আমাকে চায়ের দোকানে কেউ দেখে না

দারিদ্রতা এক ভয়ঙ্কর শব্দের নাম। শুধু দরিদ্র ব্যক্তিই জানে এটা কত ভয়ংকর। যেখানে দারিদ্রতা সেখানে সম্মান আত্মসম্মান কোন কিছুর মূল্য বজায় থাকে না। এ কথাটি মুফতি ফাওখাও আলী খুব ভালো করে বুঝেছিলেন। মূলত তিনি মুফতি নন, পাড়াগায়ের মাদরাসায় কয়েক জামাত পড়েছিলেন মাত্র। অজোপাড়া গায়ে থেকে আর পেটের জ্বালা সহ্য করতে পারছিলেন না। তাইতো রাজধানীতে পাড়ি জমান। উদ্দেশ্য দুমুঠো ভাত যদি কপালে জুটে।
ফাওখাও আলী ঢাকায় এসে যা দেখতে পান তাতে নিজেকে যথেষ্ঠ অযোগ্য সার্টিফাই করেন। কিন্তু পিছু হটলে চলবেনা, কারণ বাড়িতে মা-বাবা, ভাই-বোন তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। তাই তিনি রাজধানীর শহরতলী এলাকায় নিজের নামের শুরুতে মাওলানা জুড়ে দিয়ে ঢিলা ঢোলা জামা পড়ে পাগলের মতো ঘুরতে থাকেন। খুঁজতে খুঁজতে মোনাসেব মতো একটা এলাকা পেয়েও যান। আর যায় কোথায়! এলাকার মানুষকে হেদায়াত করতে লাগলেন শরীর মনের সর্বশক্তি দিয়ে। আর যাই হোক এরাই তার মুখের আহার জোটানোর মাধ্যম, একথা সেদিন তিনি খুব ভালো করে আন্দাজ করতে পেরেছিলেন।
ফাওখাও আলীর মনটা আজ বেশ ফুরফুরে। মহল্লার মানুষ আগ্রহ ভরে তার কথা শুনেছে এবং ইবাদতের জন্য একটা ইবাদতখানা প্রয়োজন এ বিষয়টি তারা আমলে নিয়েছে। মসজিদের কাজ শুরু হলে এখান থেকেই মুফতি সাহেবের জীবন চলার একটা বিহীত হবে, সন্দেহ নেই। মেজাজটা ফুরফুরা হওয়ার আরও একটা কারণও আছে- পাড়াগায়ের পাবলিকের মতো এখানকার মানুষ অন্যকে নিয়ে মাথা ঘামায় না, সমালোচনাও করে না।
আপাতত: একটা টিনসেড ভাড়া নিয়ে সেখানেই দিন গুজরান করছেন তিনি। কয়েকজনকে নিয়ে যোহরের নামাজ আদায় করেছেন এক মুসুল্লির বাসার বারান্দায়। এখন নিজের ভাড়া করা টিনসেডে বিশ্রাম নিচ্ছেন। চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন বড় আয়েশের সহিত। রাজ্যের চিন্তা তার মাথায়। এ চিন্তা-ফিকির কোন মামুলি বিষয় নয়, বরং জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার বিশাল ফিকির। গ্রাম থেকে অনেক কষ্ট করে শহরে এসেছেন। যেখানে আপনজন বলতে কেউ নেই। নিজে নিজে একটা বিহীত ব্যবস্থা করা চাট্টেখানি কথা নয়। প্রাথমিকভাবে নিজেকে সফল হিসেবে গণ্য করে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছেন, মনে করতে পারছেন না। রেলগাড়ীর শব্দে আসর নামাজের ত্রিশ মিনিট পূর্বে ঘুম ভেঙ্গে যায়।
“যদি তোমার স্বপ্ন দেখার সাহস থাকে আর সেই স্বপ্নের জন্য তুমি মরতেও রাজি থাকো, তবে জেনে রেখো টাকার অভাবে তোমার কোনো স্বপ্নই আটকে থাকবে না।” ঘুম থেকে জাগতে জাগতে মুফতি ফাওখাও আলীর কোন এক জ্ঞানী ব্যক্তির উক্ত কথাটি মনে পড়ে যায়। হাদিসের এথাটিও তার অজানা নয়-“দারিদ্র্যের আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করো। কেননা ইহার অভিশাপ মানুষকে কাফেরে পরিনত করে।”
জীবনের আঁকে-বাঁকে ভরপুর বিচিত্রতা। বিচিত্র এ জীবনে ঘটে যায় অসংখ্য বিচিত্র ঘটনা। আনন্দ-বেদনা, দুঃখ-সুখ, ভালো-মন্দের মিশেলে এগিয়ে চলে জীবন খরস্রোতা নদীর মতো। কখনো মুক্ত পাখির মতো, কখনওবা চুপসে যাওয়া ফুলের মতো। হারিয়ে যায় কত চেনা মুখ, কতশত স্মৃতি। নীল নীলিমায় দূরে কোথায় মন যে হারায় ব্যাকুলতায়। মানুষের জীবন তো একটাই। অথচ এ জীবনে কত কিছুই না ঘটে যায়। জীবনের একেকটা মুহূর্ত যেনো একেকরকম মনে হয়। কখনো জমাট বরফের মতো কষ্টগুলো বুকের মধ্যে জমতে থাকে। জীবনটা বড় অসহ্য মনে হয় তখন। মনে হয় এ জীবনের কী দরকার ছিলো? আবার কখনো জীবন ভরে যায় অনাবিল সুখ আনন্দে; তখন মনে হয় জীবন কেন দ্রুত ফুরিয়ে যায়!
