Dawatul Islam | জুমার-জুমুআর দিনের বিশেষ আমলসমূহ

সোমবার, ২৫, মে, ২০২৬ , ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জুমার-জুমুআর দিনের বিশেষ আমলসমূহ
১৯ আগস্ট ২০২২ ১১:৩৫ মিনিট

জুমুআর দিনের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন হাদিসে এসব ফজিলতের কথা তুলে ধরেছেন। বুখারী শরিফে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো পুরুষ যখন জুমার দিন গোসল করে, সাধ্যমত পবিত্রতা অর্জন করে, তেল ব্যবহার করে বা ঘরে যে সুগন্ধি আছে তা ব্যবহার করে, তারপর বের হয় এবং (বসার জন্য) দুই জনকে আলাদা করে না, এরপর সাধ্যমত নামায পড়ে এবং ইমাম যখন কথা বলে তখন চুপ থাকে, তাহলে অন্য জুমা পর্যন্ত তার গুনাহ মাফ করা হয়।

জুমার দিনের বিশেষ আমলঃ

(১) জুমুআর দিন গোসল করা। যাদের ওপর জুমা ফরজ তাদেরকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দিনে গোসল করার তাগিদ দিয়েছেন।

(২) জুমুআর দিন নখ ও চুলকাটা ভালো কাজ।

(৩) সুগন্ধি ব্যবহার করা

(৪) মিসওয়াক করা।

(৫) গায়ে তেল ব্যবহার করা।

(৬) ভালো পোশাক পরিধান করা।

(৭) মুসল্লিদের ইমামের দিকে মুখ করে বসা।

(৮) পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া।

(৯) জুম্মার দিন ও জুম্মার রাতে বেশি বেশি দুরুদ পাঠ।

(১০) এ দিন বেশি বেশি দোয়া করা।

(১১) মুসুল্লীদের ফাঁক করে মসজিদে সামনের দিকে এগিয়ে না যাওয়া।

(১২) জুমার দিন সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করা। পাঠকারীর জন্য আল্লাহ তায়ালা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়কে আলোকিত করে দেন।

জুমুআর দিন সম্পর্কিত হাদীসঃ

হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ সূর্য উদিত হয় এমন সকল দিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হ’ল জুমু’আর দিন। এদিনেই আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এদিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করান হয়। এদিনেই তাঁকে তা থেকে বের করা হয়। আর এই জুমুআর দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। -আবু দাউদ, মুসলিম

জুমু’আর দিনে দু’আ কবুলের সময়ঃ

হযরত আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ জুমাবারের যে মুহূর্তটিতে দু’আ কবূলের আশা করা যায়, তোমার সে মুহূর্তটিকে বাদ আসর সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টিতে তালাশ কর।

- মিশকাত

জুমু’আর দিনে গোসল করাঃ

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমু’আয় উপস্থিত হবে সে যেন গোসল করে নেয়।

-ইবনু মাজাহ, তিরমিজী

জুমু’আর দিনে গোসলের ফযীলতঃ

হযরত আওস ইবনু আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআর দিনে সকাল সকাল গোসল করল, তারপর ইমামের কাছে গিয়ে বসে চুপ করে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনল তার প্রত্যেক কদমের বিনিময়ে এক বছরের সিয়াম ও কিয়ামের (সালাতের) সওয়াব।

সকাল সকাল জুমু’আর নামাযে হাযির হওয়াঃ

হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ কেউ যদি জুমুআর দিন জানাবাতের (ফরয) গোসল করে মসজিদে রওয়ানা হয়ে যায়, তবে সে যেন একটি উট কুরবানী করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় মুহূর্তে গেল, সে যেন একটি গাভী কুরবানী করল। যে ব্যক্তি তৃতীয় মুহূর্তে গেল, সে যেন শিংওয়ালা একটি মেষ কুরবানী করল। যে ব্যক্তি চতুর্থ মুহূর্তে গেল, সে যেন একটি মুরগি কুরবানী (সা’দকা) করল। যে ব্যক্তি পঞ্চম মুহূর্তে গেল, সে যেন একটি ডিম কুরবানী (সা’দকা) করল। পরে ইমাম যখন (সালাতের উদ্দেশ্যে) বের হয়ে পড়েন, তখন ফেরেশতারা সালাতে উপস্থিত হয়ে খুতবা শুনতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

- ইবনু মাজাহ, তিরমিজী

ওযর ব্যতিত জুমু’আর সালাত পরিত্যাগ করাঃ

হযরত আবূল জা’দ আয্-যামরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি অবহেলা করে তিন জুমুআহ পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তার হৃদয় মোহরাঙ্কিত করে দেন।

- ইবনু মাজাহ

জুমু’আর ওয়াক্তঃ

হযরত আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, যখন সূর্য পশ্চিমদিকে হেলে পড়ত, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন।

-বুখারি, আবু দাউদ, তিরমিজী

মুফতি আব্দুল্লাহ আল মুনির

সব সংবাদ