বড় হুজুর সমাচার- পর্ব-২

সেদিন এক ছাত্রকে সওয়াল করা হলো “তুমি এই হুজুরকে সালাম দাওনি কেন?” জওয়াবে যা জানা গেল তাতে মাথা খারাপের মতো অবস্থা। ছাত্রটি জানায়- “মূলত: আমি উনার মাদরাসায় পড়িনি, তাই সালাম দেইনি।” অথচ পরস্পর সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ ও সতেজ রাখার জন্য ইসলামের বিধানে সালাম একটি সুন্দর ব্যবস্থা। মুমিন পরস্পর সাক্ষাতের সময় একে অন্যের চেহারার দিকে না তাকালে, একটু মুচকি না হাসলে, কথা না বললে স্বাভাবিকভাবে উভয়ের মনে ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হয়। কিন্তু হাসিমুখে সালাম দিয়ে কথা বললে মহববত ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। আর সেটাই হল ইসলামের কাম্য।
এক ব্যক্তি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল যে, ‘কোন্ ইসলাম উত্তম? (ইসলামের কোন্ কোন্ কাজ উত্তম কাজ?) উত্তরে তিনি বললেন, ‘‘(অভাবীকে) খাদ্যদান করা এবং পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেওয়া।’’
আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না মু’মিন হয়েছ; আর ততক্ষণ পর্যন্ত মু’মিন হতেও পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আপোসে সম্প্রীতি কায়েম করেছ। আমি কি তোমাদেরকে এমন এক কাজের সংবাদ দেব না, যা করলে তোমাদের আপোসে সম্প্রীতি কায়েম হবে? তোমরা আপোসের মধ্যে সালাম প্রচার কর।’’
কিন্তু দেড় হাজার বছর পর এসে সালামকে বিভাজন করা হচ্ছে। চেনা অচেনার মাঝে তফাৎ দাড় করানো হচ্ছে। সালামের প্রচলন মুসলমানের মাঝে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য তৈরি করে। সালামের সূচনা দুনিয়াতে নয়, বরং জান্নাত থেকে হয়েছিল।
কুরআন হাদিসের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সালামসহ ইসলামের রীতিনীতির অবস্থা যদি এমন হয় ,তবে সাধারণ পাবলিকের আচরণ কোথায় গিয়ে ঠেকবে! ভাববার বিষয় বটে। শুধু তাই নয়, মিথ্যাবাদী আলেমদের অনেক নাজায়েজ টেকনিকই পাবলিক ধরে ফেলেছে। তাই পাবলিক বিষয়গুলো জেনে যাওয়ার কারণে আলেমগণের উপর তারা আস্থা রাখতে পারছে না। সত্যবাদী আলেম আর মিথ্যাবাদী আলেমের মধ্যে তমিজ করতে পারছে না, দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে, কাকে বিশ্বাস করতে আর কাকে করবে না।
বিশ্বাস অবিশ্বাসের ধুম্রজালে আটকা পরে তারা দিক বিদিক ছুটছে। এ সুযোগটি ভ্রান্ত মতবাদে বিশ্বাসী লোকগুলো হাতছাড়া করতে নারাজ। কিছু নষ্ট আলেমের চারিত্রিক অধ:পতনের দরুণ বাতেল মতবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এবং জনগণকে তাদের দলে ভিড়িয়ে ঈমান আকিদা ধ্বংসের পায়তারা করছে। যা খুবই দু:খজনক এবং আফসোসের বিষয়।
মন্তব্য