একটা সময় জীবনের পুরনো অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যায়। মনে হয় পুরনো দিনগুলিই বুঝি সুন্দর ছিলো। কিন্তু ফাওখাও আলী তেমনটি মনে করেন না। কারণ তার পূর্বের দিনগুলো কখনও ভালো ছিল না। আসলে বাস্তবই সব, কল্পনা নিছক একটা মায়া। কল্পনা যদি সত্যি হতো, মানুষের দুঃখ-কষ্ট কিছুই থাকতো না। তবে কষ্ট যে সবসময় খারাপ লাগে তা নয়। অনেক সময় কষ্ট পেতেও অনেক ভালো লাগে। কার জীবনে কখন কীভাবে কী ঘটবে সেটা একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কেউ বলতে পারে না। সব সময় যোগ্যতা দক্ষতা আর অভিজ্ঞতা দিয়ে জীবনের সব প্রাপ্তি অর্জন হয় না, চেষ্টা করলে মানুষ সব কিছু অর্জন করতে পারে না। তারপরও চেষ্টা করতেই হয়, সব গ্লানিকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যেতে হয় বীরদর্পে। তবেই মিলবে জীবনের সার্থকতা। মুফতি ফাওখাও আলীও সেই প্রত্যাশার প্রহর গুনছেন। কখন মিলবে তার জীবনের স্বার্থকতা।
সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে একদিন জঙ্গল টাইপের একটা জায়গায় ফওখাও আলীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে চলেছে। মসজিদের ভিত্তি স্থাপন হতে চলেছে সেই জঙ্গলের ধারে। কিন্তু এজন্য মুফতি ফাওখাও আলীর গতর দিয়ে কম ঝড় ঝাপটা যায়নি, অনেক খড় পোড়াতে হয়েছে। হরদম মহল্লার সরল শ্রেণির মানুষদেরকে মসজিদ নির্মাণের ফজিলত বর্ণনা করতে হয়েছে। পরকালের আশা ব্যঞ্জক বানীর সমাহার তো আছেই। একটা সময় মনে হয়েছিল তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ব্যর্থ হতে চলেছে, কিন্তু হাল ছাড়েননি। কারণ, নতুন এক স্থানে আস্তানা গাড়া সময় সাপেক্ষ ব্যাপার, হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। তাইতো প্রবল ইচ্ছা আর অদম্য সাহস নিয়ে জোকের মতো লেগেছিলেন সরলমনা মুসুল্লিদের পিছে। অবশেষে কাঙ্খিত মসজিদটি টিন দিয়ে কোন রকমে নির্মাণ হয়ে গেলো।
সময়ের বিবর্তনে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে। টিনসেডের পরিবর্তে গড়ে উঠেছে পাকা মসজিদ ভবন। সেই সাথে জীবনের পালা বদলেছে মুফতি ফাওখাও আলীর। খাবারের সীমাবদ্ধতা, থাকার অপর্যাপ্ততা, আর্থিক দৈন্যতা, পোষাক আষাকের নিম্নতা সবকিছুর মধ্যেই যেন বেশুমার বরকত নেমে আসছে। এ যেন গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমের দাহ সরে গিয়ে আশ্বিনের শেষ নেমে এসেছে। ত্রিশ দিনে ত্রিশ ঘরের খাবার, হরেকরকম হাদিয়া তোহ্ফা, চা-নাস্তাসহ আনুসঙ্গিক কোনো কিছুরই আর কমতি নেই। এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি।
