। কোরআন-হাদিসসহ ইসলামের উর্দ্ধতাপূর্ণ শিক্ষায় আলেমদের দায়িত্ব ও মর্যাদা স্পষ্ট, তাই তারা নিজেদের কাজের জন্য ঠিকমতো অর্থায়ন পাওয়াটা ধর্মীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: প্রারম্ভিক ইসলাম থেকে মধ্যযুগ
ইসলামের প্রথম যুগে আলেমদের আর্থিক অবস্থা ছিল সাধারণ মানুষদের মতোই নির্ভরশীল। নবী (সাঃ) ও তাঁর সাহাবাগণ ছিলেন শালীন জীবনযাপনের অনুশীলক। অনেক সময় আলেমরা কোনো সরকারি বেতন না নিয়ে শিল্প বা কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিলেন। তবুও ইসলামী যুগে সামগ্রিক অর্থনীতির ধারায় পার্থক্য ছিল। আল্লাহ পাক নবী (সাঃ) এর মাধ্যমে তার উম্মতকে পরামর্শ দিয়েছেন যে, নামাজের পর“ভূ-পৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ে আল্লাহ্’র রিযিক (রিজিক) সন্ধান করা এবং আল্লাহ্’কে স্মরণ করা” alkawsar.com; অর্থাৎ নিজেদের জীবিকা অর্জন করাও ইসলামে অনুমোদিত। আলেমরাও দীর্ঘকাল জাকাত-বিতরণ বা দান-খয়রাতের দ্বারা ভরসা রেখেছেন। তাছাড়া, খলিফারা (অবস্থাপনায় দায়িত্বশীলরা) যখন বিভিন্ন বিজ্ঞান ও দ্বীনি বিদ্যায় অবদানের জন্য আলেমদের মূল্যায়ন করতেন, তখন পবিত্র ধর্মীয় শিক্ষা কাজের জন্য কাঙ্খিত সমর্থন মিলত।
মধ্যযুগেওলামাগণের ক্ষেত্রে অবস্থা বিভিন্ন ছিল। উদাহরণস্বরূপ, উমাইয়া ও আব্বাসীয় শাসনামলে অনেক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হতো এবং ওয়াক্ফ অর্থায়নে শিক্ষক-অধ্যাপকদের সহযোগিতা করা হতো। ওসমানীয় সাম্রাজ্যে সার্বভৌমরা ও ব্যক্তিগত ওয়াকফদের মাধ্যমে মাদ্রাসা এবং মসজিদ চালানোর জন্য টাকা বরাদ্দ করতেন muslimheritage.commuslimheritage.com। ইস্তানবুলের প্রথম শিখলায় মুদাররিস (প্রধান শিক্ষক)‘দাউদ ইবনে কায়সেরি’এর দৈনিক বেতন ছিল ৩০ আকচে (বর্তমানে আনুমানিক ৬০ ডলারের মতো) muslimheritage.com। এরকম ব্যবস্থা আলেমদের দেওয়ানি জীবিকা নিশ্চিত করার চেষ্টা ছিল। তবে এও ছিল যে, অনেক আলেম নিজ উদ্যোগে ব্যবসা-শিল্প করে সংসার চালাতেন বা পেশাগত কাজ করেছেন। মুফতিদের ক্ষেত্রে খাজা-হাকিম (রাষ্ট্রের চাকরিজীবী), দফতরের পেশা ইত্যাদি ছিল উপার্জনের বিকল্প পন্থা alkawsar.comalkawsar.com। ইতিহাসে এমন অনেক আলেমের কথা আছে যারা পরিশ্রুত জীবন-বিধি নিয়ে ধর্মীয় কর্মকান্ড চালিয়েছেন, যেমন হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বাড়ি-মালামাল ছাড়াই পাঠদান করতেন।
ইসলামী ঐতিহ্যেভিক্ষাশুধু দরিদ্রের জন্যেই বৈধ, শক্তিশালী ও সচেতন ব্যক্তির পক্ষে নয় ittefaq.com.bd। তবে ধর্মীয় দায়িত্ববোধে অনেক আলেম নিজেদের পেশাগত জীবন থেকে অতিরিক্ত দান করতেন এবং কখনও কখনও জনসমর্থন চেয়েও। উদাহরণস্বরূপ, সাহাবা মু’আজ ইবনে জাবাল (রা.) যমেনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি দেখলেন নিজ এলাকায় খুব প্রয়োজন নেই, তাই স্থানীয় জাকাতের অর্ধেক অর্থ তিনি অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দিলেন nzfcanada.com। এতে দেখা যায়, আলেমদের কাছে মানবকল্যাণ ও ধর্মপ্রচারের কাজ প্রাধান্য পেত।
