fbpx fbpx fbpx
মঙ্গলবার, ০২, জুন, ২০২৬ , ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বড় হুজুর সমাচার- পর্ব-১

বড় হুজুর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। কারণ যত ফিসিলিটি সব বড় হুজুর নামক “লকব”টাতেই লুকিয়ে আছে। যদি কোন কারণে ছোট হুজুর হতেও হয়, অন্য একটি পারসোনাল প্রতিষ্ঠান খুলে সেখানকার বড় হুজুর হওয়ার সাধটা মিটাতেই হবে। তানা হলে জীবনটা অসার এবং অর্থহীন, এ জীবনের কি মূল্য আছে, যার মধ্যে বড় হুজুর নামটা অনুপস্থিত। তাছাড়া বাড়তি সুবিধার কথা নাইবা বললাম। সব বিষয় তো আর জাহির করা যায় না, তাই না! কারণ সঠিকভাবে কান টানলে মাথাটা এমনিতেই চলে আসে।

কুইল্যা ফায়দা যে কেবলমাত্র বড় হুজুরের ঝুলিতে, এটা কিন্তু বিলকুল ঠিক নয়। কারণ ছোট হুজুরও অনেক সময় বড় হুজুরকে টেক্কা মারে। মেছালান- চিড়িয়াখানার সিংহ। যদি ছোট মিয়া বড় মিয়াকে ঠিকঠাক মতো ব্ল্যাকমেইল করে নিতে পারে, তবে ছোট মিয়ার নিশ্চিত উজ্জ্বল ভবিষ্যতের হাতছানি। পেছনে ফিরে তাকানোর কোনো সুযোগ নেই।

বিষয়টি একটো খোলাসা করে বয়ান করলে এভাবে বলা যেতে পারে যে, পুকুরের পাড়ের গাছগুলো পুকুরের পানির কারণেই বেঁচে থাকে সারা বছর। কিন্তু যখন ওই গাছে কুয়াসার ফোঁটা জমে, তখন গাছটি পুকুরকে ডেকে বলে “এই নে তোকে এক ফোঁটা পানি দিলাম মনে রাখিস কিন্তু!” কি অদ্ভুত ব্যাপার ! সারা বছর যার পানিতে জীবন বাঁচলো, তাকে এক ফোঁটা পানির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়!

বড় হুজুর হওয়ার স্বপ্ন অথবা ছোট হুজুরের পদে থেকেও বড় হুজুরের মাথার উপর ছড়ি ঘোরানো কিংবা বড় হুজুরকে ব্ল্যাকমেইল করা এসব জঘণ্য রুসুম কিভাবে দ্বীনি মারকাযগুলোতে দাখিল হলো? এর প্রবর্তকই বা কারা? এর আদ্যোপান্ত জানা শুধু আবশ্যক নয়, বরং অত্যাবশ্যক। সময়, সুযোগ ও জায়গামত মলম প্রয়োগ করলে বড় হুজুর হওয়ার স্বপ্ন অনেকটাই উবে যাবে।

কারো মাতাহাতে থেকে আদব, আখলাক, তরবিয়াত হাসিল করার রুসুম অনেক আগেই বিদায় নিয়েছে। বড় হুজুর হওয়ার বেরাম যেদিন থেকে সমাজে প্রবেশ করেছে, সেদিন থেকেই ফ্যাৎনার সূচনা।

চলবে...

মন্তব্য