মানুষ নিজের বর্তমান নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। সবাই ভাবে জীবনটা আরও বেশি সুন্দর হতে পারতো। আসলে জীবন খুবই ছোট আর এজন্যই এতোটা গুরুত্বপূর্ণ। এ ছোট্ট জীবনে সবাই চায় সুখী হতে আর উপভোগ্য একটি জীবন কাটাতে, কিন্তু সবাই তা করতে পারে না। দিন সবার জন্যে সমান সময় নিয়েই আসে। একে সুন্দর করা ও নিজে ভালো থাকা অনেকটাই নির্ভর করে নিজের ইচ্ছা এবং কাজের ওপর। এ বিষয়গুলো খুব ভালো বুঝেছিলেন ফাওখাও আলী। তিনিও তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে অসন্তুষ্ট। জীবনকে আরও সুন্দর, গতিশীল ও সহজ করার দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করেন মনে মনে।
মুফতি ফাওখাও আলীর দৃষ্টি এখন শুধু মসজিদের আঙিনা থেকে পাঁশশো গজের ভিতরে সীমাবদ্ধ নয়, দূর বহুদূর! অনেকটা পথ তাকে হাঁটতে হবে। জীবনের চাকা গতিশীল করার জন্যে প্রথমে “মুন্সি” থেকে “মাওলানা” এবং পরে “মুফতি” লকব ধারণ করেছেন। এই লকবগুলো তিনি নিজে নিজেই নির্ধারণ করেছেন। কেননা, উক্ত লকবগুলো ব্যবহার করতে কোন রকমের কাগজপত্রের প্রয়োজন হয় না। যেমনটি প্রয়োজন হয় এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স, মাস্টার্স ইত্যাদি সার্টিফিকেটে।
প্রথমাবস্থায় মসজিদের ইমামতি, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ তাবৎ যিম্মাদারি মুফতি ফাওখাও আলী একাই পালন করতেন। সময়ের ব্যবধানে এখন মুয়াজ্জিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাই ফাওখাও আলী সাহেব বর্তমানে “বড় হুজুর” খেতাব পেয়েছেন। ইদানিং তার আমলের মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। মাগরিবের ফরজ-সুন্নতের পর দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নফল নামাজ আদায় করেন এবং এভাবে ইশার নামাজের কয়েক মিনিট পূর্ব পর্যন্ত চলতে থাকে। তারপর আকাশের দিকে হাত তুলে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন। ইশার নামাজ আদায় করতে আসা মুসুল্লিগণ বড় হুজুরের এ অবস্থা দেখে তার সাথে আকাশের দিকে হাত না উঠিয়ে পারেন না। বড় হুজুরের কান্নার সাথে সুর মিলিয়ে আকাশ বাতাস একাকার করে তোলেন।
জীবনের মানোন্নয়ন, সামাজিক মূল্যায়ন ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করতে এখন সদা তটস্থ মুফতি ফাওখাও আলী।
উন্নতি কোনো হঠাৎ বিষয় নয়। এটি আকস্মিক কোনো বিষয়ও নয়। বরং উন্নতির জন্য লক্ষ্য স্থির করতে হয়, বুদ্ধি খাটাতে হয়। তারপর একটি অর্থবহ পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যেতে হয় উন্নয়নের পথে। সবচেয়ে বড় কথা- উন্নয়ন একটি সামগ্রিক বিষয়ের বাস্তব রূপ। এসব বিষয় মাথায় রেখে তিনি ধীর গতিতে এগিয়ে চলেছেন। পিছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ ও সময় নেই তার হাতে। তার অতীত একটা দু:স্বপ্নের মতো, যেখানে আছে শুধু দু:খ আর কষ্ট। তাই তিনি অতিতকে ভুলে যেতে চান।