আলেমদের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক অবস্থা
আজকের বাংলাদেশ ও বিশ্বেইসলামি শিক্ষাব্যবস্থাদু-ভাগে বিভক্ত: সরকারি নিয়ন্ত্রিত আলিয়া মাদ্রাসা এবং বেসরকারি কওমি মাদ্রাসা। আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষকরা সরকার থেকে নিয়মিত বেতন পান, আমন্ত্রণে যে কোনো ইসলামী পরিবারই তাদের জন্য খাদ্য, বাসস্থান দিয়ে সহযোগিতা করে। কিন্তু কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকরা প্রধানত হুজুর-দারুসসালাতে ভিক্ষা (জনপক্ষে দান চাওয়া) বা ছাত্রদের খরচে টিকে থাকেন। সাম্প্রতিক সরকারি উদ্যোগে কওমি মাদ্রাসারদাওরা-ই হাদীসকে স্নাতকোত্তর সমমানস্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে daily-sun.com;এর ফলে অনেক আলেমের জন্য সরকারি চাকরির সুযোগ তৈরি হলো। একইসঙ্গে ৭৩০০০টি মক্তব ভিত্তিক শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন এবং সেখানে শিক্ষক নিয়োগ করে সরকার বেতন দেওয়া শুরু করেছে daily-sun.com। উপরন্তু একটিইমাম-মুয়াজ্জিন ট্রাস্টপ্রতিষ্ঠা করে ১০ কোটি টাকা তহবিল দেয়া, যা আলেমদের কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে daily-sun.com।
তবুওগণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে ইমাম ও খতিবদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো নয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, গড়ে একজন ইমাম মাসে মাত্র ≈১০,০৪৫ টাকা উপার্জন করেন এবং ৬২.৭% ইমামের আয় ৯,৯৯০ টাকার কম rsisinternational.org। অনেক মসজিদ প্রাইভেট কমিটির নিয়ন্ত্রণে এবং প্রায় ৬ লাখ ইমামের মধ্যে অধিকাংশ অস্থায়ী বা সাধারণ চুক্তিভিত্তিক কর্মী dhakatribune.comdhakatribune.com। এমন অবস্থায় ধর্মীয় উপদেষ্টা সহ অনেক হুজুর নিজ জীবনযাপন চালাতে জনসমর্থনে নির্ভর করেন।
আলেমের ভিক্ষা এবং সমাজের চেতনা
কখনো কেউ বলতে পারে, আলেম যখন ভিক্ষায় নামে তখন তাঁর গৌরব নষ্ট হয়। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে এটি এমন নয়। ধর্মপ্রচারের কাজে অর্থ সংগ্রহ কখনোনিজস্ব মুনাফার জন্যহয় না; এটিসাধারণ মাদ্রাসা ও শিক্ষা সম্প্রসারণের জন্য। ইসলামের প্রাকটিসে বারবার জোর দেওয়া হয়েছে সত্যনিষ্ঠা ও সৎব্যবহার সম্পর্কে। আলেমদের উচিত অনুদান নেওয়ার সময় সততা রাখা এবং পরিবেশন যেভাবে হচ্ছে তা স্পষ্ট করা। অন্যদিকে, সমাজের কথিত ‘ভিক্ষা’ ধারণাকে আলেমদের পরিস্থিতিতে মিলানো উচিত নয়।“যে ব্যক্তি কাউকে কল্যাণের জন্য পরিচালনা করে, তাকে ততটুকু পুরস্কার দেয়া হবে যেন সে নিজেই করেছে” sunnah.com – এ হাদিসে বলা হয়েছে, আলেমরা ধর্মীয় জ্ঞান-সেবা তুলে ধরার মাধ্যমে মুসল্লিদের নেক কাজের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যার পুরস্কার পরোক্ষভাবেই তাদেরও লেখা হয়। অনেক বড় সাহাবিরাও (রা.) নবী (সাঃ) বা খলিফাদের ওপর ভরসা করতেন। তেমনি আজ যে আলেমরা জনসম্মুখে সহযোগিতা চায়, সেটি হলো ইসলামী সেবা চালু রাখার জন্য। ইসলাম ধর্ম মানবকল্যাণে প্রতিষ্ঠিত; আলেমদের পাঠদান, তাজবিদ, হাদিস-তাফসীর শেখানোর কাজকে যত্নশীল করার জন্য সমাজের পক্ষ থেকে সাহায্য অবশ্যই বিচক্ষণ কাজ।
