Dawatul Islam | বড় হুজুর সমাচার- পর্ব-৭ মুফতি ফুলানের তৎপরতা-৪

শনিবার, ২৩, মে, ২০২৬ , ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বড় হুজুর সমাচার- পর্ব-৭ মুফতি ফুলানের তৎপরতা-৪
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৮:০০ মিনিট

পূর্ব প্রকাশিতের পর

মানুষ অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে।  নিজের মনোভাব বা মানবীয় গুণাবলী ধারণ করে একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না।  এ পরিবর্তনের প্রভাব সমাজ, ধর্ম ও রাষ্ট্রকে কিভাবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করছে, বিষয়গুলোও অতি ভাবনার। স্বল্পমেয়াদে মানুষের মধ্যে এ ধরনের মনোভাব গড়ে উঠেনি, বরং দীর্ঘমেয়াদে সমাজের বিভিন্ন স্তরে নেতিবাচক মানবিক ভূমিকা এ ধরনের অবস্থা তৈরি করেছে।  সততা ও নৈতিকতার বিষয়টি উল্লেখ করা যেতে পারে। 

এখন মানুষ আর আগের মতো নেই।  অবৈধ উপার্জন যে একটি মন্দ কাজ, মানুষ তা বুঝে উঠতে পারছে না অথবা সেটি বোঝার মতো শক্তি তার থাকলেও সেটি তার মনকে প্রভাবিত করছে না।  এ ধরনের অসততাকে সে জীবনের অংশ বলে মনে করছে।  আবার এ অসততাকে গ্রহণযোগ্য করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের যুক্তি তুলে ধরছে।  এর দ্বারা যে দীর্ঘমেয়াদে ধর্ম, সমাজ ও রাষ্ট্র নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোভাবকে পরিবর্তন করছে, তা নিয়ে খুব একটা ভাবা হচ্ছে না।

কি করবে আর কি করবেনা, ভেবে অস্থির মুফতি ফুলান গং।  পূর্বের তুলনায় পাবলিক আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।  পূর্বে শহরে কিছু মানুষ ইসলামিক স্কলারদেরদ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল, কিন্তু এখন পাড়া মহল্লার মানুষও ইসলাম নিয়ে ভাবতে শুরুকরেছে।  আর এসব হচ্ছে স্মার্ট ফোনেরসুবাদে।  মনে মনে ফোন কোম্পানী আর ইন্টারনেটেরআবিষ্কারকদের আচ্ছা মতো ধোলাই করলেন মুফতি ফুলান, অভিশাপ দিতেও বাকি রাখেননি।

এবার ফুলান গংদের মিশন শুরু হয়েছে সোস্যাল মিডিয়ারঅপব্যবহার নিয়ে।  তাদের যুক্তি হচ্ছে-যেখানে গুনাহের লেশমাত্র অনুমান করা যাবে, সেখান থেকে অনেক দূরে অবস্থান করতেহবে।  সোস্যাল মিডিয়ায় যেহেতু বেশুমারগুনাহ, তাই এটি ব্যবহার করা যাবে না।  কিন্তু ফুলান গংরা যত এর বিরোধিতা করছে, মানুষকে বুঝাচ্ছে, মানুষ ততই কৌতুহলভরে মিডিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।  অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে- ফুলান গংদের নিষেধ করাটাও এক ধরনের প্রচার-প্রসার।

ইসলামের বাণী ও শিক্ষা সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দেয়ার জন্য ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে। এ যুগে মানুষের কাছে ইসলামের বাণী পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো- সোশ্যাল মিডিয়া। কোটি কোটি মানুষ এর সাথে যুক্ত। এখানে সবশ্রেণির মানুষের অবাধ বিচরণ। মিডিয়ার বিশাল সমুদ্রে নানাবিধ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারলে ইসলাম প্রচার করা জায়েজ।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি তার রাসুলকে হেদায়েত এবং ‘দ্বীনে হক’দিয়ে পাঠিয়েছেন। যাতে তিনি এ দ্বীনকে অন্যসব দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, চাই তা মুশরিকদের কাছে যতই অসহনীয় হোক না কেন।’ -সুরা আস সফ: ৯

কুরআন এই বার্তা দিচ্ছে যে, ইসলামকে অন্য ধর্মের ওপর বিজয়ী করার জন্য হালালপন্থায় সবকিছু ব্যবহার করা জায়েজ। যদিও বিষয়টি কাফেরদের কাছে অপছন্দ হয়, কিন্তু ইসলামকে বিজয়ী করার লক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্বীন প্রচার করার ক্ষেত্রে যাদের বিভিন্ন অপরাধ ও গোনাহে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে; তাদের জন্য জায়েজ নয়। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।’ -সুরা নুর : ৩০

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহে দৃষ্টি অবনত রাখা যায় না। নিজের অজান্তে অনেক সময় ভালোর পরিবর্তে খারাপে জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় করণীয় কি হবে? এ বিষয়ে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, হজরত জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আচমকা নজর পড়া ব্যাপারে প্রশ্ন করলাম। তিনি আমাকে আদেশ করলেন, যেন আমি আমার দৃষ্টি দ্রুত ফিরিয়ে নেই।’ -মুসলিম : ২১৫৯

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো, সোশ্যাল মিডিয়ায় গোনাহে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলে তার জন্য দ্বীন প্রচার করা জায়েজ নয়। কারণ হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘হে আয়েশা! তুমি সামান্য পরিমান গোনাহ থেকেও বেঁচে থাকো, নিশ্চয়ই তা আল্লাহতায়ালা অনুসন্ধান করবেন।’ -ইবনে মাজাহ

সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এখানে মানুষের চোখের গোনাহ বেশি। এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আদম সন্তানের ওপর ব্যভিচারের যে অংশ লিখিত রয়েছে, তা অবশ্যই সে প্রাপ্ত হবে। নিঃসন্দেহে দুই চোখের ব্যভিচার হলো- তাকানো (হারাম দৃষ্টিপাত), দুই কানের ব্যভিচার হলো- শোনা (যৌন উদ্দীপক কথা), জিহ্বার ব্যভিচার হলো- কথোপকথন করা (অশ্লীল), হাতের ব্যভিচার হলো- (অন্যায়ভাবে, অনৈতিকভাবে) শক্ত করে ধরা, পায়ের ব্যভিচার হলো- (পাপ কাজের জন্য) হেঁটে যাওয়া, হৃদয়ের ব্যভিচার হচ্ছে- কামনা-বাসনা করা। আর লজ্জাস্থান তা সত্যায়িত (পাপ কাজ করায়) করে বা মিথ্যা (পাপ থেকে বিরত রাখে) সাব্যস্ত করে।’ -সহিহ মুসলিম : ২৬৫৭।

পোস্ট ট্যাগ:

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইসলাম প্রচার, মিডিয়া আগ্রাসনের কবলে ইসলামও মুসলিম, ইসলামী মিডিয়া প্রতিষ্ঠারগুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা, ইসলামী মিডিয়ার উৎস, ইসলামী মিডিয়ার মূলনীতি ওভিত্তিসমূহ, মিডিয়া ও দাওয়াত, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে ইসলাম, ইসলাম প্রচারে তথ্যপ্রযুক্তি, মিডিয়াযুদ্ধ এবং ইসলামের ভূমিকা, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে ধর্মেরনির্দেশনা, মিডিয়াতে অপপ্রচার ও আমাদেরদায়িত্ব।

সব সংবাদ