Dawatul Islam | মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও গুইসাপ

বৃহস্পতিবার, ০২, এপ্রিল, ২০২৬ , ১৯ চৈত্র ১৪৩২

মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও গুইসাপ
১৪ আগস্ট ২০২২ ১১:১৯ মিনিট

উমর ইবনে খাত্তাব [রা:] বলেন যে, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীগণের মজলিসে বসা ছিলেন এমন বানু সুলায়মের এক বেদুঈন এসে উপস্থিত হলো। লোকটি একটি গুইসাপ শিকার করে তার আস্তিনে ভরে এসেছিল, যাতে করে নিজের তাবুতে ফিরে সে এটিকে ভুনা করে খেতে পারে। সে যখন লোক সমাবেশ দেখল, তখন বলল, এসব কি? লোকেরা বলল ইনি হচ্ছেন ওই মহান ব্যক্তি, যাকে আল্লাহর নবী বলা হয়ে থাকে।

তখন সে মানুষের সাড়ি ভেদ করে অগ্রসর হয়ে আল্লাহর রাসুলকে লক্ষ্য করে বললো, লাত ও উযযার শপথ! আসমানের নিচে আমার কাছে আপনার চেয়ে অপছন্দনীয় ও ঘৃণিত কোনো মানুষ নেই। আমার সম্প্রদায় যদি আমাকে ত্বরাপ্রিয় আখ্যা না দিত তাহলে অতি দ্রুত আপনার ওপর আক্রমণ করে আপনাকে শেষ করে দিতাম। এবং আপনাকে হত্যা করে শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ, রোমক, পারসিক সকলকে আনন্দিত করতাম। তখন ওমর ইবনুল খাত্তাব বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে অনুমতি দিন আমি তার গরদান উড়িয়ে দেই। তিনি বললেন, হে উমর! তুমি কি জান না যে, সহনশীল ব্যক্তি নবীতুল্য?

তারপর তিনি সেই বেদুইন লোকটির দিকে ফিরে বললেন, তুমি যা বললেন, তা বলতে কিসে তোমাকে প্ররোচিত করল? তুমি তো অসত্য বললে এবং আমার মজলিসে আমাকে সম্মান করলে না। তখন সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে বলল, এরপরও আপনি আমার সাথে কথা বলছেন? লাত ও উযযার শপথ! আমি আপনার প্রতি ঈমান আনব না, যদি না এই গুইসাপ আপনার প্রতি ঈমান আনে। একথা বলে সে তার আস্তিন থেকে গুই সাপটি বের করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে ছুড়ে দিল।

তখন আল্লাহর রাসুল বললেন, হে গুইসাপ! তখন গুইসাপটি তাকে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় উত্তর দিল, যা উপস্থিত সকলেই শুনতে পেল, লাব্বায়ক! হে কিয়ামত দিবসে উপস্থিত সকলের ভূষণ! তিনি বললেন, হে গুইসাপ! তুমি কার ইবাদত কর? সে বলল, যাঁর আরশ আসমানে, আধিপত্য যমীনে এবং কর্তৃত্ব সাগরে, অনুগ্রহ জান্নাতে আর শাস্তি জাহান্নামে। তিনি বললেন, তাহলে বল আমি কে? সে বলল, আপনি বিশ্ব প্রতিপালকের রাসুল এবং নবীগণের সর্বশেষ নবী। আপনাকে যে বিশ্বাস করেছে, সে সফলকাম হয়েছে আর আপনাকে যে অবিশ্বাস করেছে সে ব্যর্থ হয়েছে।

তখন সেই বেদুইন বলে উঠল, আল্লাহর কসম! সত্য পাওয়ার পর আমি বাতেলের অনুসরণ করবো না। আল্লাহর কসম! আমি যখন আপনার কাছ আসলাম, তখন ভূপৃষ্ঠে আপনিই ছিলেন আমার কাছে সর্বাধিক অপছন্দনীয় ব্যক্তি; কিন্তু এখন আপনি আমার কাছে আমার পিতামাতা এমনকি আমার নিজ সত্তার চাইতেও প্রিয়। আমি আপনাকে আমার সর্বস্ব দিয়ে ভালবাসি। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, আর আপনি আল্লাহর রাসুল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমার দ্বারা তোমাকে হেদায়েত করলেন।

এই দ্বীন সাদা বিজয়ী বিজিত নয়। আর নামাজ ছাড়া তা গ্রহণযোগ্য নয়। আর কোরআন ছাড়া নামায গ্রহণযোগ্য নয়। তখন সে বলল, তাহলে আমাকে কোরআন শিখিয়ে দিন। তখন তিনি তাকে সূরা ইখলাস শিখিয়ে দিলেন। সে বলল, আমাকে আরো কিছু শিখান সংক্ষিপ্ত কিংবা বিশদ কোনো প্রকার ছন্দেই আমি এর চাইতে সুন্দর কথা শুনিনি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে বেদুইন! এতো আল্লাহর কালাম, এ কবিতা নয়। তুমি যদি একবার এই সুরাটি পড় তাহলে তুমি যেন এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়লে আর যদি দুই বার পড় তাহলে যেন কুরআনের দুই-তৃতীয়াংশ পড়লে আর যদি তিনবার পড়, তাহলে যেন সম্পূর্ণ কোরআন পাঠকারীর সমান সওয়াব পাবে।

তখন বেদুইন বললো, হ্যা প্রকৃত ইলাহ হলেন আমাদের ইলাহ। যিনি সামান্য গ্রহণ করেন এবং বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ প্রদান করেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি অর্থ-সম্পদ আছে? সে বলল, আমার কওমে আমার মতো অভাবি কেউ নেই।

তিনি সাহাবীগণকে বললেন, তোমরা তাকে দান করো, তখন তারা দান করে পরিতৃপ্ত করে দিলো। রাবি (বর্ণনাকারী) বলেন, এ সময় আব্দুর রহমান ইবনে আউফ দাঁড়িয়ে বললেন, হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার কাছে তাকে দেয়ার মত একটি দশ মাসের গর্ভবতী উৎকৃষ্ট জাতের উটনী রয়েছে। যে খোরাসানী দীর্ঘ গর্দান বিশিষ্ট উটের চাইতেও কম, কিন্তু কোনো অ-ভারবাহী উটের চাইতেও বেশি গতিসম্পন্ন।

সে সকল উটের নাগাল পায়, কিন্তু কোন উটই তার নাগাল পায় না। তাবুক যুদ্ধের দিন আপনি আমাকে এটি দিয়েছিলেন। বেদুঈন লোকটিকে তা দান করে আমি কি আল্লাহর নৈকট্য লাভ করব? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি তো তোমার উটনীর বর্ণনা দিলে।

তাহলে এবার আমি বলব এর বিনিময়ে কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে তোমার জন্য কি রয়েছে? তিনি বললেন জি হাঁ বলুন। তিনি বলতে লাগলেন, তোমার জন্য থাকবে স্বচ্ছ মোতির উটনী, তার পাসমুহ হবে সবুজ পান্নার, আর গ্রীবাদেশ হবে পান্নার, তার ওপর থাকবে হাওদা। হাওদার উপর বিছানো থাকবে পুরু ও কোমল রেশমী কাপড়ের গদি। বিদ্যুৎবেগে যা তোমাকে নিয়ে পুলসিরাত অতিক্রম করবে। তার কারণে কেয়ামতের দিন যেই তোমাকে দেখবে সেই তোমার প্রতি ঈর্ষাবোধ করবে।

সব সংবাদ