জ্ঞান ও আধ্যাত্মিক সেবা: একটি নির্বিশেষ দায়
আলেমদের জীবিকা অর্জনে সাহায্য করা কেবল ফৌজদারি নয়; বরং এটি একটা পুণ্যজনক কাজ। আল্লাহ বলেন, “আল্লাহকে যে কিছু দিয়ে তোমরা সমৃদ্ধ করো, তুমি হারাইবে না; সত্ত্বা আল্লাহ সমৃদ্ধ, প্রশংসিত।” islamqa.infoঅর্থাৎ, আলেমদের কাজের জন্য অনুদান দিলে আল্লাহ্ তাকে অনেক বেশি ফেরত দিবেন। ইবাদতের মাধ্যমে জ্ঞান ছড়ানো একটি প্রচারকর্ম; এর মাধ্যমে বহু মানুষ উপকার পায়। যেমন নবীজী (সাঃ) বলেছেন, “এই স্থানে মানুষের ভোগ-বিলাসে যা কিছু বণ্টন করা হবে, আল্লাহ তার কর্তব্য হিসেবেই তার কাজগুলোকে ভরিয়ে দেবেন” (মিশকাত ৭৯৯)।
বর্তমান বিশ্বে আলেমরা নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে আছেন।অনেক দেশে (সৌদি, সংযুক্ত আরব ইত্যাদি) ইমাম ও খতিবদের সরকারিভাবে বেতন দেওয়া হয়, তাই তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা نسبتا ভাল। কিন্তুউন্নয়নশীল দেশেযেমন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নাইজেরিয়াসহ অনেক রাষ্ট্রে মসজিদ-মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি প্রধানত স্থানীয় অনুদান-কর আর ছোটখাটো বেতনে আলেমদের জীবন চালায়। বাংলাদেশে ধর্মীয় পরামর্শদাতা আশংকা প্রকাশ করেছেন যে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন কাঠামো অত্যন্ত নিম্ন dhakatribune.com। একই কারণে সমাজে কিছু মানুষ ভুল ধারণা পোষণ করে যে, কেউ কেউ সম্ভাব্য ভিক্ষুক-উল্লেখের মাধ্যমে ধর্মপ্রচারকে ব্যক্তিগত করণে পরিণত করছেন। এ ক্ষেত্রে ভুল চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
আলেমদের উদ্দেশ্য ও জনসম্পৃক্ততা
ভিক্ষা কিংবা অনুদানের জন্য আলেমরা সামনে এলে এর প্রধান কারণ হলোদ্বীনি কাজ অগ্রসর রাখা, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত উপার্জন নয়। অনেক মুসলমানেরই দৈনিক জীবনে মাদ্রাসার দরকার, যেখানে আলেমরা কোরআন-হাদিস শিক্ষা দেন। কেউ একজন অলসভাবে শিক্ষাদানের কাজ চালিয়ে যেতে পারে না যদি তার জীবিকার সঙ্কট থাকে। এজন্য যেমন আবু বকর সিদ্দিক (রা.) নবীকে সবসময় সমর্থন দিয়ে গিয়েছিলেন, তেমনি আজকের আলেমরাও কখনো কখনো জনসমাজের কাছে অনুদান চেয়ে থাকেন যেন তারা শিক্ষা ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে পারেন। ইসলামের দর্শনেসৎপথে আয় করা প্রশংসনীয়, অবৈধ পথে নয় (সূরা জুমআর ৬২:১০) alkawsar.com। পাশাপাশি, প্রত্যেক মুসলমানের মাঝে দান-সহযোগিতা করার প্রেরণা রয়েছে (কুরআনে“ভালো উপার্জনের থেকে খারাপ উপার্জন বর্জন কর” islamqa.info)। দেশের আলেমরা এই সহযোগিতা চায় সমাজের কল্যাণার্থে: যেমনটা রসূল (সাঃ) চেয়েছিলেন।
