Dawatul Islam | দুনিয়াতে প্রথম অস্বাভাবিক মৃত্যু

শনিবার, ২৩, মে, ২০২৬ , ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দুনিয়াতে প্রথম অস্বাভাবিক মৃত্যু
১৪ মে ২০২৫ ১০:৫১ মিনিট

আদম (আ:) ও হাওয়া (আ:) এর ওরশ থেকে আল্লাহ তায়ালার হুকুমে জোড়ায় জোড়ায় সন্তান হতো। একজন ছেলে, একজন মেয়ে। আল্লাহর হুকুমে পূর্বের জোড়ার ছেলে পরের জোড়ার মেয়েকে এবং পূর্বের জোড়ার মেয়ের সাথে পরের জোড়ার ছেলের বিয়ে হতো। পবিত্র কোরআনে আদম (আ:) এর দুই পুত্রের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। কাবিল ছিল আদম (আ:) এর প্রথম ছেলে সন্তান এবং প্রথম মেয়ে সন্তান ছিল ইকলিমা। শারীরিকভাবে দ্বিতীয় জোড়ার ছেলে হাবিল ছিল থেকে দূর্বল। কুরআনের বর্ণনা অনুসারে কাবিল তার ছোট ভাই হাবিলকে হত্যা করেছিল। এই হত্যাটি ছিল মানব ইতিহাসের প্রথম অস্বাভাবিক মৃত্যু।

তবে মানব ইতিহাসের প্রথম এই হত্যা কান্ডের কারণ কি ছিল তা কুরআন হাদীসে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়নি। বেশিরভাগ ঐতিহাসিকগণ এর পেছনে নারীঘটিত কারণ বর্ণনা করেন। এর উপর ভিত্তি করেই বলা হয় ইতিহাসের প্রথম হত্যাকান্ডের পেছনে আছে একজন নারী। তবে গবেষক আলেমদের অনেকেই নারীঘটিত বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলেছেন। আল্লাহর হুকুমে আদম পুত্রদ্বয় পশু কুরবাণী পেশ করেন। অত:পর তাদের একজন হাবিলের কুরবাণী কবুল হলো কিন্তু কাবিলের কুরবাণী কবুল হলো না। কুরবাণী কবুল হওয়ার লক্ষণ ছিলো আল্লাহর হুকুমে আকাশ থেকে অগ্নি এসে পশুটিকে জালিয়ে দিত যা হাবিলের কোরবাণীর সময় হয়েছিল। তখন কাবিল বললো হাবিলকে, আমি তোমাকে অবশ্যই হত্যা করবো। জবাবে হাবিল বললো, আল্লাহ কেবল আল্লাহ ভীরুদের থেকে কুরবাণী কবুল করে। যদিও তুমি আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাত বাড়াও কিন্তু আমি তা করবো না। আমি বিশ^প্রভু আল্লাহ কে ভয় করি। আমি মনে করি এর ফলে তুমি আমাকে হত্যার পাপ ও তোমার জন্য পাপগুলো বোঝা নিয়ে জাহান্নামীবাসী হবে। আর সেটাই হলো  অত্যাচারীদের কর্মফল।তার মন তাকে ভ্রাতৃহত্যার জন্য প্ররোচিত করলো এবং সে তাকে হত্যা করলো ফলে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হলো। হাবিলের মৃত দেহ কাবিল কি করবে বুঝতে পারছিলো না।

অত:পর আল্লাহ একটি কাক পাঠালেন যে মাটি খনন করতে লাগলো এটা দেখানোর জন্য যে কিভাবে তার ভাইয়ের মৃতদেহ দাফন করবে, সে বললো, হায় আমি কি এই কাকটির মত হতে পারলাম না, যাতে আমি আমার ভাইয়ের মৃতদেহ দাফন করতে পারি! অত:পর সে অনুতপ্ত হলো। [সূরা মায়েদা, আয়াত ২৭-৩১]

হাবিল কাবিলের ঘটনা বর্ণনায় বেশিভাগ ঐতিহাসিক হত্যাকান্ডের পেছনে নারীঘটিত কারণ ছিল বলে উল্লেখ করেন। তাঁরা বলেন আদম (আ:) এর শরিয়তের বিধান লঙ্ঘন করে কাবিল নিজের যমজ সুন্দরী বোনকে বিয়ে করতে চাইছিল। এ ক্ষেত্রে হাবিলকে পথের কাঁটা মনে করে তাকে চিরতরে সরিয়ে দিতেই তাকে হত্যা করেছিল সে। তবে গবেষক আলেমরা বলেন এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো মুরসাল (যা অসম্পূর্ণ সনদে বর্ণিত) দূর্বল ও বানোয়াট। আল্লামা ইবনে কাসির (রহ:) বলেন, এগুলো ইসরায়েলি উপকথা মাত্র এবং পরবর্তী সময়ে মুসলমান হওয়া সাবেক ইহুদি পন্ডিত কাব আল আহবার থেকে বর্ণনাকৃত।

আল্লামা ইবনে কাসির (রহ:) আরও বলেন; আদম পুত্রদ্বয়ের কুরবাণী বিশেষ কোনো কারণে ছিল না বা এর কোন সঙ্গে কোন নারী ঘটিত বিষয় জড়িত ছিল না। এর প্রকৃত কারণ ছিল হিংসা বা পরশ্রীকাতরতা কুরআনের বর্ণনা (সূরা মায়িদার ২৭ নং আয়াত) থেকেই সেটি অনুমাণ করা যায়। হাবিলের কুরবাণী কবুল হওয়ায় এবং কাবিলের কুরবাণী কবুল না হওয়ায় কাবিলের মনে হিংসা তৈরি হয়।

এই ঘটনার পেছনে নারীঘটিত যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়, তা যদি সত্যিও হয় তবুও কোরআন বর্ণনা থেকে বোঝায় এখানে হিংসায় ছিল প্রধান ও মুখ্য কারণ। যদিও কুরবাণী কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে হাবিলের কোন হাত ছিল না। তবে ভালোর প্রতি এই হিংসা ও আক্রোশ মন্দ লোকদের মজ্জাগত স্বভাব যা পৃথিবীর সর্বযুগে বিদ্যমান ছিল।

সব সংবাদ