ওয়াজে পারদর্শীতা অর্জন, বলন, কথন ও উপস্থাপনা শ্রুতি মধুর করতে বেশ তৎপর হয়ে উঠেছেন। ফিজিক্যালি কোনো বিজনেস করতে রাজি নন তিনি। আর সে কারনে ওয়াজকে তিনি পেশা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আর এতে অর্থনৈতিকভাবে যেমন লাভবান হওয়া যায়, সুনাম সুখ্যাতিও কোন অংশে কম নয়। তার চিন্তা-চেতনা ও মননে ঘুরেফিরে শুধু ওয়ায়েজ (বক্তা) হওয়ার বাসনাই জাগ্রত হয়। যত কিসিমের টেকনিক অবলম্বন করা প্রয়োজন, সবগুলোই তিনি প্রয়োগ করতে থাকেন। যে কোনো বিষয়ে কেউ পরিশ্রম করলে সফল হবেই। আর আল্লাহ পাকের ওয়াদা- যে কোনো বিষয়ে কেউ যদি পরিশ্রম করে, তবে তা সে পাবে। যদি তাই না হতো, তাহলে সকল চোরই ধরা পড়ে যেতো। চোর ধরা পড়েনা এজন্য যে, সে পরিশ্রম করে চুরি বিদ্যা শিখেছে। আর আল্লাহ পাক কারো কর্মফল নষ্ট করেন না।
সফলতা কথাটা আপেক্ষিক। কারও কাছে সফলতা মানে অনেক টাকা, বাড়ী, গাড়ি। আবার কারও কাছে ভালো পারিবারিক বন্ধন মানে সফলতা। আবার কারও কাছে হয়তো অন্য কিছু। সফলতা মানব জীবন উত্তরণের একটি অন্যতম হাতিয়ার। জাগতিক জীবনের নানা স্তরে প্রতিষ্ঠা অর্জন করার জন্য মুফতি ফাওখাও আলী অবিরত সংগ্রাম করে চলেছেন। এই সংগ্রামী চেতনাই তাকে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে অতুলনীয় সাহায্য করবে হয়তো। নিরন্তর প্রচেষ্টার মাধ্যমে সে কিছুটা সফলতা লাভের সুমিষ্ট স্বাদ আস্বাদন করতে চলেছে।
চারিত্রিক মাধুর্য্যতা, মানবিক মূল্যবোধ, আধ্যাত্মিক চেতনা প্রভৃতি বিষয়গুলো সফলতার গন্ডির বাইরে রেখে মুফতি ফাওখাও আলী ধর্মকর্ম করে যাচ্ছেন দেদারছে। পার্থিব জগতের সফলতা চূড়ান্ত সফলতা নয়, বরং পারলৌকিক সফলতাই সর্বাপেক্ষা সফলতা এ চিরসত্য কথাটি বেমালুম ভুলে গেছেন তিনি। নবী করীম (ছাঃ) বলেন,
‘নিশ্চয়ই দুনিয়া চার শ্রেণীর মানুষের জন্য। ১ম শ্রেণীর ব্যক্তি হ’লেন তিনি, আল্লাহ যাকে অর্থ ও জ্ঞান উভয়ই দান করেছেন। সে বিষয়ে তিনি তার রবকে ভয় করেন, তার সম্পদ তিনি তার আত্মীয়-পরিজনদের কাছে পৌঁছে দেন। আর সে ব্যাপারে তিনি আল্লাহর হক সম্পর্কে অবগত। তিনি সর্বোচচ স্তরের অধিকারী। ২য় শ্রেণীর ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ জ্ঞান দান করেছেন, কিন্তু অর্থ দান করেননি, তিনি সঠিক সংকল্পকারী। তিনি মনে মনে বলেন, যদি আমার অর্থ থাকতো তবে আমিও অমুক ব্যক্তির মতো (সৎ) কাজ করতাম। সেটা তার নিয়তের উপর নির্ভর করছে। ফলে তাদের দু’জনের নেকী সমান। ৩য় শ্রেণীর ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ অর্থ দান করেছেন কিন্তু জ্ঞান দান করেননি। সে অজ্ঞতাবশত তার সম্পদ তছনছ করে। সম্পদের ক্ষেত্রে নিজ রবকে ভয় করে না। নিজ সম্পদ নিকটাত্মীয়দের পৌঁছে দেয় না এবং সম্পদে আল্লাহর হক জানে না। সে হচেছ সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট স্তরের অধিকারী। ৪র্থ শ্রেণীর ব্যক্তি, যাকে অর্থ ও জ্ঞান কিছুই দান করা হয়নি, অতঃপর সে বলে, যদি আমাকে অর্থ দান করা হ’ত, তবে আমি অমুক ব্যক্তির ন্যায় কাজ করতাম। বস্ত্তত এটা নির্ভর করছে তার নিয়তের উপর। ফলে তাদের দু’জনের পাপ সমান’।