আলেম যখন ভিক্ষুকের মত ভূমিকা পালন করেন, তখন সেটিচাটুকারী নয় বরং জরুরি প্রয়াস। ‘তাকওয়া সম্পন্ন আলেম’ সবসময় আল্লাহভীরু থাকেন এবং সম্পদের সন্ধানে থাকেন না (হাদিসে বর্ণিত)। বরং সমাজের আত্মিক প্রয়োজন মেটাতে চেষ্টায় থাকেন। যেমন ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আলেমের জীবনই জ্ঞান দিয়ে মানুষকে শিক্ষা দেওয়ায় অতুলনীয়; এমন দু’জন লোক ছাড়া ঈর্ষার অধিকার অন্য কারও নেই – যাদের একজনকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং সৎ পথে ব্যয় করেন, এবং যাকে জ্ঞান দিয়েছেন সে তার মাধ্যমে অন্যকে শিক্ষিত করে hadithbd.com। এই হাদিস দেখায় যে আলেমরা সত্যি সৎপথে থাকলে সবার ঈর্ষনীয়।
পরিশেষে – পরামর্শ ও প্রতিফলন
আলেমদের আর্থিক সমস্যা পুরোপুরি শেষ করা গেলে দীন বিরাজিত হবে, কিন্তু সেটাও অন্যসব পরিবর্তনান্তর মতো পর্যায়ক্রমে সম্ভব। তবে কিছু পদক্ষেপ বিবেচনা করা যেতে পারে।আলেমদের জন্য:জীবিকা সংগ্রহের জন্য উঁচু পদ-পদবি বা অপাংক্তি নয়, বরং স্বচ্ছতায় দীনীয় কাজ চালানো কর্তব্য। দরিদ্রতম সময়েও তাদের উচিত ধার্মিক সচ্ছলতা বজায় রাখা, অপর দিকে জালিয়াতি বা বিলাসিতা পরিহার করা। বিভিন্ন উৎস থেকে উপার্জন করার সুযোগ খুঁজে নেওয়া ভাল – যেমন আল্লাহর রাসূল (সাঃ) নিজে কারিগরি কাজ করতেন, তাই আলেমরাও চাকরি বা ছোট ব্যবসায় নিযুক্ত হতে পারেন যাতে মাদ্রাসার উপর অসীম নির্ভরতা কমে।
সমাজের জন্য:আলেমদের প্রতি শ্রদ্ধা অক্ষুন্ন রাখা এবং সহায়তা দেওয়া উচিত। তাদের জ্ঞান-সেবা মানবজাতির কল্যাণে দরকার। তাই ব্যক্তিগত দান দিয়ে বা ওয়াক্ফ আর্থিক সহায়তা বাড়িয়ে দিয়ে শুদ্ধ-সংগঠিত ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার নিশ্চিত করতে হবে। তা ছাড়াও, গৃহীত তহবিলের স্বচ্ছ হিসাব রাখতে আলেমদের উৎসাহিত করতে হবে, যেন আস্থা বাড়ে। সরকারের পক্ষেও উচিত ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্রগুলিকে নিয়মিত অর্থায়ন এবং উন্নয়ন করা, যেমন ইমাম-মুয়াজ্জিন ফান্ড বা মডেল মসজিদ প্রকল্প।
আলেমদের কাজ শুধুমাত্র বই কেনা বা মাদ্রাসা চালানোর বিষয় নয়, বরং একজন আলেম একজন সমাজের আধ্যাত্মিক অভিভাবক। তাঁরা মানুষের মাঝে আলোর দ্যুতি ছড়ান এবং ইসলামের পথে পরিচালিত করেন। তাদের প্রতি সহযোগিতা কেবল করুণা নয়, বরং ইসলামের তাৎপর্যপূর্ণ একটি দায়িত্ব। আলেম যখন ভিক্ষুকের মতো জনসমক্ষে অনুদানের আবেদন করেন, তখন আমাদের উচিত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা: সেটিকেঅহংকারের বিষয় নয়বরংজনকল্যাণের উদ্দ্যোগমনে করা। ধর্মপ্রচারী আলেমের ত্যাগ ও জীবন-সংগ্রাম মর্যাদার দাবি রাখে, এবং তাদের মাধ্যমে মুসলিম সমাজ আলোকিত হয়। তাই আমরা আলেম-লোক সেবকদের নৈতিক ও আর্থিক উন্নয়নে সচেষ্ট থাকি, যেন ইসলামের সত্যধারা অব্যাহত থাকে।
সূত্র:কুরআন ও হাদিস, হাদিসের অনুবাদিকা-পড়া গ্রন্থাদি hadithbd.comsunnah.comsunnah.comislamweb.netsunnah.com,ইসলামিক গবেষণালেখা ও সংবাদপত্র muslimheritage.comdaily-sun.comrsisinternational.orgdhakatribune.com।