fbpx fbpx fbpx
মঙ্গলবার, ০২, জুন, ২০২৬ , ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বড় হুজুর সমাচার- পর্ব-৩

ইদানীং দেশের লোকগুলি অবস্থাপন্ন হয়ে উঠেছে। ব্যবসা বাণিজ্য করছে, বাড়িঘর করছে। কিন্তু খোদার দিকে তাদের নজর কম। মুসল্লীদের নজর আকাশের দিকে যায় না। বড় হুজুর সেদিন সে-কথা স্পষ্ট বুঝেছিল। সঙ্গে সঙ্গে এ-কথাও বুঝেছিল যে, দুনিয়ায় সচ্ছলভাবে দু’বেলা খেয়ে বাঁচবার জন্যে যে-খেলা খেলতে যাচ্ছে সে খেলা সাংঘাতিক। মনে সন্দেহ এবং ভয় উভয়ই ছিল। কিন্তু জমায়েতের অধোবদন চেহারা দেখে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল অন্তর!

বড় হুজুরের আশির্বাদে আশেপাশের অনেকেই দ্বীনি খেদমতে নিয়োজিত। চাই যোগ্যতা থাকুক আর না থাকুক তাতে কিছু যায় আসে না; বড় হুজুরের কাছের লোক বলে কথা। অযোগ্য এবং অদক্ষ জনবলের কারণে দ্বীনি শিক্ষা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তাতে কি! কাছের লোকদের নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠান তো নিজেদের কবজায় রাখতেই হবে, তানা হলে প্রতিষ্ঠানটি বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

তাই বড় হুজুরের আপন ও বিশ্বস্ত লোকগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগদান করে শিক্ষার বারোটা বাজাচ্ছে। কুরআন হাদিসের প্রকৃত শিক্ষা গোল্লায় যাক নিজের আদিপত্য বিস্তার করা এবং টিকিয়ে রাখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এখানে নীতি নৈতিকতার ধার না ধারলেও চলবে।

মাওলানা ছামিন উদ্দিন (আমরা কাঠ) বর্তমানে বড় হুজুরের সুনজরে আছেন। “আমরা কাঠ” নামটির পিছনে ইতিহাস নিহিত আছে। ক্লাসে সকল ছাত্রের মধ্যে একমাত্র ছামিন উদ্দিনই সকব দিতে পারত না। সবাই সবার সবক আদায় করলেও ছামিন সবক দিতে অপারগ। কারণ তার মাথায় কিছু ঢুকে না। তাই হুজুর তার নাম রাখেন “আমরা কাঠ”, যা কোন কাজে আসে না।

তৈল যে কি পদার্থ, তাহা সংস্কৃত কবিরা কতক বুঝিয়াছিলেন। তাঁহাদের মতে তৈলের অপর নাম স্নেহ। বাস্তবিকও স্নেহ ও তৈল একই পদার্থ। আমি তোমায় স্নেহ করি, তুমি আমায় স্নেহ কর অর্থাৎ আমরা পরস্পরকে তৈল দিয়া থাকি । স্নেহ কি? যাহা স্নিগ্ধ বা ঠান্ডা করে , তাহার নাম স্নেহ । তৈলের ন্যায় ঠাণ্ডা করিতে আর কিসে পারে ? মাও. ছামিনের স্ত্রী ও তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে দু’বেলা খেয়ে ধেয়ে দিন গুজার করছে শুধুমাত্র তৈলের দ্বারাই।

অগোছালো কাজ করতে করতে মাওলানা ছামিন উদ্দিন থমকে যায়; কান পেতে শোনে। খোদাতাআলার রহস্যময় দিগন্ত তার অন্তরে যেন বিদ্যুতের মতো থেকে থেকে ঝিলিক দিয়ে ওঠে। একটি অব্যক্ত ভীতিও ঘনিয়ে আসে মনে। সে খোদাকে ভয় পেয়ে মনে মনে বলে- হায়! আমিতো অযোগ্য!

চলবে...

মন্তব্য